ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

প্রথম পাতা

জিয়া চ্যারিটেবল ও অরফানেজ মামলা

আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ : খালেদা জিয়া

মঈন উদ্দিন খান ও হাবিবুর রহমান

২৪ নভেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এই ট্রাস্টের সাথে আমার ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আমার নামটি জড়িয়ে এজাহারে যে জবানবন্দী দিয়েছেন, তা ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। স্বার্থান্বেষী মহলের নির্দেশেই তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অসত্য সাক্ষ্য দিয়েছেন।
রাজধানীর বকশিবাজার ঢাকা আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক ড. মো: আকতারুজ্জামানের আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে গতকাল বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ দিনের মতো বক্তব্য রাখেন বেগম খালেদা জিয়া। বক্তব্যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালতে আসেন খালেদা জিয়া। এরপর এক ঘণ্টারও বেশি সময় বক্তব্য রাখেন তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা হারুন-অর-রশীদ আমার বিরুদ্ধে কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই গত ২০০৮ সালের ২৫ জুন একটি মনগড়া অনুসন্ধান রিপোর্ট দাখিল করেন। তিনি নিরপে অনুসন্ধান না করে নিজেই দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করে একটি অসত্য রিপোর্ট দাখিল করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
খালেদা জিয়া বলেন, এই মামলার এজাহারকারী মো: হারুন-অর-রশীদ পিডব্লিউ-১ হিসেবে অত্র মামলায় স্যা দিয়েছেন। তার জবানবন্দীর কিছু অংশ আমাকে শুনানো হয়েছে। পিডব্লিউ-১ হারুন-অর-রশীদ মামলা দায়েরের আগে অনুসন্ধান কার্য করেছেন বলে দাবি করেন। তিনি গত ২৫/০৬/২০০৮ তারিখ একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করেন। তার আগে গত ১১/০৬/২০০৮ তারিখে দুদকের সহকারী পরিচালক মো: নুর আহাম্মদও একটি পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেই প্রতিবেদনে মো: নুর আহাম্মদ এই মামলায় আমার কোনোরূপ সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় আমার বিরুদ্ধে তিনি কোনো মতামত দেননি। অথচ মো: নুর আহাম্মদ এ রূপ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের পর সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে হারুন-অর-রশীদকে একই বিষয়ে পুনরায় অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয় এবং তিনি আমার বিরুদ্ধে কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই গত ২৫/০৬/২০০৮ তারিখে একটি মনগড়া অনুসন্ধান রিপোর্ট দাখিল করেন।
আদালতকে খালেদা জিয়া বলেন, এই দু’টি অনুসন্ধান রিপোর্ট পাশাপাশি পর্যালোচনা করলে আপনি দেখতে পাবেন অনুসন্ধান রিপোর্ট দু’টি ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি দাখিল করা সত্ত্বেও দু’টি রিপোর্টের ভাষা, বাক্য ও শব্দ চয়ন এক ও অভিন্ন। ১১/০৬/২০০৮ তারিখের রিপোর্টে সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক মো: আজিজুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় মর্মে একটি বাক্য রয়েছে। ২৫/০৬/২০০৮ তারিখের রিপোর্টেও সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক মো: আজিজুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় মর্মে অনুরূপ একটি বাক্য রয়েছে। দু’টি রিপোর্টের দু’টি বাক্যেই আজিজুল নামটি কেটে একই হাতে আজিজুলের ওপরে মফিজুল নামটি বসানো হয়েছে। দুইজন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দু’টি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দু’টি ভিন্ন ভিন্ন রিপোর্ট দাখিল করা হলে একই হাতের লেখায় একই নাম অনুরূপভাবে কাটাকাটি কী করে সম্ভব তা আপনি বিবেচনা করে দেখবেন। এতে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, সাী হারুন-অর-রশীদ কোনো নিরপে অনুসন্ধান না করে একটি মহল কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে আগের রিপোর্ট অর্থাৎ নুর আহাম্মদ কর্তৃক ১১/০৬/২০০৮ তারিখের রিপোর্টটিই হুবহু প্রিন্ট করে রিপোর্টের শেষাংশে শুধু আমার নামটি সংযোজন করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তা সাী হারুন-অর-রশীদ নিরপে অনুসন্ধান না করে নিজেই দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করে একটি অসত্য রিপোর্ট দাখিল করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। তাই এই সাীর স্যা আইনের দৃষ্টিতে অগ্রহণযোগ্য।
তিনি বলেন, ১১/০৬/২০০৮ তারিখের রিপোর্টে আমার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে কোনো প্রাথমিক অভিযোগ না পাওয়ায় পি ডব্লিউ-১ হারুন-অর-রশীদকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং বেআইনিভাবে আবার অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা-২০০৭ অনুযায়ী একই ব্যক্তি কর্তৃক বারবার কিংবা একই বিষয়ে বারবার অনুসন্ধান কিংবা প্রতিবেদন দাখিলের কোনো আইনগত বিধান নেই। পিডব্লিউ-১ হারুন-অর-রশীদ সম্পূর্ণরূপে একজন ইন্টারেস্টেড সাী। তিনি অতি উৎসাহী। আওয়ামী লীগ সরকারের আজ্ঞাবহ। এই মামলায় একই সাথে তিনি অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা, মামলার বাদি এবং তিনিই এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। তাই তিনি নিরপে কোনো অনুসন্ধান করেননি বা নিরপে কোনো তদন্তও করেননি।
খালেদা জিয়া বলেন, দুদকের উপসহকারী পরিচালক হিসেবে এই সাী গত ২৫/০৬/২০০৮ তারিখে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করেন। এই হারুন-অর-রশীদ ১৯৭৯ সালে অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে তৎকালীন ব্যুরো অব অ্যান্টিকরাপশনে যোগদান করেন বলে দাবি করেছেন। অথচ ১৯৭৯ সালের ব্যুরো অব অ্যান্টিকরাপশনের অর্গানোগ্রামে অ্যাসিস্ট্যান্ট নামের কোনো পদ বা পদবি ছিল না। এই অ্যাসিস্ট্যান্ট পদটি ব্যুরো অব অ্যান্টিকরাপশনে স্থান পায় ১৯৮৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। তাহলে ১৯৭৯ সালে অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে তার নিয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ ও অবৈধ। তার নিয়োগ অবৈধ হওয়ায় তিনি নিরপে অনুসন্ধান বা তদন্ত করার মতো তার কোনো নৈতিক মনোবল ছিল না। ফলে সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে তাদের নির্দেশিত মতে অনুসন্ধান ও তদন্ত করে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এই সাী ১৯৭৯ সালে অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগের পর বিভিন্ন কৌশলে ১৯৮৫ সালে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইন্সপেক্টর এবং ১৯৯২ সালে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি নেন। ২০০৫ সালে বিএনপি ও চারদলীয় জোট সরকারের শাসনামলে তাকে অযোগ্য হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশনে আত্তীকরণ না করে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। সেই অব্যাহতি আদেশের বিরুদ্ধে এই সাী হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করে হেরে যান। সেই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে লিভ টু আপিল ফাইল করে তিনি অদৃশ্য ইশারায় সেই লিভ টু আপিল প্রত্যাহার করে নেন এবং তার পরপরই ২০০৮ সালে তাকে সরাসরি উপসহকারী পরিচালক পদে দুর্নীতি দমন কমিশনে নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগের মাত্র দুই দিন পর এই মামলার অনুসন্ধানের দায়িত্ব তাকে দেয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, আমার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের সময়ের মধ্যেই তাকে পদোন্নতি দিয়ে সহকারী পরিচালক করা হয়। আর চার্জশিট দাখিলের পর ২০১২ সালে পুরস্কারস্বরূপ আবারো তাকে পদোন্নতি দিয়ে করা হয় উপপরিচালক।
খালেদা জিয়া বলেন, এ মামলার প্রথম সাক্ষী আদালতে দেয়া তার জবানবন্দীতে বলেছেন, ১৯৯১-১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে আমি নাকি প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল নামে চলতি হিসাব খুলি। সাীর এই বক্তব্য মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, রমনা করপোরেট শাখার হিসাব নং ৫৪১৬ খোলার ফরমে আমার কোনো স্বার নেই। অথবা বাগেরহাটে জিয়া মেমোরিয়াল ট্রাস্ট কিংবা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে টাকা বিলি বণ্টনের েেত্র কোনো ফাইলেও আমার স্বার নেই। এই নামে কোনো তহবিলও নেই। অথচ আমার নিজের ও দলীয় ভাবমূর্তি ুণœ করার উদ্দেশ্যে এই সাী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা জবানবন্দী দিয়েছেন।
তিনি বলেন, এই সাী সোনালী ব্যাংক, রমনা করপোরেট শাখা থেকে উপরোক্ত হিসাবের সব তথ্যবিবরণী কিংবা সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রার আপনার সামনে উপস্থাপন করেননি। ০২/০৬/১৯৯১ তারিখের পূর্বে সোনালী ব্যাংক, রমনা করপোরেট শাখায় কে ম্যানেজার ছিলেন, সেই তথ্যও আপনার সামনে আনেননি। ফরেন কারেন্সিতে রেমিট্যান্স আসলে কী কী তথ্য থাকা প্রয়োজন বা এ েেত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না কিংবা এ সংক্রান্ত লেনদেনের েেত্র আমার কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না সেসব বিষয়ে কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই আমার বিরুদ্ধে তিনি এজাহার দায়ের করেছেন। এই টাকার উৎস সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্যপ্রাপ্তি ছাড়াই এজাহার রুজু করেছেন।
তিনি বলেন, সাী হারুন-অর-রশীদ আমার কোনোরূপ সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া সত্ত্বেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সময়কালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সোনালী ব্যাংক, রমনা শাখায় প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল নামীয় একটি চলতি হিসাব খুলেন যার হিসাব নং-৫৪১৬ মর্মে এজাহারে সম্পূর্ণ মিথ্যা উক্তি করেছেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট সম্পূর্ণরূপে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও ওই প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রধানমন্ত্রীত্বের পদকে অহেতুক সম্পৃক্ত করে কিছু গোঁজামিল ও মিথ্যা বক্তব্য এজাহারে উল্লেখ করেন। এই সাক্ষী চেক নং- ৮৪৩১১০৩, তারিখ ১৩/১১/১৯৯৩ মূলে অনুদানের অর্থ হতে ২,৩৩,৩৩,৫০০/- টাকা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বগুড়ায় একটি এতিমখানা স্থাপনের নামে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অনুকূলে প্রদান করেন মর্মে প্রধানমন্ত্রীর পদ জড়িয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা উদ্দেশ্যমূলক ও মিথ্যা। আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিংবা আমি নিজে স্বার করে এরূপ কোনো চেক প্রদান করিনি। এই সাী আমাকে জড়িয়ে এজাহারে ও জবানবন্দীতে বলেছেন, আমি নাকি বিভিন্ন চেকের মাধ্যমে প্রাইম ব্যাংক, গুলশান শাখায় এফডিআর হিসাব খোলার নামে অর্থ স্থানান্তর করেছি। সাীর এরূপ অভিযোগ মনগড়া ও ভিত্তিহীন। তিনি ব্যক্তিগত ও চাকরি জীবনে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার আশায় এবং ক্ষমতাসীনদের অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এবং আমি ও আমার দলকে সামাজিক ও রাজনৈকিভাবে তিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে এরূপ মিথ্যা উক্তি এজাহারে উল্লেখ করেছেন এবং জবানবন্দী দিয়েছেন। তার এই মিথ্যা বক্তব্যের সূত্র ধরেই আমার প্রতিপ রাজনৈতিক দল জনসম্মুখে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আমার ভাবমূর্তি ুণœ করে চলেছে।
খালেদা জিয়া বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যে আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এতিম তহবিল সংক্রান্ত কোনোরূপ অনুদান গ্রহণের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম- এ রূপ কোনো বক্তব্য কোনো পর্যায়ে কোনো সাক্ষী দেয়নি। আমি প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল সংক্রান্ত কোনো অনুদান গ্রহণ বা বিতরণের সাথে সম্পৃক্ত ছিলামÑ এ রূপ সাক্ষ্য রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের কেউই বলেননি।
বক্তব্যের পর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার অভিযোগগুলো পাঠ করে আদালত খালেদা জিয়ার কাছে জানতে চান তিনি দোষী নাকি নির্দোষ? জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। এ মামলার কোনো কিছুর সাথে আমার সম্পৃক্ততা ছিল না। এরপর আদালত বলেন, আপনি কী কোনো বক্তব্য রাখবেন? জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, মাননীয় আদালত, আমি আত্মপ সমর্থনে বক্তব্য রাখব।
আদালত পুনরায় প্রশ্ন করেন আপনি কি এ বিষয়ে কোনো নথি উপস্থাপন করবেন? খালেদা জিয়া বলেন, প্রয়োজন হলে আমি কাগজপত্র সরবরাহ করব। আদালত জানতে চান সাফাই সাক্ষী দেবেন কি না? জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, দেবো।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বক্তব্য দেয়ার পর আদালত খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেন, আপনি ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় আত্মপ সমর্থনে আংশিক বক্তব্য দিয়েছিলেন। এরপর খালেদা জিয়াকে জিজ্ঞেস করেন, এই মামলায় যে অভিযোগ করা হয়েছে তাতে আপনি দোষী না নির্দোষ? উত্তরে খালেদা জিয়া বলেন, আমি সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ।
খালেদা জিয়ার বক্তব্য উপস্থাপন শেষে তার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আদালতে দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন স্থায়ী করার জন্য আবেদন করেন। তবে স্থায়ী জামিনের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। শুনানি শেষে আদালত জামিন স্থায়ী করার আবেদন খারিজ করে দেন এবং দুই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৩০ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।
আদালতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আইনবিদ জমিরউদ্দিন সরকার, মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, আবদুর রেজাক খান, জয়নুল আবেদীন, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমদ তালুকদার, বদরুদ্দোজা বাদল, জাকির হোসেন ভূঁইয়া প্রমুখ।
বিএনপি নেতাদের মধ্যে আদালতে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আবদুল আউয়াল মিন্টু, রুহুল কবির রিজভী, বরকতউল্লাহ বুলু, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আমান উল্লাহ আমান, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, খায়রুল কবীর খোকন, আফরোজা আব্বাস প্রমুখ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫