ঢাকা, শনিবার,১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

শিক্ষা

দু’দিনের কর্মবিরতিতে সরকারি কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ নভেম্বর ২০১৭,সোমবার, ১৮:৪৪ | আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০১৭,সোমবার, ১৯:০২


প্রিন্ট

বিসিএস শিক্ষকদের দু’দিনের কর্মবিরতিতে দেশের সরকারি কলেজগুলো অচলাবস্থা বিরাজ করেছে। কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনে কলেজগুলোতে কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা হয়নি। সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম এ দু’দিন বন্ধ ছিল।

দু’দিনের কর্মবিরতির কর্মসূচি সফল অভিহিত করে সরকারি কলেজ শিক্ষকদের সংগঠন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সভাপতি আই কে সেলিমুল্লাহ খন্দকার আজ নয়া দিগন্তকে বলেন, সারাদেশের সরকারি কলেজ শিক্ষকরাসহ শিক্ষা ক্যাডারের সব পর্যায়ের কর্মকর্তারা স্বর্তস্ফূর্তঃভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। প্রথম দফার কর্মসূচি শেষ হলো, আমাদের দাবি এরই মধ্যে মেনে না নেয়া হলে আগামী ৬ থেকে ৮ জানুয়ারি টানা তিন দিনের কর্মবিরতি পালন করা হবে।

‘নো বিসিএস- নো ক্যাডার’ দাবিতে বিসিএস শিক্ষকদের কর্মবিরতি পালনের ফলে আজও দেশের সব সরকারি কলেজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি), সব শিক্ষা বোর্ড, সরকারি টির্চাস ট্রেনিং কলেজসহ শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভূক্ত সব প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও কোনো কর্মকর্তা দাপ্তরিক বা প্রশাসনিক বা পাঠদান এবং পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত কাজে অংশ নেননি। এর ফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পূর্ব-নির্ধারিত সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

দেশের যেসব উপজেলায় সরকারি কলেজ ও মাধ্যমিক স্কুল নেই, সেখানে একটি করে কলেজ ও মাধ্যমিক স্কুল সরকারিকরণের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে সারা দেশে ৩২৫টি বেসরকারি স্কুল ও ৩১৫টি বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণ করা হবে। এসব কলেজ শিক্ষকদের ক্যাডারভূক্তর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছেন সরকারি কলেজ শিক্ষকরা।

বিসিএস শিক্ষা সমিতি সূত্র এবং আমাদের জেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, দেশের সরকারি কলেজগুলোর মতো চাঁদপুর সরকারি কলেজ ও চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের শতাধিক শিক্ষকও কর্মবিরতি পালন করেন। তারা ক্লাস না করে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে চেয়ার নিয়ে বসে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। আজ সোমবার কলেজ দুটির একাদশ, দ্বাদশ, ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্সে কোনো ক্লাস হয়নি।

গোপালগঞ্জের ছয়টি সরকারি কলেজেও অচলাবস্থা বিরাজ করছে। শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে ক্লাস হয়নি গোপালগঞ্জ সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজ, সাতপাড়া সরকারি নজরুল কলেজ, রামদিয়া সরকারি এস কে কলেজ, কোটালীপাড়া শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ কলেজ ও টুঙ্গিপাড়া শেখ মুজিব সরকারি কলেজে।

রাজধানী ঢাকার কবি নজরুল সরকারি কলেজ, ঢাকা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, তিতুমীর কলেজ, বদরুন্নেসা, ইডেন, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজগুলোতে কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়া হয়নি।

এ প্রসঙ্গে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির প্রচার সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন নয়া দিগন্তকে বলেন, বিসিএস দিয়ে যারা ক্যাডার পাচ্ছেন না, তাদেরকে প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক হতে হচ্ছে। সেখানে ঢালাওভাবে ক্যাডারভূক্ত করে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কখনো সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, আমরা শিক্ষা জাতীয়করণের বিপক্ষে নই। একটাই দাবি বিসিএস ছাড়া বিসিএস ক্যাডার নয়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন মেনে ও জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এ বর্ণিত নির্দেশনা অনুসারে জাতীয়করণের জন্য ঘোষিত কলেজ শিক্ষকদের ক্যাডার বহির্ভুত রেখে বিধিমালা জারি করতে হবে।

দেশে সরকারি কলেজগুলোতে বর্তমানে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা আছেন প্রায় ১৫ হাজার। আর নতুন জাতীয়করণকৃত কলেজগুলোতে শিক্ষক রয়েছেন ১৮ হাজার। এ দু’ধরনের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের মধ্যে এরই মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গেছে। জাতীয়করণ তালিকাভূক্ত কলেজ শিক্ষকরাও এরই মধ্যে সোচ্চার হয়েছেন। তারা বিগত সময়ে জাতীয়করণকৃত কলেজের মতো এবার যেন তাদের ক্যাডারভূক্ত করা হয়, তার জন্য আদালতের শরনাপন্ন হওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

এই দ্বন্দ্বে আট মাস আগে অর্থ মন্ত্রণালয় ২৮৪টি কলেজ জাতীয়করণের জন্য সম্মতি দিলেও জাতীয়করণের সরকারি নির্দেশ (জিও) জারি করতে পারছে না মন্ত্রণালয়। ওই কলেজগুলোর ডিড অফ গিফট তৈরি করে রাখা হয়েছে। সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে এসব কলেজ জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণে শীর্ষ পর্যায়ের সম্মতি ছাড়া জাতীয়করণের আদেশ জারি হচ্ছে না বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫