ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

কূটনীতি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের অনেক শর্ত

বিবিসি

২৩ নভেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৮:০২


প্রিন্ট
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের অনেক শর্ত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের অনেক শর্ত

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন আগামী দু'মাসের মধ্যে শুরু হবে।

মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের মধ্যে যে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়েছে তাতে একথা বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে এই সমঝোতা হয়।

রাখাইন থেকে গৃহচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে দুই দেশ গত কয়েক মাস ধরে আলোচনা চালাচ্ছিল বলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
এই সমঝোতাকে কূটনীতির ভাষায় ''অ্যারেঞ্জমেন্ট অন রিটার্ন অফ ডিসপ্লেসড পারসনস ফ্রম রাখাইন স্টেট'' বা রাখাইন রাজ্যের বাস্তুচ্যুত মানুষদের ফিরিয়ে আনার সমঝোতা বলে বর্ণনা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলের অফিসে সমঝোতার দলিল চূড়ান্ত হয়।
বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ. এইচ. মাহমুদ আলী এবং মিয়ানমারের পক্ষে ইউনিয়ন মিনিস্টার ইউ চ্য টিন্ট সোয়ে সমঝোতা দলিলে সই করেন।

এদিকে মিয়ানমারের সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাস্তু-চ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ঘটবে তাদের পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করার পর। বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৯২ সালে দুই দেশের পক্ষ থেকে যে যৌথ বিবৃতি দেয়া হয় তার মধ্যে এই বিষয়ে দিক নির্দেশনা এবং নীতিমালা ছিল।


রোহিঙ্গা সঙ্কটের আন্তর্জাতিকীকরণের বিরোধিতা করে মিয়ানমারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সমস্যা শান্তিপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধান করতে হবে।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই দেশের মধ্যে সর্বশেষ সমঝোতাকে 'উইন-উইন সিচুয়েশন' বা দু'পক্ষের জন্য বিজয় বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
তবে এব্যাপারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তরফে কোন প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি।
মিয়ানমারের রাখাইনে সাম্প্রতিক সহিংসতা শুরু হওয়ার পর প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

এর আগে থেকে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে আরো কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বাস করছে।

এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে : নিউইয়র্ক টাইমস

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত নৃশংসতা প্রশ্নে আগের অবস্থান পাল্টানোর ফলে রোহিঙ্গা নিধনের সঙ্গে জড়িত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কমান্ডারদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ সুগম হলো বলে নিউইয়র্ক টাইমসে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের এক বিবৃতিতে তিনি একথা কথা বলেন।


নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন একে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বাস্তুচ্যুত হয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে শরণার্থী হয়েছে। এটা জাতিগত নিধনযজ্ঞ।
টিলারসন মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর কর্মকা-ের দ্ব্যর্থহীন সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘টার্গেটেড’ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার প্রচেষ্টা চালাবে।


রেক্স টিলারসন বর্তমান সংকট সূত্রপাতে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর রোহিঙ্গা মিলিশিয়াদের হামলার কথা স্বীকার করে বলেন, কোনো উসকানিই এই লোমহর্ষক নৃশংসতাকে যৌক্তিকতা দিতে পারে না।
এ বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার পর রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করে মিয়ানমার। এ অভিযানের পর ৬ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

জাতিসংঘ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনযজ্ঞের অভিযোগ এনেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলছে, রোহিঙ্গারা মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর সমালোচনার মুখে মিয়ানমারের পাশে দাঁড়িয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দুই প্রভাবশালী সদস্য চীন ও রাশিয়া।

 

জাতিসঙ্ঘে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত ৫ দফা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের পাশে থাকবে কানাডা : সফরত কানাডিয় মন্ত্রী
 বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিজদেশে শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে জাতিসঙ্ঘে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত ৫ দফা বাস্তবায়নে কানাডা বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী ম্যারি ক্লদ বিবেয়্যু।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী’র সাথে আজ বৃহস্পতিবার তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতকালে সফররত কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী ম্যারি ক্লদ বিবেয়্যু একথা বলেন।

ম্যারি ক্লদ বলেন, ‘মিয়ানমার কর্তৃক বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে- যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে’।
রোহিঙ্গাদের মানবেতর জীবন যাপন সরেজমিনে পরিদর্শন করে মর্মাহত কন্ঠে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির কাছ থেকে যেভাবে শিক্ষা,স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে--তা নিন্দনীয় ও মানবতা বিরোধী অপরাধ’।
কানাডার মন্ত্রী বলেন, বঞ্চিত রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের সার্বিক উন্নয়নে ইতোমধ্যে কানাডা সরকার ২৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে- যা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির মানবিক অধিকার নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।


স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা দরিদ্র থেকে দরিদ্রতম জনগোষ্ঠি। রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্যে এগিয়ে আসায় তিনি কানাডা সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
বৈঠককালে তাঁরা সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৬৩তম কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্স(সিপিসি),রোহিঙ্গা ইস্যু, টেকসই উন্নয়ন ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

স্পিকার বলেন, কানাডার সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রয়েছে। সংসদীয় চর্চা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করে দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ৬৩তম সিপিসিতে কানাডার একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করায় কানাডা সংসদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় ৬৩তম সিপিসি সফলভাবে আয়োজন করায় স্পিকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান ম্যারি ক্লদ।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ‘বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে শতকরা ৭.২ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে চলেছে, যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে’।


নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপকে মাইল ফলক হিসাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নারী ও শিশুদের উন্নয়নে সংসদ সদস্যগণ নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভূমিকা রাখছেন। যৌতুক, বাল্যবিবাহ, মাতৃ মৃত্যু ও শিশু মৃত্যু হ্রাসে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে’।
বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার বেনেয়ট প্রিফন্টেইন এ সময় উপস্থিত ছিলেন ।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫