ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

অর্থনীতি

সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষ মিলে মজুরি পুনঃনির্ধারণের আহবান

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ নভেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৯:১৪


প্রিন্ট

‘গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য লিভিং ওয়েজ প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষ একসাথে বসে পোশাক শিল্প শ্রমিকদের জন্য যে নামেই হোক একটি মজুরি পুনঃনির্ধারণে আহ্বান জানিয়েছেন।

সিরডাপ মিলনাতয়নে ইন্ডাস্ট্রিআল গ্লোবাল ইউনিয়ন ও ইন্ডাস্ট্রিআল বাংলাদেশ কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগে আজ গোলটেবিল আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আইবিসি’র চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূইয়া।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইবিসি’র মহাসচিব মো. তৌহিদুর রহমান।

লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন আইবিসি’র সিনিয়র নেতা জেড. এম কামরুল আনাম।

অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্ডাস্ট্রিআল দক্ষিণ এশিয়া অফিসের রিজিওনাল সেক্রেটারি সিস্টার অপূর্বা কাইয়ার।

বক্তারা বলেন, ২০১৩ সালে গার্মেন্টস শিল্পে ৫,৩০০ টাকা মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল। তিন বছর পরে রিভিউ করার প্রভিশান থাকা সত্ত্বেও সে বিষয়ে কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতি, বাড়ি ভাড়ার ক্রমাগত চাপ, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রমিকদের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। অথচ ২০১৩ সাল থেকে এসব ক্ষেত্রে কি ধরনের মূল্য বৃদ্ধি, বাড়ি ভাড়া, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে সেটি কেউ হিসাব করছেন না। আমরা মনে করেছিলাম সরকার গুরুত্বের সাথে বিষয়টি বিবেচনা করবেন। আইবিসি ইতোমধ্যে সরকারের প্রতিমন্ত্রী ও বিজিএমইএ সভাপতি বরাবরে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের মাধ্যমে নতুন মজুরি ঘোষণা ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় মালিক এবং শ্রমিকপক্ষ মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হলেও অদৃশ্য কারণে সরকারের কতিপয় মন্ত্রীর অনাগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যা শান্তিপূর্ণ শিল্প সম্পর্ক বৃদ্ধির পরিপন্থী।

আইবিসি’র গবেষণায় একটি শ্রমিক পরিবারের জন্য মাসিক গড় খরচের পরিমান ১৯,২১৭ টাকা দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি সরকারের একজন পরিচ্ছন্ন কর্মী (সুইপার) ২০তম গ্রেডের মজুরি ১৫,২৫০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
আইবিসি’র গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেন, একজন রফতানিমুখী শিল্পের শ্রমিক যার শ্রমের মাধ্যমে দেশ অর্জন করে বৈদেশিক মুদ্রা, অর্থনীতি সচল রাখে সেই শ্রমিকের বেতন কতটুকু হওয়া প্রয়োজন তার হিসেব-নিকাশ অথবা সংখ্যা পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট সবার কাছে বিবেচনার জন্য ছেড়ে দেন।

গোলটেবিল আলোচনায় বিভিন্ন ব্র্যান্ড, এনজিও প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেরশনের কাজী সাইফুদ্দিন, ইথিকাল ট্রেডিং ইনসিয়েটিভের জামিল, এফিএস প্রতিনিধি অরুন্ধতী রাণী, ইনডিটেক্সের রেজাউল করিম, চীবো থেকে আবদুল্লাহ জাফর, ফেয়ার ওয়ার ফাউন্ডেশন থেকে বাবলু রহমান, কর্মজীবী নারী থেকে সানজিদা সুলতানা, বিসিডব্লিউএস’র কল্পনা আক্তারসহ আইবিসি’র হেদায়েতুল ইসলাম, রুহুল আমিন, হুমায়ুন কবির, সালাউদ্দিন স্বপন, নাজমা আক্তার, বাবুল আক্তার, চায়না রহমান, আরিফা আক্তার, তাহমিনা রহমান, কবিরুল হাসান, শহীদুল্লাহ বাদল, কামরুল হাসান, রাশেদুল আলম রাজু প্রমুখ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫