ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

অপরাধ

গাবতলী টু বাবুবাজার

যানবাহনে চাঁদাবাজি

আবু সালেহ আকন

২৫ নভেম্বর ২০১৭,শনিবার, ০৯:২৩


প্রিন্ট
যানবাহনে চাঁদাবাজি

যানবাহনে চাঁদাবাজি

ঢাকা শহর রক্ষাবাঁধের গাবতলী থেকে বাবুবাজার পর্যন্ত রাস্তায় গণপরিবহনসহ বিভিন্ন যানবাহনে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চলছে। ডিএমপির আট থানা ও ফাঁড়ির কিছু অসৎ পুলিশ সদস্য এবং চিহ্নিত মাস্তানেরা চাঁদাবাজি করছে। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কিছু নেতার বিরুদ্ধেও এই অভিযোগ উঠেছে। শহর রক্ষা বাঁধের ১৬টি পয়েন্টে এই চাঁদাবাজি চলছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। চাঁদাবাজির কারণে দিন-রাত শহর রক্ষাবাঁধে যানজট লেগেই থাকছে।
রাজধানীর দক্ষিণ-পশ্চিমে শহর রক্ষা বাঁধের পুরান ঢাকার মিটফোর্ড বাবুবাজার থেকে গাবতলীর দূরত্ব ১১ দশমিক ৬০ কিলোমিটার। দীর্ঘ এ পথে প্রতিদিন কয়েক হাজার পণ্য ও যাত্রী বাহী বিভিন্ন পরিবহন চলাচল করে।

নগরীর তীব্র যানজট এড়াতে দ্রুততম সময়ে পুরান ঢাকার আদালত চত্বর, শিক্ষা-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পাইকারি কাপড়, মাছ-ফলের আড়তসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে পরিবহন মালিক-চালক ও যাত্রীরা দীর্ঘ এ পথ নিত্যদিনের সঙ্গী হিসেবে ব্যবহার করেন। এ পথ দিয়ে প্রতিদিন দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে নগরীর ঐতিহ্যবাহী পাইকারি মার্কেট মৌলভীবাজার, বাবুবাজার, ইসলামপুর প্রবেশ করছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।

এ ছাড়া পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর হওয়ার পর থেকেই দীর্ঘ এ পথে দর্শনার্থী ও যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে কয়েক গুণ। ফলে এই রাস্তায় গণপরিবহনের সংখ্যাও বেড়েছে। পরিবহন মালিক-শ্রমিক সূত্র জানায়, শহর রক্ষা বাঁধে সাভার টু বাবুবাজার (ভায়া গাবতলী) রুটে ২০টি যানযাবিল, ৪০টি ব্রাদার্স ও ৩০টি প্রত্যয় পরিবহন নামে সর্বমোট ৯০টি বাস প্রতিদিন চলাচল করছে।

এ ছাড়া গাবতলী টু হাজারীবাগের নবাবগঞ্জ সেকশন বেড়িবাঁধ রুটে ফিটনেসহীন হিউম্যান হলার বেশ কিছু লক্কড়ঝক্কড় মিনিবাস, মোহাম্মদপুর টু নবাবগঞ্জ সেকশন রুটে সরকার নিষিদ্ধ শ-খানেক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, কেরানীগঞ্জের আটিবাজার টু নবাবগঞ্জ সেকশন রুটে অর্ধশতাধিক সিএনজি অটোরিকশা, নবাবগঞ্জ সেকশন বেড়িবাঁধ টু মিটফোর্ড বাবুবাজার রুটে নিয়মিত প্রায় ৩০টি লেগুনা ও বাবুবাজার ব্রিজের ওপর-নিচ থেকে জুরাইন, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ীসহ ১০টি রুটে প্রায় ৩০০ যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল করছে। অপর দিকে এ পথে প্রতিদিন পণ্যবাহী সহ¯্রাধিক ট্রাক-কভার্ডভ্যান ও পিকআপসহ বিভিন্ন যান চলাচল করছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, শহর রক্ষা বাঁধে গাবতলী থেকে মিটফোর্ডের বাবুবাজার পর্যন্ত দীর্ঘ ১১ দশমিক ৬০ কিমি পথ ডিএমপির আটটি থানার অধীনে থাকায় সংশ্লিষ্ট থানা ও ফাঁড়ির কিছু পুলিশ ও সরকার দলের কথিত নেতা-কর্মী এবং চিহ্নিত চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের কাছে রীতিমতো জিম্মি হয়ে পড়েছেন পরিবহন মালিক-চালক ও শ্রমিকেরা। লালবাগের নবাবগঞ্জ সেকশন টু মিটফোর্ডের বাবুবাজার রুটের লেগুনা থেকে চার থানার কিছু সদস্য ও ফাঁড়ি পুলিশ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট এলাকার কিছু জনপ্রতিনিধি এবং শাসকদলের কথিত নেতা-কর্মীরা গড়ে প্রতিদিন ১৫ হাজার টাকার চাঁদা তুলছেন। এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে প্রতিদিন এক হাজার টাকা দিতে হয়।

অপর এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে দিনে ৩০ লেগুনা থেকে দিতে হয় ৪ হাজার টাকা। এ ছাড়া ইসলামবাগের কথিত এক যুবলীগ নেতা এসব লেগুনা থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা তোলেন বলে অভিযোগ আছে। পরিবহন কাউন্টার থেকে স্থানীয় কিছু পুলিশ ও আনসার সদস্যদের নামে প্রতিদিন ৯ শ’ টাকা হারে চাঁদা তোলা হচ্ছে। এ ছাড়া বংশাল ও কোতোয়ালি থানাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার দুই ফাঁড়ির কিছু পুলিশের জন্য গড়ে প্রতিদিন এক হাজার টাকা হারে চাঁদা আদায় হচ্ছে। এ ছাড়া ব্রিজের নিচে অবৈধ ফুটপাথের দোকান থেকে গড়ে প্রতিদিন ৩০ হাজার টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন মালিক বলেন, কিছু পুলিশ আর মাস্তান মিলে সমানে চাঁদাবাজি করছে। চাঁদা দিতে না চাইলে রাস্তায় গাড়ি আটকে রাখে তারা। গত রোববার দুপুর ১২টার দিকে কামরাঙ্গীরচর-লোহারপুল এলাকায় প্রকাশ্যে পুলিশ ও মাস্তানদের চাঁদাবাজির দৃশ্য দেখা যায়। ওই ব্যবসায়ী বলেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও কোনো লাভ নেই। অনেক স্থানে তারা অভিযোগ করেছেন। ইতঃপূর্বে বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর বেরিয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিকার হয়নি।

এ দিকে, কিছু পুলিশ সদস্য ও মাস্তানদের চাঁদাবাজির ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেলের ডিসি মাসুদুর রহমান বলেছেন, কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫