মহম্মদপুরে আ’লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ : ২০ বাড়িঘর ও দোকান ভাঙচুর, লুট

মহম্মদপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ঘুল্লিয়া গ্রামে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই নেতার এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জেরে গত এক সপ্তাহে তিনটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত বুধবার সকালে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত ২০টি বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এ সময় পাঁচজন আহত হন। একটি পেঁপেবাগান ও কলাবাগানের তিন শতাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ ২০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পুলিশ এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একই গ্রামের পিকুল মোল্যার সাথে জাহাঙ্গীর হোসেনের দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছিল। তারা দুইজনই আওয়ামী লীগের কর্মী। দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে গত এক সপ্তাহে এই নিয়ে তিনবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।
গত বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় রউফ মোল্যার বাড়িতে হামলা ভাঙচুর ও লুটের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে উভয়পক্ষের সমর্থকেরা ঘুল্লিয়া এলাকায় সংঘর্ষে লিপ্ত হন। সংঘর্ষে ঘুল্লিয়া বাজারের কবির শেখ, কুদ্দুস শেখ, লাভলু মৃধা, জয়নাল ফকির, ওহাব মোল্যাসহ অন্তত আটটি ছোট-বড় দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। বক্কার শিকদার, হামিদ শিকদার, জাকির শিকদার, মহসিন শিকদার, রউফ মোল্যা, হাফিজার মোল্যা, আক্তার মোল্যার বাড়িসহ অন্তত ১২টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। বাজারের পাশে কাশেম শেখ নামে এক ব্যক্তির তিন বিঘা জমির পেঁপে ক্ষেতের ২০০টি পেঁপে গাছ এবং তার ভাই হাশেম শেখের কলাবাগানের শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলা হয়।
সরেজমিন গতকাল বিকেলে ঘুল্লিয়া বাজারে দেখা গেছে, দোকানপাটগুলো ভাঙাচোরা। দোকানের সামনে ভাঙা চেয়ার-টেবিল টেলিভিশন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সব দোকানপাট বন্ধ। বাজারে পুলিশ টহল দিচ্ছে। বাজারের পাশে ভাঙচুর হওয়া বাড়িঘরে লোকজন নেই। অনেকেই হামলা এড়াতে বাড়িঘর ছেড়ে চলে গেছেন। এলাকায় পুরুষ লোকজন তেমন দেখা যায়নি। বাজারের সাথে ঘুল্লিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসেনি বলে শিক্ষকেরা জানান।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী কবির শেখ কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি কোনো রাজনীতি করি না। গ্রামে বাস করি এটাই আমার অপরাধ। আমার দোকানের সব কিছু লুট করে নিয়ে গেছে। বাকি মালপত্র ভেঙে নষ্ট করা হয়েছে।’
মহম্মদপুর থানার ওসি (তদন্ত) নূরুজ্জামান জানান, ‘দুইপক্ষই আওয়ামী লীগের। কয়েক দিন ধরেই সেখানে মারামারি উত্তেজনা চলছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে আমরা ২০টি গুলি ছুড়েছি।’

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.