ঢাকা, শনিবার,১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

অর্থনীতি

ফারমার্স ব্যাংকের সঙ্কট মেটাতে ৩ মাসের আলটিমেটাম

আশরাফুল ইসলাম

৩০ নভেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৩:৫৪ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৪:২২


প্রিন্ট
ফারমার্স ব্যাংকের সঙ্কট মেটাতে ৩ মাসের আলটিমেটাম

ফারমার্স ব্যাংকের সঙ্কট মেটাতে ৩ মাসের আলটিমেটাম

অনিয়মের ভারে জর্জরিত তীব্র আর্থিক সঙ্কটে পড়া নতুন প্রজন্মের ফারমার্স ব্যাংকের পুনর্গঠিত পুরো পর্ষদকে তলব করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল চেয়ারম্যানসহ পর্ষদের অন্য সদস্যরাও বাংলাদেশ ব্যাংকে আসেন। এ সময় চলমান আর্থিক সঙ্কট কাটাতে পর্ষদকে তিন মাসের আলটিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তিন মাসের মধ্যে পরিস্থিতি উন্নতি না হলে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গত সোমবার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের চাপে সমস্যাকবলিত ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাদের পদত্যাগের পর নতুন চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। একই সাথে নির্বাহী কমিটি, অডিট কমিটি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটিও পুনর্গঠিত হয়েছে। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পুনর্গঠিত পর্ষদ ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা উন্নয়নে সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণের নিশ্চয়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে।

এরই অংশ হিসেবে গতকাল পুনর্গঠিত পর্ষদের সদস্যদেরকে বাংলাদেশ ব্যাংকে তলব করা হয়। গতকাল বিকেলে ফারমার্স ব্যাংকের পুনর্গঠিত পর্ষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাসুদসহ সব পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলাদেশ ব্যাংকে আসেন। তাদের নিয়ে বৈঠক করেন গভর্নর ফজলে কবির। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা: রাজী হাসান, এস কে সুর চৌধুরী, এস এম মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পর ব্যাংকটির পরিচালক মোহাম্মদ আতাহার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে ব্যাংকটির সুনাম ফেরাতে হবে। বিদ্যমান তারল্য সঙ্কট কাটাতে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে পরিচালকদের অর্থের জোগান দিতে হবে। পরিচালকেরা কিভাবে অর্থ আনবেন সেটি দেখার বিষয় নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনে সব ধরনের সহায়তা দেবে বলেও তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। বন্ড ইস্যু করে এক হাজার কোটি টাকা তুলে নেয়ার যে প্রস্তাব ব্যাংকটি করেছে, তাও প্রয়োজনে অনুমোদন দেয়া হবে।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, ফারমার্স ব্যাংকের পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে আপাতত কোনো ব্যবস্থা যাতে না নেয়া হয় সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবদার করেছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালককে সতর্ক করা হয়েছে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে। তারল্য সঙ্কট কাটাতে আমানত সংগ্রহ বাড়ানোর দিকেও মনোযোগ দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া যেসব ঋণখেলাপি হয়ে গেছে তা আদায়ে মাঠে নামতে পর্ষদকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটিতে সঙ্কটের এ মুহূর্তে যতটা ব্যয় কমিয়ে চলা যায় সেটি করতে বলা হয়েছে।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভংকর সাহা সাংবাদিকদের বলেন, আমরা নতুন পর্ষদকে বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছি। ব্যাংকটি যাতে সঠিকভাবে চলে সে জন্য বিভিন্ন নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সার্বিকভাবে আর্থিক সূচক যাতে ভালো হয় সেটি জানিয়ে দেয়া হয়েছে নতুন পর্ষদকে। ঋণ আদায়ে মনোযোগ দিতে বলা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট কোনো সময় দেয়া হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সময় তো কিছু দিতে হয়। তবে কত সময় দেয়া হয়েছে তা জানি না।

উল্লেখ্য, কার্যক্রম শুরু করার মাত্র চার বছরের মাথায় ডুবতে বসছে নতুন প্রজন্মের দি ফারমার্স ব্যাংক। এরই মধ্যে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়ায় ওই ঋণ আর আদায় হচ্ছে না। আমানত সংগ্রহেও সাড়া পাচ্ছে না ব্যাংকটি। ফলে তীব্র তারল্য সঙ্কটে পড়েছে নতুন প্রজন্মের এ ব্যাংকটি। এক বছর ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে নগদ জমা (সিআরআর) রাখতে পারছে না এই ব্যাংক।

ক্রমেই সিআরআর ঘাটতিতে ইতোমধ্যে ব্যাংকটির সাড়ে ১৮ কোটি টাকার জরিমানা করা হয়েছে; যার সাত কোটি ১৮ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। এসব কারণে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে এম শামীমকে কেন অপসারণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারা অনুযায়ী গত রোববার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ফারমার্স ব্যাংকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। চিঠিতে সাত দিনের মধ্যে এমডিকে কেন অপসারণ করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫