ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে সংশয়

ড. আবদুল লতিফ মাসুম

২৪ নভেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ১৮:৫১


 ড. আবদুল লতিফ মাসুম

ড. আবদুল লতিফ মাসুম

প্রিন্ট

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে গতকাল একটি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটি আসলে চুক্তিও নয়, স্মারকও নয়। বিবিসির ভাষ্যে এটাকে বলা হয় অ্যারেঞ্জমেন্ট বা ব্যবস্থাপত্র। কূটনীতির পরিভাষায় এ ধরনের ব্যবস্থাপত্রের কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। সমঝোতা স্মারক সাধারণত দু’পক্ষের স্বাক্ষরে সম্পাদিত হয়। এ ক্ষেত্রে দু’টি দেশ পৃথক পৃথকভাবে তাদের সিদ্ধান্ত জ্ঞাপন করেছে। এতে রোহিঙ্গাদের নাম উল্লেখ না করে রাখাইন রাজ্যের অধিবাসী যারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, তাদের ফিরিয়ে নেয়ার সমঝোতার কথা বলা হয়। এতে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের ব্যাপারে সম্মতির কথা উল্লেখ করা হয়। কবে নাগাদ এ কার্যক্রম শুরু হবে বা কখন এটি শেষ হবে তার কোনো উল্লেখ বিবৃতিতে নেই। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আমলে ১৯৭৮, ১৯৮২ বিশেষত ১৯৯২ সালে মিয়ানমারের সাথে এ ধরনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

মিয়ানমারের সেই একই কথা- ১. রোহিঙ্গা শব্দের উল্লেখ করা যাবে না। ২. নাম পরিচয় যাচাই-বাছাই করার পর নাগরিকত্ব নির্ধারিত হবে। ৩. জাতিসঙ্ঘ বা কোনো তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতি তারা মানবে না। ৪. প্রত্যাবাসনে কোনো সময়সীমা তারা মানতে রাজি নয়। ৫. প্রত্যাবাসনের পরে তাদের নিজ বাড়িঘরে প্রত্যাবর্তনের কোনো নিশ্চয়তা দিতে চায় না তারা। ৬. যে জীবন-মরণের সমস্যা নিয়ে রোহিঙ্গাদের এ দেশে আগমন, সেই জীবনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতেও মিয়ানমার সরকার রাজি নয়। আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গাদের নির্যাতন সাময়িকভাবে বন্ধ করলেও রাখাইন স্টেটের প্রতিহিংসাপরায়ণ মগরা প্রতিদিন রোহিঙ্গাদের নির্যাতন করছে। এখনো যারা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে, তারা ‘মগ দস্যুদের’ আক্রমণের শিকার হয়েই বাংলাদেশে আসছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে রোহিঙ্গারা আহত হয়ে, জখম হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে।

নিরাপত্তাসহ সব বিষয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব বক্তব্য রয়েছে, কিন্তু কোনো ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ রহস্যজনক কারণে শক্ত অবস্থানে যেতে পারছে না। প্রথমত, রোহিঙ্গা শব্দটির কথাই ধরা যাক। এ শব্দটির সাথে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জাতিপরিচয় জড়িত। বর্তমানে অথবা অতীতে কোনো সরকারই রোহিঙ্গা শব্দটির গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। বাংলাদেশে এবং গোটা পৃথিবীতে জনমত সৃষ্টি হয়েছে যে, রোহিঙ্গাদের বা বাংলাদেশে আসা রাখাইন প্রদেশের অধিবাসীদের নাগরিকত্ব না দিয়ে ফেরত পাঠানো যাবে না। কফি আনান কমিশনেও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমারের তথাকথিত যৌথ বিবৃতিতে নাগরিকত্ব দেয়ার কোনো আকার-ইঙ্গিত নেই। এমনকি যে কফি আনান কমিশনের বিষয়ে মিয়ানমার দৃশ্যত নমনীয়তা দেখাচ্ছে, সেখানে যৌথ বিবৃতিতে তার কোনো উল্লেখ নেই। দ্বিতীয়ত, নামপরিচয়ের কথা। বাংলাদেশ চাচ্ছে ১৯৭৮, ১৯৯২ এবং তৎপরবর্তীকালে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল তাদের সবাইকে ফেরত নেয়া হোক। কিন্তু মিয়ানমার ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর থেকে এ পর্যন্ত আসা রোহিঙ্গাদের উল্লেখ করছে। তৃতীয়ত, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের পরিচয় নির্ধারণ এবং প্রত্যাবাসনে জাতিসঙ্ঘ বা অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতির বিষয়ে একমত নয়। তবে তারা জাতিসঙ্ঘ উদ্বাস্তুসংক্রান্ত হাইকমিশন- ইউএনএইচসিআর যেহেতু প্রত্যাবাসনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেয়, সেটা গ্রহণ করতে রাজি আছে।

চতুর্থত, প্রত্যাবাসন কবে থেকে শুরু হবে আর কবে শেষ হবে সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা মানতে তারা রাজি নয়। ১৯৯২ সালে স্বাক্ষরিত এ রকম চুক্তির পরে তারা টালবাহানা করে ১৯৯৪ সালের জুন মাসের পর আর একটি লোকও ফেরত নেয়নি। পঞ্চম, প্রত্যাবাসনের পরে তাদের নিজ ঘরবাড়িতে ফিরিয়ে নেয়ার নিশ্চয়তা দিতে তারা রাজি নয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিষয়টি উত্থাপিত হলে তারা তাদের বাড়িঘর বিধ্বস্ত হওয়ার যুক্তি দেয়। বাংলাদেশ সরকার উল্লেখ করে, মিয়ানমার রাজি হলে জাতিসঙ্ঘসহ বিভিন্ন ত্রাণসংস্থা ওইসব বিধ্বস্ত বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ করে দেবে। কিন্তু তাতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রাজি হয়নি। তারা এসব রোহিঙ্গাকে নামকাওয়াস্তে ফেরত নিয়ে ট্রানজিট ক্যাম্পে রাখতে চায়। তথাকথিত নিরাপত্তার নামে এখনো রাখাইন রাজ্যে এ রকম নিরাপত্তা ক্যাম্পে অসংখ্য রোহিঙ্গা ধুঁকে ধুঁকে মরছে। ষষ্ঠত, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পর তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নিরাপত্তার দুটো দিক রয়েছে। মিয়ানমার সরকারকে এই মর্মে নিশ্চয়তা দিতে হবে যে, তারা সেনাবাহিনীসহ কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিপীড়নের শিকার হবে না। তারা প্রতিবেশী কর্তৃক প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলবে না। বাংলাদেশ সরকার তথা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি এ নিশ্চয়তা না দিতে পারে তাহলে আবারো রোহিঙ্গারা তাদের জীবনের নিশ্চয়তার জন্য বাংলাদেশের দিকে ধাবিত হবে।

মিয়ানমার সঙ্গতভাবেই বিষয়টিকে দ্বিপক্ষীয় করতে চাইবে। আর বাংলাদেশ চাইবে বহুপক্ষীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতিতে বিষয়টির সুরাহা করতে। বাংলাদেশের সব নিরাপত্তা বিশ্লেষক সরকারকে মিয়ানমারের একতরফা চুক্তির ফাঁদে পা না দেয়ার জন্য বারবার সতর্ক করেছে। একই পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার সব তরফের পরামর্শ অগ্রাহ্য করে কী কারণে মিয়ানমারের সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সূত্রপাত করল- তা একটি অজ্ঞাত বিষয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বেড়ে যাওয়ায় তারা তাড়াহুড়া করে একটি চুক্তিতে উপনীত হতে চায়। এমতাবস্থায় রোহিঙ্গাদের স্বার্থ নিশ্চিত না করে কোনো চুক্তি হলে তা স্থায়িত্ব অর্জন করবে না। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এখন যে সমঝোতাপত্র বা ব্যবস্থাপত্রের জন্য মিয়ানমার গেলেন তার আগে যথার্থ হোমওয়ার্ক বা কূটনৈতিক যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। যৌথ বিবৃতিটি প্রকাশিত হওয়ার পর এ সন্দেহ আরো জোরদার হয়েছে। এর কারণ আগে যেসব কথাবার্তা শোনা গিয়েছিল, ওই যৌথ বিবৃতিতে তার চেয়ে নতুন কিছু দেখা যায়নি।

কূটনৈতিক কার্যক্রমের দুটো দিক থাকে- একটি খোলামেলা, আরেকটি গোপন। একটি খবরে বলা হয়েছে, ৯ সপ্তাহ ধরে গোপনে গোপনে মিয়ানমারের সাথে আলাপ-আলোচনা চলছে। এর সত্যতার সমর্থনে দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্তাব্যক্তিদের সফর বিনিময় উল্লেখ করা যায়। আরেকটি ‘ওপেন সিক্রেট’ বিষয় দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর্দার অন্তরালে মহাচীনের নাটকীয় অবস্থান। চীন বিষয়টি আঞ্চলিকপর্যায়ে মীমাংসা করার জন্য উভয় দেশের ওপর চাপ দিয়ে যাচ্ছে। চীনের এ ভূমিকা কতটা বাংলাদেশের জন্য, আর কতটা মিয়ানমারকে আশু বিপদ থেকে রক্ষার জন্য- তা একটি গভীর বিশ্লেষণের বিষয় বটে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহল চীনের এ ভূমিকার পেছনে দুটো কারণ উল্লেখ করছেন। আঞ্চলিক বলয়ে মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ যেন চীনের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের পক্ষপুটে চলে না যায়Ñ সে জন্য তার এত মাথাব্যথা। অপর দিকে আঞ্চলিক সমঝোতার কথা বলে চীন বার্মার ওপর পাশ্চাত্যের চাপ কমাতে চাচ্ছে। উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পাশ্চাত্য মিয়ানমারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে চাইছে। জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ অন্যান্য ফোরামে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মার্কিনিদের সমান্তরাল ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। সবারই জানা, দীর্ঘকাল বার্মা নামের মিয়ানমার যখন সমগ্র পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একা একা পথ চলছিল, তখন মহাচীনই ছিল তাদের বিশ্বস্ত সাথী। ২০১৪ সালের পর পাশ্চাত্যের চাপে যখন গণতন্ত্রায়ন শুরু হয় তখন পাশ্চাত্যের দুয়ার ধীরে ধীরে খুলে যায় মিয়ানমারের জন্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মিয়ানমার সফর করেন। তখন তিনিও রোহিঙ্গাদের বিষয়ে ভালো ভূমিকা রাখেন। এখনো মিয়ানমার নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল। এ মুহূর্তে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান চীন সফর করছেন। চীন অতীতের সাম্যবাদের ভূমিকা বাদ দিয়ে এখন ‘ওয়ানবেল্ট ওয়ান রোড’ নামের বাণিজ্যবাদ নিয়ে পৃথিবী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। মিয়ানমারের বিপুল খনিজ সম্পদ ও বিনিয়োগে এখনো চীনের প্রাধান্য রয়েছে। সুতরাং চীন বাংলাদেশের দিকে তাকাবে নাকি মিয়ানমারের স্বার্থ রক্ষা করবে- তা সহজেই বোঝা যায়। ইতোমধ্যে চীন নিরাপত্তা পরিষদসহ সর্বত্র বাংলাদেশের বিপক্ষে ভোট দিয়ে প্রমাণ করেছে- মানবিকতা শুধু তাদের কথার কথা, আসল কথা অর্থনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি।

বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভাগ্য, তাদের কথিত বন্ধুদের এই দুঃসময়ে বাংলাদেশের পাশে পায়নি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছিলেন, ‘পড়শি পহেলে, লেকেন বাংলাদেশ সাবসে পহেলে।’ এখানে যখন তিনি এলেন, তখন লোকজনকে খুশি করার জন্য অনেক ভালো ভালো কথা বললেন। কিন্তু যখন জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের থার্ড কমিটিতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অব্যাহত সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার দাবি করা হয়, তখন ভারত এবং তার পক্ষপুট নেপাল, ভুটান ভোটদানে বিরত থাকে। তার মানে হলো তারা বাংলাদেশের স্বার্থে ভোটদানে ব্যর্থ হয়। চীনের কথা আগেই বলা হয়েছে। যে রাশিয়া থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনলাম আমরা, তারাও আমাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। থার্ড কমিটিসহ অন্যান্য ফোরামে বাংলাদেশের তথাকথিত বন্ধু চীন ভারত ও রাশিয়ার সমর্থন না পাওয়ায় সঙ্গতভাবেই বর্তমান সরকারের অনুসৃত পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলা যায়। এমনকি বাংলাদেশ জাপানের মতো নিরুপদ্রব মানবতাকামী দেশকে তার পক্ষে আনতে ব্যর্থ হয়। প্রতিবেশী নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা ভোটদানে বিরত থাকায় সহজেই বোঝা যায়, বাংলাদেশের কর্তাব্যক্তিরা ‘পড়শি পহেলে’ এ কথাও বোঝেন না। অপর দিকে যে প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্ক হিমালয় পর্বত অতিক্রম করেছে বলে দাবি করা হয়, তাদের উচ্চারণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয় যে বাংলাদেশ ‘সবসে পিছে’। উল্লেখ্য, জাতিসঙ্ঘের থার্ড কমিটিতে গৃহীত প্রস্তাবটি গরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হলেও ১০টি দেশ প্রকাশ্যে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। এই দেশগুলো হচ্ছে- চীন, ভেনিজুয়েলা, রাশিয়া, জিম্বাবুয়ে, সিরিয়া, বেলারুশ, বুরুন্ডি, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও লাওস। আরো ২৬টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। কৌশল করে আরো ২২টি দেশ অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকে। অপর দিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিতে যে মুসলিম বিশ^ অবহেলিত, তারাই এ প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। সাধারণভাবে এ ধরনের মানবিক প্রস্তাবের বিপক্ষে এতগুলো রাষ্ট্রের ভোট দেয়ার কথা নয়। বিশ্ব সংস্থার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের ওই নেতিবাচক অবস্থান নিশ্চয়ই বাংলাদেশের কূটনৈতিক সফলতার প্রমাণ বহন করে না। নেইপিডোর যৌথ বিবৃতি বস্তুত একটি অকার্যকর কূটনৈতিক প্রয়াস। এতে মিয়ানমারের সদিচ্ছার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরে যেতে দ্বিপক্ষীয় কোনো সমঝোতা যে সুফল বয়ে আনবে না- আবার তা প্রমাণিত হলো। মিয়ানমারের ওপর কোনো আস্থা রাখা ঠিক হবে না। স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রেখেই সমস্যা সমাধানে সরকার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তার তাৎপর্য মিয়ানমারের মতো অস্বাভাবিক সরকারের পক্ষে কতটা অনুধাবন সম্ভব তা প্রশ্নসাপেক্ষ। অতীত প্রমাণ করেছে, তারা সৎ প্রতিবেশীমূলক সম্পর্কের সম্মান ধারণ করে না।

উভয় দেশের মধ্যে যে আস্থার সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে তা পূরণে মিয়ানমারের কোনো উদ্যোগ দৃষ্টিগোচর হয়নি। সুতরাং বাংলাদেশকে অব্যাহত চাপ প্রয়োগ কূটনীতি বা ‘কোয়ার্সিভ ডিপ্লোমেসির’ কার্যকর প্রয়োগে সমাধানের পথে এগোতে হবে। এ মানবিক ইস্যুতে পৃথিবীব্যাপী যে সহানুভূতি সৃষ্টি হয়েছে তা কাজে লাগাতে হবে। রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসনই জনগণের কাম্য।

লেখক : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
Mal55ju@yahoo.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫