ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

দেশ মহাদেশ

আমেরিকার অবসাদগ্রস্ত শিশুকিশোর

আলমগীর কবির

৩০ নভেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০১


প্রিন্ট

ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদের কথা আমরা আজকাল অনেক লোকের মুখে শুনে থাকি। অনেকেই হয়তো কম-বেশি এ অবস্থার মধ্যে দিয়ে গেছেন। কেউ কেউ প্রায় সময়ই বলে থাকেন মন ভালো নেই। সেটা কি ডিপ্রেশন না অন্য কিছু। যেমন মনে আনন্দ নেই সেটা যে কারণেই হোক না কেন। তবে এ বিষয়টা যদি শিশুদের মধ্যেও দেখা যায় তবে উদ্বেগ বাড়ে আরো অনেক বেশি করে। এর এ দৃশ্য বিশ্বব্যাপী প্রায় একইরকম। সম্প্রতি এ বিষয়ে মার্কিন একটি গবেষণা রিপোর্টের শুরুটা করা হয়েছিল একটি স্কুল ছুটির বর্ণনা দিয়ে। যেখানে বলা হয়, লস অ্যাঞ্জেলেস ডাউনটাউনের স্কুল ছুটির একটি দৃশ্য, ছাত্র-ছাত্রীদের সবারই হাতে স্মার্টফোন, মাথা নিচু করে ফোনের পর্দার দিকে তাকিয়ে পড়াশোনা করছে তারা। কিছু ছাত্র ‘ইউটিউব’র ভিডিও দেখে হাসছে ও কিছু ছাত্রী অপেক্ষা করছে বাড়ি যাওয়ার। কারণ ‘কার্দাশিয়ান’ বোনদের ‘ইন্সটাগ্রাম’ অনুসরণ করে তারা।
২০০৭ সালে যখন ‘অ্যাপেল’ প্রথমবারের মতো ‘আইফোন’ ছাড়ে তখন থেকে এমন দৃশ্যবালি উত্তর আমেরিকায় সবখানে স্বাভাবিক হয়ে গেছে।
পিউ রিসার্চ সেন্টার থেকে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী গবেষণা রিপোর্টে দেখা গেছে, তিন চতুর্থাংশ কিশোরদের কাছে ‘স্মার্টফোন আছে। ‘ফেসবুুক’ কার্যনির্বাহী কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গড়ে ১৬০ বার সহস্রাধিক মানুষ তাদের ফোন ব্যবহার করে। গত কয়েক দশকে প্রায় বিপুলসংখ্যক আমেরিকান কিশোর-কিশোরীকে আত্মহত্যার চেষ্টা করার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিছু কিশোররা কোনো প্রকার সাহায্য পায়নি এমন অসহায় মুহূর্তে। ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-যুবাদের আত্মহত্যার হার ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে বেড়েছে। যেখানে ৩১ শতাংশ ছেলে এবং তার থেকে দ্বিগুণ পরিমাণ মেয়েরা আত্মহত্যা করেছে। মনোবিজ্ঞানীরা কঠোর চেষ্টা করেন এ বিপুলসংখ্যক মানুষের আত্মহত্যার কারণ উদ্ধার করতে। তারা বুঝতে পারছিলেন না- এ হার বৃদ্ধি শুধু ‘সামাজিক মাধ্যম’ এর প্রসারের কারণে হয়েছিল বা অন্য কোনো মানসিক ব্যাপার এ আত্মহত্যার কারণ কি না।
কলম্বিয়া হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার সময় এই শিশুদের জন্ম, যার বড় হয়েছে ৯/১১ এর ধ্বংসযজ্ঞ দেখে।
পৃথিবীর জঘন্য ও ন্যক্কারজনক ঘটনার সাক্ষী রূপে তারা বেড়ে ওঠে। ফলে শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং শিশু অসুস্থ পরিবেশে তার মূল্যবোধ হারায় বলে মত প্রকাশ করেছেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজিক্যাল সার্ভিসের কাউন্সিলিং বিভাগের কার্যনির্বাহী পরিচালক নিকোল গ্রিন।
নতুন এবং বড় একটি গবেষণায় দেখা যায় কিশোর-কিশোরীদের বিষাদের নানা কারণ : তারা দিনের বেশির ভাগ সময় ফোনের দিকে তাকিয়ে সময় ব্যয় করে। এটি বিষণœতার একটি বড় কারণ। সাধারণত মেয়েদের ক্ষেত্রে এ প্রভাব বেশি পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন সান ডিয়াগো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলোজির অধ্যাপক জেন টুয়েঙ্গ।
পাঁচ লাখ আমেরিকান কিশোর-কিশোরীদের ওপর গবেষণা করে দেখা যায়, বয়ঃসন্ধি কালে যেসব কিশোর স্মার্টফোনে স্ন্যাপচ্যাট, ফেসবুক বা ইন্সট্রাগ্রাম ব্যবহার করে, সেসব কিশোররা প্রায়ই তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশায় ভোগে এবং ভাবে তারা সঠিকভাবে কিছুই করতে পারবে না, কিন্তু যারা এই সব সামাজিক মাধ্যম কম ব্যবহার করে কিন্তু খেলাধুলা বা বন্ধুদের সাথে মেলামেশা করে তারা কম বিষাদগ্রস্ত বা দুশ্চিন্তা গ্রস্ত হয়। গবেষণায় উঠে আসা এই বিষগুলো উদ্বেগের।
কিছু ক্ষেত্রে মানসিকভাবে বাধাগ্রস্ত শিশুদের সামাজিক মাধ্যম উৎসাহিত করতে পারে নতুন চিন্তা করতে ও সুস্থভাবে বাঁচতে। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে এ গবেষণার ফল এ রূপ, যেসব প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি এক সপ্তাহের জন্য ফেসবুক ব্যবহার করা ছেড়ে দিয়েছেন তারা কম উদ্বিগ্নতায় ভোগেন সেসব মানুষ হতে যারা ফেসবুক বিরতিহীনভাবে ব্যবহার করেছে (২০১৬- এর গবেষণা)।
সব গবেষণায় এ সামাজিক মাধ্যমের দোষ তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু এসব গবেষণায় এটাও ব্যাখ্যা করা হয়, যদি এসব সামাজিক মাধ্যমকে সুখী হওয়ার জন্য ব্যবহার করতে হয়, তবে ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সরাসরি যোগাযোগের ওপর জোড় দিতে হবে, শুধু চটকদার ছবি বা ভ্রমণের ছবিতে ব্যক্তির মানসিক চিন্তার বিস্তার ঘটে না। সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটায় অন এবং অফ লাইনে। তাই এখানে খুব সহজেই অন্যকে রোমাঞ্চিত করতে পারা যায়। আর তাই সামাজিক মাধ্যম এবং বয়ঃসন্ধিক্ষণের কিশোরদের মনোবিকাশে সবার সচেতনতাই পারে এ বিপুলসংখ্যক কিশোরদের সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দিতে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫