ঢাকা, শনিবার,১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

সিলেট

শখের বশে খামার করে আশিক কোটিপতি

এমদাদুর রহমান মিলাদ বিশ্বনাথ (সিলেট)

৩০ নভেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৭:০৬


প্রিন্ট
শখের বশে খামার করে আশিক কোটিপতি

শখের বশে খামার করে আশিক কোটিপতি

পরিবারের দুধের চাহিদা মেটাতে ২০১১ সালে ফিজিয়ান জাতের একটি গাভী পালন থেকেই তার পথচলা শুরু। পরে শখের বশে কিনতে থাকেন আরো গাভী। এভাবেই বাড়তে থাকে গাভীর সংখ্যা। বর্তমানে তার খামারে ৩০টি গাভী, ১০টি ষাঁড় ও সমপরিমাণ বাছুর রয়েছে। ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগে শুরু করা খামারের বর্তমান সম্পদ প্রায় ২ কোটি টাকা। বছরে আয় প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। গল্পটি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দেওকলস কজাকাবাদ গ্রামের আশিক মিয়ার। তার এমন সাফল্য দেখে গরু পালনে উৎসাহী হয়ে উঠছেন উপজেলার বেকার তরুণরাও।

আশিক মিয়ার খামার পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির পাশের ফাঁকা জায়গায় নির্মিত একটি শেডে রাখা হয়েছে একাধিক গাভী ও বাছুর। আরেকটি শেডে রয়েছে ষাঁড়। ঘরের পরিচ্ছন্নতায় ব্যস্ত কর্মচারীদের সার্বণিক তত্ত্বাবধান করছেন আশিক মিয়া। খাবার খাওয়াচ্ছেন গাভী ও বাছুরকে। আরেক দল কর্মচারী ব্যস্ত স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে গাভীর দুধ দোহনে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে আশিক মিয়া জানালেন তার সাফল্যের কথা। শখের বশে একটি গাভী থেকে কিভাবে পুরোদমে ডেইরি ফার্ম গড়ে তুললেন, সবিস্তারে বর্ণনা করলেন তাও।

আশিক মিয়া জানান, ২০১১ সালের প্রথম দিকে পরিবারের দুধের চাহিদা মেটাতে নিতান্ত শখে ৫০ হাজার টাকা একটি ফিজিয়ান জাতের গাভী কেনেন তিনি। এ গাভী থেকে যে পরিমাণ দুধ পেতেন, তাতে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত দুধ বিক্রিও করতেন। তিনি জানান, উন্নত জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে দুধ বিক্রি করে বাড়তি আয় হবেÑ এমন চিন্তা থেকে কিছুদিন পর তিনি আরো দুইটি গাভী কেনেন। এ ছাড়া বংশ বিস্তারের মাধ্যমে বাড়তে থাকে গাভী। তখনই আলাদাভাবে ছোট পরিসরে খামার করার পরিকল্পনা নেন।

ওই খামারই বর্তমানে বাণিজ্যিক খামারে রূপ নিয়েছে বলে জানান তিনি। তার খামারে বর্তমানে কর্মসংস্থান হয়েছে ছয়জনের। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে গড়া তার খামারে বর্তমানে ৩০টি গাভী, ১০টি ষাঁড় এবং সমপরিমাণ বাছুর রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিন প্রায় ২৭৫ লিটার দুধ বিক্রি করেন তিনি। দুধ দোহনে তার ফার্মে ব্যবহার করছেন স্বয়ংক্রিয় মেশিন।
বিশ্বনাথ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, আশিক মিয়ার খামার যুবসমাজের জন্য আদর্শ হতে পারে। খামার ব্যবস্থাপনায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করায় তিনি সফলতার মুখ দেখছেন। আশিক মিয়ার সফলতা অনুপ্রাণিত করছে বেকার যুবকদের। তারাও গ্রামীণ জনপদে খামার গড়ে তোলার জন্য পরামর্শ নিচ্ছেন।

বাসস

কুমিল্লায় আমনের বাম্পার ফলন
জেলায় এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানায় এবার জেলার ১৬টি উপজেলায় আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৭ হাজার ২২২ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩০০ হেক্টর বেশি জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২ লাখ ৯০ হাজার ১৯৮ মেট্টিক টন।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জানান কৃষকরা ধানের জমিতে অতিরিক্ত পার্সিং করায় কম খরচে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকরা পার্সিং পদ্ধতি অনুসরণ করায় পোকামাকড় দমনে কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয়নি। তিনি জানান এতে কৃষকের টাকা যেমন সাশ্রয় হয়েছে তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

জানা যায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও সহায়তায় কৃষকদের মাঝে আলোক ফাঁদ, পার্সিং, লাইনিংসহ বিজ্ঞান সম্মত পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি অনুসরণে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার আমন ধান চাষের জন্য ৭১৫৫ হেক্টর জমিতে আমন বীজ তলা করা হয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫