ঢাকা, শনিবার,১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

থেরাপি

সফল ভাইভার একগাদা ফ্রি টিপস

এস আর শানু খান

৩০ নভেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ০০:০১


প্রিন্ট

চাকরিকে আগেরকার দিনে সোনার হরিণের সাথে তুলনা করলেও যুগের সাথে তাল রেখে সময়ের পরিক্রমায় চাকরি সোনার হরিণ থেকে এখন আকাশের চাঁদে রূপ নিয়েছে। আকাশের চাঁদের মতোই দুর্লভ হয়ে পড়েছে। চাকরি পেতে হলে ভাইভায় সফলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আসুন দেখি ভাইভায় কিভাবে সফল হওয়া যায়।
কথাতেই মাতিয়ে দেয়া
যোগ্যতা থাকুক বা না থাকুক সেটা কোনো বিষয় না। এমনভাবে কথাবার্তা বলতে হবে যেন যোগ্যতা বিচার-বিশ্লেষণ করার সুযোগই না পান। আগামী ১০-১২ বছরের অগ্রীম হাসি ভাইভার ওই স্বল্পসময়ে ব্যয় করে ফেলুন। হাসি যেন মুখের থেকে না ফুরায় এমনভাবে কথা বলুন যে থুরথুরির বদলে মুখ দিয়ে মধু ছোটে। ভাইভা বোর্ডে পুরুষ থাক বা মহিলা থাক আপনি মুচকি মুচকি হাসতেই থাকুন। এমন সব গল্প শুরু করুন যেন তিনারা আপনাকে কোনো প্রশ্ন করতেই ভুলে যান।
চাই স্মার্টনেস
পুরা পৃথিবীটাই হলো সুন্দরের পূজারি। ভাইভায় যাওয়ার আগে বিউটি পার্লার ঘুরে আসুন। গরমের তীব্রতা বেশি হলে মেক-আপ ক্ষুণœ হতে পারে এমনটা সম্ভাবনা থাকলে বিউটিশিয়ান সাথে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যান। আপনার ডাক পড়ার খানিক আগেই মেকআপ শুরু করুন। জুতায় মাটি-কাদা লাগতে পারে এটা তিনাদের চোখেও পড়তে পারে সেজন্য আপনি জুতা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকুন। ভাইভা রুমে ঢুকার আগে পায়ে জুতা ঢুকিয়ে নিন।
রুমে প্রবেশ
রুমে প্রবেশ করার সময় একটা জিনিসে খুব সতর্কতা অবলম্বন করুন। রুমে ঢুকেই এমনভাবে সালাম দিন যেন তিনারা খুব সহজে টের না পান যে আপনি সালামটা মুখে দিলেন নাকি মাইকে দিলেন। কথা বলার সময় অস্থির ভাব প্রকাশ করুন। হাত-পা চিংড়ি মাছের মতো এড়াংফেড়াং করতে থাকবেন। যেন তিনারা বুঝতে পারেন যে আপনি কতটা কর্মঠ। এ রকম করলে আরো একটা সুবিধাও আছে তিনারা বুঝতে পারেন যে আপনি প্রতিবন্ধী নন। আপনার সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অক্ষত আছে।
আত্মবিশ্বাসই সফলতা
ভাইভা বোর্ডে আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রবেশ করুন। এবং বের হওয়ার আগ পর্যন্ত মনে করবেন যে আপনি আত্মবিশ্বাসের মহাসাগরে ডুবে আছেন কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছেন না। যেমন প্রশ্নই করুক না কেন ভুলেও যেন কপালে ঘাম না জমে। প্রয়োজনে ভাইভার ডেট আসার কয়েক মাস আগের থেকে পানির ধারের কাছেও না যাবেন না। আপনার আত্মবিশ্বাসের মাত্রাকে এতটাই বৃদ্ধি করুন যেন ভাইভা বোর্ডের লোক মুশকিলে পড়ে যান যে উনারা আপনাকে চাকরি দেবেন নাকি আপনি উনাদের চাকরি দিতে গিয়েছেন। নার্ভাস হওয়া তো দূরের কথা নার্ভাস বলে যেন কোনো শব্দ আছে সেটাই ভুলে থাকুন।
মিথ্যা পরিহার
বোর্ডের লোকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবার জন্য মিথ্যা কথা বলুন। কেননা মিথ্যার থেকে মিষ্টি মধুর আর কিছুই হতে পারে না। যতক্ষণ থাকবেন ততক্ষণ এটাই মনে করবেন যে মিথ্যাও সাফল্য আনতে পারে।
পদ সম্পর্কে ধারণা
যে পদের জন্য আপনি ঘুর ঘুর করছেন সেটা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে তারপর ভাইভা দিতে যাবেন। উনারা শুনুক বা না শুনুক আপনি আপনা আপনি বলে ফেলুন যে ওই পদে আপনার চাকরি হলে মাসে কত টাকা বেতন পাবেন আর কত টাকাই বা ঘুষ খাবেন- এমন অ্যাডভান্স চিন্তা দেখে আপনাকে তিনাদের ভালোও লেগে যেতে পারে।
এ ছাড়া
কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে হাসিমুখে বলুন, ‘জানার কোনো শেষ নাই আর মার খাবার কোনো বয়স নাই।’
নিজের সম্পর্কে সব ধরনের ধারণা রাখুন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে স্বল্প জ্ঞান রাখুন।
কোন স্যারের কাছে কোন কাসে কয়বার মার খেয়েছেন সেটা স্পষ্ট মনে রাখুন।
কোন কাসে তিন-চার বছর থেকেছেন সেটা সম্পর্কেও কিঞ্চিৎ জ্ঞান রাখুন।
ছোটবেলায় গুল নড়ি আর কাচের বল খেলার সময় কাকে কিভাবে মারধর করেছেন সেটাও নলেজে রাখতে পারেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫