ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

ইসলামী দিগন্ত

রাসূলুল্লাহ সা: যেভাবে দাওয়াত দিতেন

প্রফেসর তোহুর আহমদ হিলালী

২৪ নভেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ০০:০০


প্রিন্ট

মানুষকে পথ দেখানো আল্লাহ পাকেরই দায়িত্ব। তিনি মানুষকে তাঁর নিজের প্রতিনিধি এবং ভালোমন্দ পার্থক্য করার মতো বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে সমগ্র সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তার পরও সঠিক পথের দিশা দানের ল্েয তাঁর নিজের প থেকে অসংখ্য নবী-রাসূলকে হেদায়াতসহ যুগে যুগে পাঠিয়েছেন। এটা মূলত প্রথম মানুষ আদম আ:-কে দেয়া তাঁর প্রতিশ্রুতিরই অংশ। মানুষের আদি বাসস্থান জান্নাত। শয়তানের প্ররোচনায় আল্লাহর নাফরমানি করার কারণে আদম ও শয়তান উভয়কেই পরীাস্বরূপ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এ দুনিয়ায় পাঠানো হয়। এটি মূলত কোনো শাস্তিভোগের জায়গা নয়, একটি পরীার স্থান এবং উত্তীর্ণ হতে পারলে আবার জান্নাতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবে। পৃথিবীতে চলে আসার সময় ভীত-সন্ত্রস্ত আদম আ:-কে আল্লাহ পাক অভয় বাণী শুনিয়েছিলেনÑ ‘আমার প থেকে যে হেদায়াত যাবে যারা তা অনুসরণ করবে তাদের কোনো ভয়ের কারণ নেই।’ তাঁরই প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সর্বশেষ নবী ও রাসূল হলেন আমাদের প্রিয়তম নবী মুহাম্মদ সা:।
মূলত মানুষ যখন গোমরাহির চরম সীমায় উপনীত হয় তখনই পথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ পাক নবী পাঠান। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা:-এর আগমনকালীন অবস্থা ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন। মারামারি-হানাহানি, যুদ্ধ-বিগ্রহ, খুন-ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই, ধোঁকা-প্রতারণা, আমানতে খেয়ানত, ওয়াদা-প্রতিশ্রুতি ভঙ্গসহ সব ধরনের অপরাধ সে সমাজে চালু ছিল। সেই সমাজে নারীজাতি ছিল চরম অবহেলিত, কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণকে তারা অপমান মনে করত এবং অনেক সময় কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দিত। সমাজে দাসপ্রথা চালু ছিল এবং হাটে-বাজারে গরু-ছাগলের মতো মানুষ কেনাবেচা হতো। সারা বিশ্বের চিত্র এমনই ছিল।
সে সময়ে সুপার পাওয়ার হিসেবে বিবেচিত রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্যে রাজতান্ত্রিক স্বৈরশাসন জারি ছিল। আর আরবে কোনো রাষ্ট্রীয় একক শাসন ছিল না; সেখানে নানা গোত্র ও বংশে মানুষ বিভক্ত ছিল এবং একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার লড়াইয়ে সর্বণ লিপ্ত থাকত। এমন অবস্থায় মানুষের হেদায়াতের জন্য আল্লাহ পাক তাঁর প্রিয়তম ও সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সা:-কে পাঠান। মক্কা নগরীর বিখ্যাত কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করে তিনি সেই সমাজে দীর্ঘ ৪০টা বছর অতিবাহিত করেন। স্বভাব-চরিত্র, আচার-আচরণে অন্যদের থেকে তিনি ছিলেন ব্যতিক্রম। মানবজীবনের সব সৎ গুণাবলির সমাবেশ ঘটেছিল তাঁর মধ্যে। সততা ও বিশ্বস্ততার কারণে তিনি আল-আমিন ও আস-সাদিক উপাধিতে ভূষিত হন। জনগণের আমানতের সংরক ও বিবাদ-বিসংবাদের তিনি ছিলেন মীমাংসাকারী। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজের অনাচার দূরীকরণে তিনি সচেষ্ট ছিলেন এবং যুবক বয়সে হিলফুল ফুজুল গঠন করে মজলুমের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। নবী হওয়ার আগ দিয়ে তিনি ছিলেন তাঁর জাতির সবচেয়ে সম্মানীয় ও মর্যাদাবান ব্যক্তি। সমাজ নিয়ে তিনি ভাবতেন, মানুষের দুঃখ-কষ্ট, ব্যথা-বেদনায় ব্যথিত হতেন। একপর্যায়ে তিনি লোকালয় থেকে আলাদা হয়ে ধ্যানমগ্ন থাকেন। হেরাগুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় তাঁর ওপর ওহি অবতীর্ণ হয়। তিনি পথের দিশা পান। আল্লাহর প থেকে মানুষকে সতর্ক করার জন্য ডাক আসে।
সমাজের কোনো সমস্যাকে পুঁজি করে তিনি মানুষকে ডাক দেননি। না পুরুষের বিরুদ্ধে নারীকে, না ধনীর বিরুদ্ধে দরিদ্রকে, না মনিবের বিরুদ্ধে দাসকে উসকিয়ে তাদের একত্র করেননি। বরং হাজারো সমস্যা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তিনি মানুষকে আহ্বান জানান, ‘হে দুনিয়ার মানুষ! তোমরা বলো, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাহলেই তোমরা সফলকাম হবে।’ এ দাওয়াত শুধু তিনি একা দেননি, বরং আল্লাহর প থেকে যত নবী-রাসূল এসেছেন সবারই দাওয়াত অভিন্ন ছিল। এই দাওয়াত যিনি পেশ করেছেন এবং যাদের কাছে পেশ করা হয়েছে সবাই এর মর্ম বুঝত। তাই তার প্রতিক্রিয়াও ছিল তাৎণিক। প্রথমে তিনি গোপনে দাওয়াত পেশ করেন এবং পরে আল্লাহর নির্দেশ আসে নিকটবর্তী আত্মীয়স্বজনকে সতর্ক করার জন্য। গোপন দাওয়াতে তারাই সাড়া দিয়েছেন যারা মুহাম্মদ সা:-কে খুব নিকট থেকে দেখেছেন। যেমনÑ হজরত খাদিজা রা:, হজরত আবু বকর রা: ও হজরত আলী রা: প্রমুখ। আল্লাহর নির্দেশের পরিপ্রেেিত প্রকাশ্যে দাওয়াত দানের ল্েয তিনি মানুষকে একটি পাহাড়ের পাদদেশে একত্র করে বলেন, ‘আমি যদি তোমাদের বলি এই পাহাড়ের অপর পাশে তোমাদের আক্রমণ করার জন্য এক সেনাবাহিনী ওঁৎ পেতে আছে। তোমরা কি তা বিশ্বাস করবে?’ সমস্বরে সবাই বলে ওঠে, ‘অবশ্যই। কারণ তুমি তো আল-আমিন ও আস-সাদিক, জীবনে কখনোই মিথ্যা বলোনি।’ তাহলে আমি তোমাদের এক ভয়াবহ আজাব সম্পর্কে সতর্ক করছি এবং তা থেকে রা পাওয়ার জন্য তোমরা সবাই মিলে বলোÑ ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাহলে তোমরা সফলকাম হবে।’ তাঁর আপন চাচা আবু লাহাব (মুহাম্মদ সা:-এর জন্মের খবর যে দাসী তাকে দিয়েছিল সে খুশি হয়ে তাকে মুক্ত করে দিয়েছিল) বলে ওঠেÑ ‘হে মুহাম্মদ, তোমার সর্বনাশ হোক! সাত-সকালে এই কথা শোনানোর জন্য আমাদের ডেকে এনেছ।’
এরপর তাঁর দাওয়াত দানের পরিধি বাড়তে থাকে এবং সাথে সাথে বাড়তে থাকে তাঁর ও তাঁর সাথীদের প্রতি জুলুম নির্যাতন। তিনি তাঁর জাতির সাথে কখনোই গাদ্দারি করেননি বা তাঁর চরিত্রে ছিল না সামান্যতম কোনো কালিমা। প্রশ্ন জাগে, এত ভালো এই মানুষটির সাথে শত্রুতার কারণ কী? জাতির একজন কল্যাণকামী হিসেবেই তো তিনি সবার কাছে পরিচিত এবং তিনি কেবল আল্লাহর একত্ববাদ, তাঁর উলুহিয়াত (সার্বভৌমত্ব) এবং রেসালাত ও আখেরাতে বিশ্বাসের দিকে মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তো সুদ-ঘুষ-জিনা-ব্যভিচার বা অন্য কোনো আচরণের বিরুদ্ধে বা কোনো আচার-অনুষ্ঠানের প্রতিও আহ্বান জানাননি। সব নবীর যে আহ্বান ছিল তিনিও একই আহ্বান তাঁর জাতির কাছে পেশ করেছেন। আসলে যাদের কাছে এই আহ্বান জানানো হয়েছে তারা বুঝেছে যে, এটা সাধারণ কোনো ধর্মীয় বাক্য নয়, এটা একটি বিপ্লবাত্মক স্লোগান, যার মধ্যে রয়েছে সমাজ পরিবর্তনের আহ্বান। তাই প্রথমেই বাধাটা আসে শাসক ও শোষকগোষ্ঠী থেকে এবং তাদের অনুগ্রহপুষ্ট ধর্মীয় ও কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর প থেকে। রাসূল সা:-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তিনি তাদের ধর্ম মানেন না এবং তাদের দেবদেবী ও আচার-অনুষ্ঠানকে মন্দ বলেন (আমাদের ভাষায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা) এবং পরিবারের মধ্যে অর্থাৎ পিতা-পুত্র, স্বামী-স্ত্রী ও ভাই-ভাই-এ বিভেদ সৃষ্টি করছেন। সে সময়ে সব বাধাবিপত্তি ও সমালোচনা-নিন্দাবাদ উপো করে তিনি শুধু ইতিবাচক কাজ করেন এবং সব নিপীড়ন-নির্যাতন নীরবে সহ্য করে গেছেন, কোনো একটির পাল্টা জবাব দেননি। এত প্রতিকূল অবস্থার মাঝে আল্লাহর কিছু বান্দাহ তাঁর ডাকে সাড়া দেন। তিনি আখেরাতের বিশ্বাসের ভিত্তিতে তাঁর সাথীদের পরিশুদ্ধ করেন, অর্থাৎ মৌলিক মানবীয় গুণে সজ্জিত করেন।
আমরা যদি মক্কী যুগের সূরাগুলো খেয়াল করি তাহলে দেখব, নানাভাবে সেখানে মানুষের মধ্যে তাওহিদ, রিসালাত ও আখেরাতে বিশ্বাসের সাথে নেক আমলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সূরা আছরে বলা হয়েছে, সবাই ধ্বংস ও তির মধ্যে নিমজ্জিত; তারা ছাড়া যারা ঈমান, নেক আমল ও অপরকে হকের পথে উদ্বুদ্ধ ও ধৈর্যধারণের তাগিদ দিয়েছে।
উপরের আলোচনায় আমরা স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি দাওয়াত দানের েেত্র রাসূল সা: স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছেন। অর্থাৎ তিনি মানুষের কাছে তাওহিদ, রিসালাত ও আখেরাতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এবং যারা সাড়া দিয়েছেন তাদের পরিশুদ্ধ করে তাদেরও দাওয়াতের কাজে ব্যবহার করেছেন। এই দাওয়াতের মধ্য দিয়ে যথার্থ পরিশুদ্ধির কাজটি সম্পন্ন হয়। তাঁদের কথা ও কাজে পুরোপুরি মিল ছিল এবং তাঁরা ছিলেন নিঃস্বার্থবান। কথা ও কাজে গরমিল আল্লাহর বড়ই অপছন্দনীয়। তাঁর জিজ্ঞাসাÑ ‘এমন কথা কেন বলো যা নিজেরা করো না? এটা আল্লাহর বড়ই ক্রোধ উদ্রেগকারী বিষয় যে, তোমরা যা বলো তা নিজেরা করো না।’ সব আম্বিয়ায়ে কেরাম ও তাঁদের সাথীদের চরিত্র এমনই ছিল। সূরা ইয়াছিনে বলা হয়েছেÑ ‘আনুগত্য করো সেই লোকদের যারা নিজেরা হেদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত ও কোনো বিনিময় আশা করেন না।’ দাওয়াত শুধু মৌখিক নয়, আমলি দাওয়াত হতে হবে। একজন দ্বায়ী ইলাল্লাহকে তার আচার-আচরণ, লেনদেন, কথাবার্তা, ব্যবসায়-বাণিজ্য, চাকরি সব েেত্র নিজেকে ইসলামের মূর্ত প্রতীক হিসেবে পেশ করতে হবে।
ইসলাম আমাদের কাছে বর্তমানে পূর্ণাঙ্গভাবে রয়েছে। মানুষের কাছে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরে নিজেদের জীবনে এর অনুসরণ এবং অন্যদের কাছে তা পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানাতে হবে। ইসলামকে সহজভাবে মানুষের কাছে পেশ করতে হবে। মানুষের যোগ্যতানুসারে আল্লাহর আদালতে বিচার হবে। সাধারণ মানুষের অবস্থানটা ইসলামের পে (অর্থাৎ ইসলামই শ্রেষ্ঠতম ব্যবস্থা এবং এর মধ্যেই মানবজাতির কল্যাণ এতটুকু বিশ্বাস) এবং মৌলিক ইবাদতে অভ্যস্ত হলেই তাদের জন্য জান্নাতের ফয়সালা আশা করা যায়। রাসূল সা:-এর কাছে একজন বেদুইন এসে ইসলাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ঈমানের সাথে নামাজ, রোজা, জাকাত ও হজ (ফরজ হলে) পালনের কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমি এর বেশিও করব না, কমও করব না।’ লোকটি চলে যাওয়ার পর রাসূল সা: বলেন, লোকটি সত্য বলে থাকলে সে জান্নাতি। কোনো দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য দু’টি শর্ত অপরিহার্য। একদল যোগ্য নেতাকর্মী যারা ঈমানের বলে বলিয়ান ও নেক আমলে সমৃদ্ধ হবে এবং দ্বিতীয়ত অনুকূল পরিবেশ অর্থাৎ জনগণ সক্রিয় বিরোধী না হয়ে ইসলামের পে হবে। মক্কায় প্রথম শর্ত পূরণ হলেও দ্বিতীয় শর্তটি না থাকায় একজন নবী ও রাসূল হওয়া সত্ত্বেও মুহাম্মদ সা:-এর পে ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। পান্তরে দু’টি শর্তই পূরণ হওয়ায় মদিনায় ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে।
দাওয়াত দানের েেত্র আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। মুহাম্মদ সা: তাঁর জাতিকে শুনিয়েছিলেন, তোমরা যদি এ দ্বীন গ্রহণ করো, তাহলে আরবের নেতৃত্ব তোমাদের হাতে চলে আসবে এবং সমগ্র দুনিয়া তোমাদের বশ্যতা স্বীকার করবে। দ্বীন গ্রহণের ফলে সাহাবায়ে কেরাম রা:-এর জীবন বড় সঙ্কীর্ণ হয়ে পড়েছিল। স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও ব্যবসায়-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দরিদ্র শ্রেণীর মুসলমানদের জীবন আরো কঠিন হয়ে পড়েছিল। রাস্তাঘাটে মারপিট, মন্দ কথা শোনা ছিল স্বাভাবিক ব্যাপার। অত্যাচার-নির্যাতনে জর্জরিত হয়ে একদিন তাঁরা খানায়ে কাবায় বিশ্রামরত রাসূল সা:-কে বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সা:! আমরা তো আর সহ্য করতে পারি না। আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। জবাবে রাসূল সা: বলেন, অতীতকালেও যারা আল্লাহর দ্বীন কবুল করেছিল তাদের কাউকে করাতে দ্বিখণ্ডিত ও কারো শরীর থেকে লোহার চিরুনি দিয়ে গোশত পৃথক করা হয়েছিল। তার পরও তারা দ্বীন থেকে বিচ্যুত হননি। সে দিন বেশি দূরে নয় যে দিন সানআ থেকে হাজরা মাউত এক ষোড়শী স্বর্ণালঙ্কারসহ একাকী হেঁটে যাবে তাকে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় করতে হবে না। রাসূল সা: তাঁর সাথীদের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন এবং তাঁরা পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের সাথে সেই স্বপ্ন পূরণের ল্েয দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আল্লাহও মুমিনদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, ঈমান ও নেক আমলে সমৃদ্ধ হলে জমিনে তিনি তাদের খেলাফত দান করবেন ও ভয়ভীতি দূর করে দেবেন (সূরা নূর ৫৫)। আর গোনাহসমূহ মা করে জান্নাতের ওয়াদা তো রয়েছেই। যারা জমিনে ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাদের অবশ্যই রাসূল সা: প্রদর্শিত পথেই অগ্রসর হতে হবে। অর্থাৎ মানুষের কাছে হেকমতের সাথে দ্বীনের দাওয়াত (আল্লাহর সার্বভৌমত্বের প্রতি) পৌঁছাতে হবে এবং যারা সাড়া দেবে তাদের পরিশুদ্ধ করতে হবে (মৌলিক মানবীয় গুণের অধিকারী হতে হবে)। ঈমান ও মৌলিক মানবীয় গুণে (নেক আমল) সমৃদ্ধ একটি জনগোষ্ঠী কোনো জনপদে থাকলে সহজেই তারা সাধারণ মানুষের মন জয় করতে পারে এবং এটা সম্ভব হলে আল্লাহ পাকও তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণে এগিয়ে আসবেন।
লেখক : শিক্ষাবিদ

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫