ঢাকা, শনিবার,১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

আইন ও বিচার

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

হাবিবুর রহমান

২৭ নভেম্বর ২০১৭,সোমবার, ১৭:১৩ | আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০১৭,সোমবার, ১৯:০২


প্রিন্ট
ষড়যন্ত্র ছাড়া এতো বড় হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে না : হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

ষড়যন্ত্র ছাড়া এতো বড় হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে না : হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদরদফতর পিলখানায় নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আপিলে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এ মামলার সাড়ে আটশ’ আসামির মধ্যে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন জজ আদালত।

রায়ে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আটজন আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং চারজনকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ ছাড়া অন্য এক আসামি মামলা চলাকালীন কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন।

আজ সোমবার বিচারপতি মো: শওকত হোসেন, বিচারপতি মো: আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো: নজরুল ইসলাম তালুকদার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে জজ আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রাখা হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আর হাইকোর্টে খালাস পেয়েছেন ১২ জন।

এছাড়া জজ আদালতে খালাস পাওয়া যে ৬৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছিল, তাদের মধ্যে ৩১ জনকে হাইকোর্ট যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া চারজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড এবং ৩৪ জনের খালাসের রায় বহাল রাখা হয়েছে।

এ মামলার সাড়ে আটশ’ আসামির মধ্যে আরো ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছিল জজ আদালত। তাদের মধ্যে ১৮২ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, আটজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড, চারজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। খালাস পেযেছেন ২৯ জন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট সাত দফা সুপারিশ করে বলেছেন, কোনো রকম ষড়যন্ত্র ছাড়া পিলখানায় এতো বড় হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে না। সেনা কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারকে বিপদে ফেলা এবং রাজনৈতিক সংকট তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। আদালত পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের তথ্য দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ওই সময়ের গোয়েন্দাদের নিষ্ক্রিয়তা তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করা উচিত মর্মে সুপারিশ করেছেন।

আজ বিচারপতি মো: শওকত হোসেন, বিচারপতি মো: আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো: নজরুল ইসলাম তালুকদার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ এই সুপারিশ করেন।

হাইকোর্টের সাত দফা সুপারিশ
১. অপারেশ ডাল-ভাত কর্মসূচিতে বিডিআরের মতো এ ধরনের ফোর্সকে যুক্ত করা উচিত হয়নি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতে এ জাতীয় কর্মসূচি যেন আর না নেয়া হয়।

২. বিজিবি আইন অনুযায়ী বাহিনীতে সৈনিক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা উচিত। বিজিবির কাঠামোতে বাহিনীর আইন অনুযায়ী সে সম্পর্ক প্রতিপালন করা প্রয়োজন। এজন্য সময় সময় অভ্যন্তরীণ মতবিনিয়ের আয়োজন করা যেতে পারে।

৩. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি দাওয়া পাঠানো হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তা নিরসন করা হয়নি। তাই ভবিষ্যতে দাবি-দাওয়া থাকলে দ্রুত তা নিষ্পত্তি করতে হবে। পিলখানায় বিদ্রোহের আগে অধঃস্তনদের কিছু দাবি-দাওয়া বিডিআরের ঊর্ধ্বতনদের কাছে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। এ ধরনের আমলাতান্ত্রিকতা দূর করতে হবে।

৪. বাহিনীর সদস্যদের কোনো সমস্যা থাকলে তা সমাধানে বিজিবির ডিজি দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন। তাদের আর্থিক সুবিধাসহ যাবতীয় সুবিধা প্রদানে ব্যবস্থা নেবেন। যদি কোনো প্রচ্ছন্ন ক্ষোভ থেকে থাকে, তা প্রশমন করার উদ্যোগ নেয়া জরুরি।

৫. বাহিনীতে কারো কোনো পাওনা থাকে সেটিও দ্রুত সমাধান করতে হবে।

৬. যেকোনো সমস্যা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।

৭. বিডিআরের নিজস্ব গোয়েন্দা বাহিনী ছিল। পিলখানায় সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার ছিল সংরক্ষিত। গোয়েন্দা বাহিনী বিদ্রোহের আগে কোনো তথ্য দিতে কেন ব্যর্থ হয়েছে? কেন তারা নিশ্চুপ ছিল? এটা কর্তৃপক্ষকে তদন্ত করে দেখতে হবে।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫