আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভোজ্যতেল নিয়ে গাড়ি প্রবেশ করছে ভারতের ত্রিপুরায়।
আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভোজ্যতেল নিয়ে গাড়ি প্রবেশ করছে ভারতের ত্রিপুরায়।

ট্রানজিটের আওতায় প্রথম চালানে ভারত গেল ২৭ টন ভোজ্যতেল

শনিবার যাবে দ্বিতীয় চালান, মেট্রিকটন প্রতি মাশুল মাত্র ১৯২ টাকা
নুরুন্নবী ভুইয়া, আখাউড়া (ব্রাক্ষণবাড়িয়া) থেকে

ট্রানজিটের আওতায় আজ বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভোজ্যতেল গেল ভারতের ত্রিপুরায়। প্রথম চালানে দুইটি গাড়িতে সরাসরি ২৭.৫৭৬ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে। প্রতি মেট্রিক টন ভোজ্যতেল থেকে মাশুল আদায় হয়েছে মাত্র ১৯২ টাকা।

আখাউড়া স্থলবন্দর কাস্টমস জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ আন্তর্জাতিক নৌবন্দর থেকে সড়ক পথে দুইটি গাড়িতে করে ট্রানজিট পণ্য ভোজ্যতেল আসে আখাউড়া স্থলবন্দরে। প্রয়োজনীয় কার ছাড়পত্র নিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে গাড়ি দুইটি সরাসরি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে চলে যায়। নির্ধারিত মাশুল আদায় হয় আশুগঞ্জ নৌবন্দরে।

ভোজ্যতেল পরিবহনের দায়িত্বে থাকা মেসার্স আদনান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোজ্যতেলের প্রথম চালানে ৯ কেজি ওজনের ১৩৩৯টি কার্টন ও ১৫ কেজি ওজনের ১০৩৫টি টিন ভর্তি দুইটি ট্রাকে করে মোট ২৭.৫৭৬ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল গেছে ভারতে। আগামী শনিবার ভোজ্যতেলের দ্বিতীয় চালান যাবে ভারতে। পরে পর্যায়ক্রমে সব চালান চলে যাবে।

আখাউড়া কাস্টমস সুপার এস.কে বিশ্বাস জানায়, এই প্রথম ট্রানজিটের মাধ্যমে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভোজ্যতেল গেল ভারতে। আখাউড়া স্থলবন্দর কাস্টমস অফিস থেকে কার ছাড়পত্র নেয়ার পর ভোজ্যতেলবাহী দুইটি গাড়ি সরাসরি চলে যায় ভারতের অভ্যন্তরে। আশুগঞ্জ নৌবন্দরে মাশুল আদায় হওয়ায় খুব সহজেই কারপাস নিয়ে ট্রানজিট পণ্য চলে যায় ভারতে।

সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ট্রানজিটের আওতায় ইমাম গ্রুপ কোলকাতার খিদিরপুর থেকে ২২০.৫৬৮ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল নিয়ে ভারতের উইন্সশিপ সিপিংয়ের এমবি শান্তিপুরী ডব্লিউডি-১৫৫৭ নামে একটি জাহাজ গত সোমবার ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ আন্তর্জাতিক নৌবন্দরে নোঙর করে। বুধবার শুরু হয় এই পণ্যের লোড-আনলোড। ২২০.৫৬৮ মেট্রিক টন ভোজ্যতেলের মধ্যে প্রথম চালানে বৃহস্পতিবার গেল আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ২৭.৫৭৬ মেট্রিক টন। শুল্ক কর, সড়ক ও নৌবন্দর ব্যবহার খ্যাতে প্রতি মেট্রিক টন ভোজ্যতেল থেকে মাত্র ১৯২.২২ টাকা পেয়েছে বাংলাদেশ।

খরব নিয়ে জানা গেছে, ট্রানজিটের আওতায় আগামী ডিসেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো টাটা লবণের একটি জাহাজ আসবে আশুগঞ্জে। লবণ থেকেও এই নিয়মে মাশুল আদায় হবে।

১৯৭২ সালে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিতে ট্রানজিটের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। এরপর ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় ট্রানজিটের বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। তবে ফি নির্ধারণ, অবকাঠামো দুর্বলতাসহ নানা সমালোচনার কারণে ট্রানজিট নিয়ে কেউ আর এগোয়নি। পরে ২০১৫ সালের জুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে এলে এই চুক্তি সংশোধন করে বাংলাদেশ। এরপর মাশুল নির্ধারণের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.