ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

আইন ও বিচার

ডেসটিনির এমডি ও চেয়ারম্যানের জামিন সংশোধন আবেদন খারিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ নভেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৩:৩৮


প্রিন্ট

ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিন ও ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনের জামিনের আদেশ সংশোধন চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
ফলে দুই শীর্ষ কর্তা রফিকুল আমীন ও মোহাম্মদ হোসেনকে জামিনে মুক্তি পেতে হলে আপিল বিভাগের ওই শর্তই পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এর আইনজীব খুরশীদ আলম খান।
অজ বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। ডেসটিনির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ, আজমালুল হোসেন কিউসি প্রমুখ।
দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের জামিনাদেশ স্থগিত করেন। পরবর্তীতে আপিল বিভাগ শর্ত সাপেক্ষে জামিন দেন। কিন্তু সেই শর্ত সংশোধন চেয়ে তারা আবেদন করেছিলেন। যেটি আজ খারিজ করা হয়েছে।
ডেসটিনির দুই শীর্ষ কর্তার অন্যতম আইনজীবী এম মাইনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, জামিনের শর্তবিষয়ক আদেশ সংশোধন চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। মক্কেলের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
২০১২ সালের ৩১ জুলাই রফিকুল আমিন ও মোহাম্মদ হোসেনসহ ডেসটিনি গ্রুপের ২২ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর কলাবাগান থানায় দুটি মামলা করে দুদক।
ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেশন (এমএলএম) ও ট্রি-প্ল্যানটেশন প্রকল্পের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের মধ্যে ৩ হাজার ২৮৫ কোটি ২৫ লাখ ৮৮ হাজার ৫২৪ টাকা আত্মসাৎ করে পাচারের অভিযোগে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দুটি করা হয়। বর্তমানে এ মামলায় দুজনই কারাগারে রয়েছেন।
গত বছরের ২০ জুলাই শর্তসাপেক্ষে রফিকুল আমিন ও মোহাম্মদ হোসাইনকে জামিন দেন হাইকোর্ট। পরে দুদকের আবেদনে তা স্থগিত করে দেন আপিল বিভাগ। এ আবেদনের শুনানির এক পর্যায়ে আত্মসাৎ করা টাকা জমা দেওয়ার কথা বলেন সর্বোচ্চ আদালত।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর ডেসনিটির পক্ষ থেকে গাছ বিক্রি করে টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়। ওইদিন হলফনামা দিয়ে আদালতকে জানানো হয় যে, তাদের কাছে ৩৫ লাখ গাছ আছে। প্রতিটি গাছ আট হাজার টাকায় বিক্রি করে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা দিতে পারবেন তারা।
এর পরিপ্রেক্ষিতে জামিনের শর্ত পূরণে আপিল বিভাগ দুই আসামি যে কারাগারে আছেন, সেখানে তাদের সঙ্গে গাছ বিক্রির সকল কাগজপত্রে স্বাক্ষর ও আলোচনার সুযোগ দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
ডেসটিনি ট্রি-প্ল্যান্টেশনের সিইও ড. শামসুল হক ভূঁইয়া এমপির তত্ত্বাবধানে সব কাজ সম্পন্ন হবে। যদি গাছ বিক্রি করে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা দিতে না পারেন, তাহলে নগদ ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দেবেন তারা। এর অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানকে পাঠাতে হবে। এরপর যারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, যাচাই করে তাদের কাছে টাকা হস্তান্তরের পর জামিনে মুক্তি পাবেন দুই কর্মকর্তা। কিন্তু কয়েক মাস পরে তারা এ আদেশের সংশোধন চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনে কারাগারে থাকায় এই শর্ত পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করেন তারা।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫