বিশ্বের সেরা ধনী জেফ বেজোস
বিশ্বের সেরা ধনী জেফ বেজোস

তার সম্পদের পরিমাণ ১০০,০০০,০০০,০০০ ডলারের বেশি

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

প্রথমবারের মতো ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলার অতিক্রম করেছে বিশ্বের সেরা ধনী জেফ বেজোসের সম্পদের পরিমাণ। এর মাধ্যমে বিশ্বের সেরা ধনী হিসেবে নিজের অবস্থান আরো মজবুত করলেন এই মার্কিন ধনকুবের।

ব্লুমবার্গ জানিয়েছে গত শুক্রবার ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে অ্যামাজনের শেয়ারের দর বাড়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। এতে এক দিনেই জেফ বেজোসের সম্পদ বেড়ে যায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো তার সম্পদ ১০০ বিলিয়ন বা ১২ অঙ্কের (১০০,০০০,০০০,০০০) কোটায় পৌঁছায়। মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের বর্তমান সম্পদ সম্পদ ৮৯ বিলিয়ন ডলার।

সিএনএনের খবরে বলা হয়, ২০১৭ সালে অ্যামাজনের শেয়ারদর বেড়েছে ৫৮ শতাংশ। যা বেজোসকে দিয়েছে বাড়তি তিন হাজার ৪০০ কোটি ডলার।

কিছু দিন ধরেই বিল গেটসের সাথে সেরা ধনীর আসন নিয়ে লড়াই চলছে তার। এর আগে গত ২৭ জুলাই প্রথমবারের মতো বিশ্বের সেরা ধনী হয়েছিলেন জেফ বেজোস। সে সময় তার সম্পদের পরিমাণ হয়েছিল ৯০ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু কয়েক দিন পর তার প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কমে যাওয়ায় বিল গেটসের কাছে ‘চেয়ার’ ছাড়তে বাধ্য হন।

এরপর ২৭ অক্টোবর আবারো গেটসে টপকে সেরা ধনীর খেতাব ফিরে পান বেজোস। সর্বশেষ এই সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধিতে ১৯৯৯ সালের পর প্রথমবারের মতো কারো সম্পদ ১০০ বিলিয়ন অতিক্রম করল। ওই বছর বিল গেটসের সম্পদ এই ল্যান্ডমার্ক অতিক্রম করেছিল।

বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেটে পণ্য বিক্রয়ের জনপ্রিয় সাইট অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের বয়স ৫৩ বছর। ২০১৩ সাল থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টেরও মালিক।

গ্রেফতার হলেন সৌদি আরবের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযানে এবার আটক হলেন দেশটির দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী মোহাম্মদ হুসেইন আল আমাউদি। এর আগে দেশটির শীর্ষ ধনী প্রিন্স ওয়ালিদ বিন তালালকে গ্রেফতারের পর অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়।

বিন তালালের গ্রেফতারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করেছিল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। তার গ্রেফতারে ধস নামে সৌদি স্টক এক্সচেঞ্জে। দেশটির অর্থনীতিতেও এই ঘটনা প্রভাব ফেলতে পরে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বিশ্লেষকেরা। এবার আল আমাউদির গ্রেফতারও দেশটির অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করতে পারে।

‘দ্য শেখ’ নামে পরিচিত আল আমাউদি সৌদি ও ইথিওপিয়ান দ্বৈত জাতীয়তার নাগরিক। তিনি ইথিওপিয়ার হোটেল ও কৃষিসহ অর্থনীতির প্রায় সব ক্ষেত্রেই বিনিয়োগ করেছেন। আফ্রিকার দ্রুততম উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ইথিওপিয়া অন্যতম। বিগত দশ বছরে দেশটিতে আল আমাউদির মোট বিনিয়োগের সঠিক মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এক বিশ্লেষকের মতে, ইথিওপিয়ায় শেখ মোট ৩৪০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছেন, যা দেশটির বর্তমান জিডিপির ৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

গত ৪ নভেম্বর যুবরাজ বিন সালমানের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে গ্রেফতার করা হয় ১১জন প্রিন্সসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন প্রিন্স আল ওয়ালিদ। সৌদি ব্যবসার মূল মুখপাত্র ভাবা হয় তাকে। মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের মতে, প্রিন্স ওয়ালিদের সম্পদের পরিমাণ ১৭ বিলিয়ন। বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন ওয়ালিদ। তিনি সৌদি আরবের সিটি গ্রুপ ইন করপোরেশনের সবচেয়ে বড় একক বিনিয়োগকারী। তাকে গ্রেফতারের পর সৌদি স্টক এক্সচেঞ্জে ধস নামে। তার মালিকানাধীন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কিংডম হোল্ডিংসের শেয়ারের মূল্য দশ শতাংশ পড়ে যায়। সৌদি স্টক এক্সচেঞ্জ আরব বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড়।

এবার একই আশঙ্কা আমাউদির গ্রেফতারের পরও। আমাউদি দ্বৈত নাগরিক হওয়ায় অর্থনীতির বিরূপ প্রভাব আশঙ্কা করা হচ্ছে ইথিওপিয়াতেও। ২০০৮ সালে ফাঁস হওয়া এক কূটনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, ইথিওপিয়ার অর্থনীতিতে আল আমাউদির প্রভাব অনেক। ২০১৩ সালে প্রকাশিত শ্রমিক জোট জরিপ অনুযায়ী, শেখের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় এক লাখ শ্রমিক কাজ করেন। বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষকদের দাবি, গত চার বছরে এই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। (২৪-১১-১৭ প্রকাশিত সংবাদ)

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.