ঢাকা, শনিবার,১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

স্বাস্থ্য

আপনার পেশা কি হাঁপানির কারণ?

অধ্যাপক ডা: আতিকুর রহমান

২৮ নভেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৭:২০ | আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৭,রবিবার, ১৫:৪৮


প্রিন্ট
পেশাগত প্রভাবে হাঁপানি

পেশাগত প্রভাবে হাঁপানি

বহু মানুষ তার কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন উপাদান থেকে হাঁপানিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। এমনকি বাড়ির মহিলারাও এর বাইরে নন। পৃথিবীতে প্রায় ১৫০ রকমের রাসায়নিক আছে যা হাঁপানির জন্ম দেয়। 

আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে আমেরিকায় ডিটারজেন্ট শিল্প শ্রমিকদের মধ্যে হঠাৎ হাঁপানি রোগ বেড়ে যেতে লাগল। একসময় দেখা গেল চার ভাগ শ্রমিকের মধ্যে এক ভাগ শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করল। পেশাগত হাঁপানির এরকম আরো অনেক উদাহরণ রয়েছে। পেশাগত নানা ব্যাধির বিপদ সম্বন্ধে প্রথম যিনি আমাদের জানিয়ে ছিলেন তিনি ইতালির চিকিৎসক বার্না রামাজিনি। নানা কলকারখানায় বিষাক্ত ধোঁয়া ধুলো আর বিচিত্র্য সব পেশার ফলে মানুষ আজ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কাজের জায়গায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০ রকমের রাসায়নিক পাওয়া গেছে, যা থেকে হাঁপানি হতে পারে।

পেশাগত হাঁপানি বিভিন্নভাবে প্রকাশ পেতে পারে। কেউ কেউ কাজের শুরুর দিন থেকে শ্বাসকষ্টে ভোগে। কেউ বা রোগের কষ্ট বুঝতে পারে দিন কয়েক পরে। তবে সব রকম পেশাগত হাঁপানি রোগী ছুটির দিনগুলোয় ভালো থাকেন। এই একটা বিষয় থেকে আমরা পোশাক হাঁপানি বুঝতে সাহায্য পেতে পারে। পেশাগত হাঁপানি, অ্যালার্জি না থাকলেও হতে পারে। তীব্র, ঝাঁঝাল গন্ধের গ্যাস থেকে শ্বাসকষ্ট হয়। যেমন অ্যামোনিয়া, ক্লোরিন বা সালফার ডাই-অক্সাইড। এসব গ্যাস সর্বপরি শ্বাসনালি ঝিল্লির ক্ষতি ঘটায় বা ফুসফুসে প্রদাহ তৈরি করে। কখনো কখনো রাসায়নিক পদার্থের পরিমাণ এত কম থাকে যা সহজে পরীক্ষা করে বোঝাই সম্ভব নয়। ইদানীং এমন দু’টি রাসায়নিক যথেষ্ট বিপদের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। বাতাসে ১০ লক্ষ ভাগের এক ভাগ মাত্র থাকলেও স্পর্শকাতর মানুষের শ্বাসকষ্ট শুরু হতে পারে। টলিউন ডাইআই আইসোসায়ানেট ও ট্রাইমেটালিক অ্যানহাইট্রাইড এমনই দু’টি রাসায়নিক যা আজকের শিল্পে যথেচ্ছ ব্যবহার করা হয়।

দেখা গেছে, কৃষি, পোলট্রি, ডেইরি ও বেকারিতে যেসব লোক কাজ করেন তাদের মধ্যে অনেকেই হাঁপানি রোগে ভোগেন। নানা ধরনের ছত্রাকের সংস্পর্শে আসার ফলে ওই সব ব্যক্তি হাঁপানিতে কষ্ট পান। আবার যারা চাষি এবং বাগানের মালি তারা নানা ধরনের ফুলের পরাগরেণুর কোপে পড়ে। আর যারা লেপ-তোষক এবং আসবাবপত্র তৈরি করে তারা প্রচুর পরিমাণে ধুলোবালির সংস্পর্শে আসে বলে হাঁপানিতে দারুন কষ্ট হয়। যেসব লোকের হাঁপানি আছে তারা যদি এসব বৃত্তিতে নিযুক্ত হন তবে তাদের হাঁপানির কষ্ট আরো বেড়ে যায়। আবার যারা বিভিন্ন ধরনের জিনিষের প্রভাবে অ্যালার্জিতে কষ্ট পান তবে তারা পরিশেষে হাঁপানি রোগের শিকার হতে পারেন। অ্যালার্জি এবং হাঁপানি রোগীদের এসব বৃত্তি বর্জন করাই ভালো। তাই যেসব রোগী অ্যালার্জি এবং হাঁপানিতে কষ্ট পান তাদের কর্মসংস্থানের ব্যাপারে খুব সাবধান হওয়া উচিত।

পেশাগত হাঁপানির হাত থেকে বাঁচার একটাই উপায় এসব ক্ষতিকারক জিনিষগুলো এবং পেশা এড়িয়ে চলা। কিন্তু আমাদের মতো গরিব দেশে যেখানে কাজের সুযোগ কম সেখানে শ্রমিকদের পক্ষে কাজ ছেড়ে দেয়ার সুযোগ কোথায়। তাই কাজের জায়গায় যাওয়ার আগে বা কাজ শুরু করার আগে হাঁপানির ওষুধ ব্যবহার করালে শ্বাসকষ্ট কম হতে পারে।

লেখক : অধ্যাপক ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, রাফা মেডিক্যাল সার্ভিস, মহাখালী, ঢাকা।
ফোন : ০১৯১১৩৫৫৭৫৬

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫