কর্মপরিবেশ সম্মিলনে দাবি

পোশাক খাতে নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ এখনও প্রশ্নবিদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

পোশাক খাতে শ্রমিকদের নিরাপদ ও নারীবান্ধব কর্মপরিবেশের বিষয়টি এখনও প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ মজুরি, নিরাপত্তা, ছুটি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, মাতৃত্বকালীন ছুটি, কর্মক্ষেত্রে আচরণ ও ক্ষতিপূরণের মত বিষয় নিয়ে সমস্যায় পরছেন শ্রমিকরা।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে একশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত ‘নারীবান্ধব ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ সম্মিলন’-এ এমন কথা বলেন গবেষক, শ্রমিক নেতা, উন্নয়নকর্মী ও সাধারণ শ্রমিকরা।

তাজরীন অগ্নিকাণ্ডের পাঁচ বছর পূর্তির প্রাক্কালে ‘সবার হোক অঙ্গীকার নিরাপদ ও নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ গড়ার’ স্লোগান নিয়ে এই আয়োজন করে একশনএইড বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে কথা বলেন তাজরিন দুর্ঘটনার শিকার আহত শ্রমিক সবিতা রানী।

তিনি বলেন, ‘২৪ নভেম্বর তাজরিনের তৃতীয় তলায় কাজ করছিলাম। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ফায়ার এলার্ম বাজা সত্ত্বেও কাজ চলছিল। আগুন লাগার পর নিচে এসে দেখি গেটে তালা দেয়া। আগুন থেকে বাঁচতে উপরে উঠতে অনেকের পায়ের নিচে পরলাম। মনে হচ্ছিল মারা যাচ্ছি। একটা ছেলের শার্ট ধরে কোনোভাবে প্রাণে বেঁচেছি।’

মানবাধিকার কর্মী হামিদা হোসেন বলেন, ‘দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমরা দেখেছি, দেশে আইন ও নিয়ম থাকলেও মালিকরা মানেন না। আবার যেসব মালিক শ্রমিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের বিচার হচ্ছে না। ফলে নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তায় যারা কাজ করছেন তাদের সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।

এদিকে বাংলাদেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ তাইয়েবুল ইসলাম বলেন, ‘একজন নারী শ্রমিক যদি মানসিক শান্তিতে কাজ করতে পারেন এবং তাকে যদি ভালো পরিবেশ দিতে পারি তবে আমাদের শিল্পের উন্নতি হবে। আসলে বিষয়টি অনেক কঠিন। কারণ এর সাথে নানা সামাজিক বিষয় জড়িত। এগুলোর সমাধান একটু কঠিন। সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে শ্রমিকেদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নে।’

ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তাজরিন বা রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পর সরকারসহ বিভিন্ন পক্ষ নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে বাস্তবতা হলো এখনও শ্রমিকরা, বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা, নিরাপদে কাজ করতে পারেন না। হয়রানির শিকার হন। অভিযোগ করে সমাধান না পাওয়ায় এখন কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন অনেক নারী শ্রমিক।’

আওয়াজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাজমা আক্তার বলেন, ‘কারখানার একজন শ্রমিক স্বাস্থ্যকর পরিবেশ পান না। ঘরে ভালো খাবার পান না। নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। এজন্য শ্রম আইনের যথাযত বাস্তবায়ন দরকার।’

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক লাইলা জেসমিন বানু বলেন, ‘সবিতা রানীর মত আহত শ্রমিকের দুর্বিষহ যন্ত্রণা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। আমরা চাই না কোনো শ্রমিক নির্মম দুর্ঘটনার শিকার হোক। তাই শ্রমিকদের নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নারী যদি নিরাপত্তা না পায়, ভালো খাবার না পায়, ভালো পরিবেশ না পায় তবে তার পরবর্তী প্রজন্ম খারাপ পরিস্থিতিতে পরবে। তাদের সন্তানরাও খারাপ পরিস্থিতিতে পরবে।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন একশনএইড বাংলাদেশের পরিচালক আসগর আলী সাবরী।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.