ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

চট্টলা সংবাদ

বাড়িওয়ালাদের লাগাম টানতে চসিকের ভূমিকা চান নাগরিকেরা

বর্ধিত গৃহকর স্থগিত হলেও ভাড়াটিয়াদের ওপর ৩-৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধির খড়গ

নূরুল মোস্তফা কাজী চট্টগ্রাম ব্যুরো

৩০ নভেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহকর ইস্যুতে সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করার পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামে আন্দোলনের উত্তাপ নিশ্চিতভাবেই কিছুটা কমবে। কিন্তু নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বর্ধিত গৃহকরের ইস্যুতে বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়াদের ওপর বর্ধিত ভাড়ার যে নোটিশ ধরিয়ে দিয়েছেন তার কী হবে? বর্ধিত বাড়িভাড়া থেকে ভাড়াটিয়ারা নিষ্কৃতি পাবেন কি না সে প্রশ্ন এখন নগরীর অলিগলিতে। আবার কেউ কেউ বলছেন, বর্ধিত বাড়িভাড়ার নোটিশ প্রত্যাহারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কোনো ভূমিকা রাখবে কি না?

গত সোমবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গৃহকর নির্ধারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সম্প্রতি যে অ্যাসেসমেন্ট (ভবনের মূল্যায়ন) করেছে তা স্থগিত করা হয়েছে। অর্থাৎ বর্গফুটের পরিবর্তে ভাড়ার ভিত্তিতে মূল্যায়নের মাধ্যমে যে কর প্রস্তাব করেছিল চসিক তা আদায় করতে পারবে না। ফলে এখন থেকে আগের মতো (বর্গফুটের ভিত্তিতে ধার্যকৃত) গৃহকর পরিশোধ করবেন ভবন মালিকেরা।
সাধারণ নাগরিকদের ঘোর আপত্তি, বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে চলমান আন্দোলন এবং বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও সমালোচনা হওয়ায় গৃহকর নির্ধারণে চলমান অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম স্থগিতের এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীতে সিটি করপোরেশনের নতুন কর পুনর্মূল্যায়নকে কেন্দ্র করে একদিকে বর্ধিত গৃহকর প্রত্যাহারে আন্দোলন চললেও বাড়িওয়ালারা বর্ধিত গৃহকরের খড়গ ভাড়াটিয়াদের ওপর চাপিয়ে দিতে কুণ্ঠা বোধ করেননি। এরই মধ্যে কর্মসুবাদে বা প্রয়োজনের তাগিদে শহরে বসবাসকারী ভাড়াটিয়াদের হাতে বাড়িওয়ালারা তিন-পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ইউনিটপ্রতি বাসাভাড়া বৃদ্ধির নোটিশ ধরিয়ে দিয়েছেন।
নগরীর কাপাসগোলা এলাকার বাসিন্দা আবু ইমতিনান নয়া দিগন্তকে জানান, এত দিন বছরে ৫০০ টাকা বাসাভাড়া বৃদ্ধি করে আসছিল বাড়িওয়ালা। কিন্তু এ বছর হঠাৎ করেই ৩ হাজার টাকা বাসাভাড়া বৃদ্ধির নোটিশ ধরিয়ে দিয়েছেন। যা দেখে রীতিমতো তিনি হতবাক ও দুশ্চিন্তায়।
জামাল এলাকার এক স্কুলশিক্ষিকা ৫ হাজার টাকা বাসাভাড়া বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন। বাসাভাড়া বৃদ্ধির এই খড়ক কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। নগরজুড়েই বাড়িওয়ালারা নতুন কর মূল্যায়নে যে পরিমাণ কর বেড়েছিল এর কয়েকগুণ ভাড়াটিয়াদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন।
কিন্তু সরকারি এই সিদ্ধান্ত আসার পর ভাড়াটিয়ারা এমন কোনো স্থান থেকে আশ্বাসবাণী পাচ্ছেন না যে বর্ধিত বাসাভাড়ার নোটিশ প্রত্যাহারে বাড়িওয়ালাদের বাধ্য করা হবে। এ নিয়ে দুঃশ্চিন্তা ভর করেছে তাদের মাঝে। ভাড়াটিয়ারা যেন অসহায়। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে যেন কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। অভিযোগ রয়েছে, ভাড়ার ভিত্তিতে মূল্যায়ন হলেও বেশির ভাগ বাড়িওয়ালাই করপোরেশনের কাছে ভাড়া হতে যে আয় প্রদর্শন করেছেন তা প্রকৃত আয়ের অর্ধেক বা তার কাছাকাছি। কিন্তু বাসাভাড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রে করপোরেশন কর্তৃক যে পরিমাণ কর বৃদ্ধির কথা ছিল তার কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছেন। বাসাভাড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ চান নগরবাসী। এক্ষেত্রে চসিকের কর পুনঃমূল্যায়ন বাসাভাড়া বৃদ্ধির আগুনে ঘি ঢালার ভূমিকা পালন করেছে। সেই আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে চসিক ভূমিকা নেবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সচেতন নাগরিকরা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫