ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

ইতিহাসের নির্মম প্রতিশোধ

গোলাম মাওলা রনি

২৩ নভেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৭:১৭ | আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ০৬:৫০


গোলাম মাওলা রনি

গোলাম মাওলা রনি

প্রিন্ট

ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। অতীতকালেও যেমন কেউ ক্ষমা পায়নি, তেমনি অনাগত দিনেও কোনো ক্ষমার ঘটনা ঘটবে না। ক্ষমার কথা এলেই বিচারের প্রশ্ন আসে। বিচারে পক্ষ-বিপক্ষ থাকে। থাকেন বিচারক, উকিল-মোক্তার, সাক্ষী এবং কাঠগড়া। বিচারে সত্য-মিথ্যা, সওয়াল-জওয়াব ইত্যাদির পাশাপাশি থাকে আপিল করার সুযোগ। এত কিছুর পরও রয়েছে নানান ফাঁকফোকর, যা ভেদ করে দাগি আসামি যেমন খালাস পেয়ে যেতে পারেন, তেমনি নিরপরাধ লোকজন ঝুলে পড়তে পারেন ফাঁসির কাষ্ঠে। ক্ষমাসংক্রান্ত এত সব ব্যাখ্যা, বিবৃতি ও ঝক্কিঝামেলার কারণেই আমার কেন যেন মনে হয় ইতিহাস কোনো ক্ষমা করা, শাস্তি দেয়া বা বিচার করার ঝক্কিঝামেলায় জড়ায় না। ইতিহাস শুধু প্রতিশোধ নেয়। নির্মম ও ভয়ঙ্কর সব প্রতিশোধ

শিরোনাম প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়ার আগে একথা বলা অবশ্যক যে, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। অতীতকালেও যেমন কেউ ক্ষমা পায়নি, তেমনি অনাগত দিনেও কোনো ক্ষমার ঘটনা ঘটবে না। ক্ষমার কথা এলেই বিচারের প্রশ্ন আসে। বিচারে পক্ষ-বিপক্ষ থাকে। থাকেন বিচারক, উকিল-মোক্তার, সাক্ষী এবং কাঠগড়া। বিচারে সত্য-মিথ্যা, সওয়াল-জওয়াব ইত্যাদির পাশাপাশি থাকে আপিল করার সুযোগ। এত কিছুর পরও রয়েছে নানান ফাঁকফোকর, যা ভেদ করে দাগি আসামি যেমন খালাস পেয়ে যেতে পারেন, তেমনি নিরপরাধ লোকজন ঝুলে পড়তে পারেন ফাঁসির কাষ্ঠে। ক্ষমাসংক্রান্ত এত সব ব্যাখ্যা, বিবৃতি ও ঝক্কিঝামেলার কারণেই আমার কেন যেন মনে হয় ইতিহাস কোনো ক্ষমা করা, শাস্তি দেয়া বা বিচার করার ঝক্কিঝামেলায় জড়ায় না। ইতিহাস শুধু প্রতিশোধ নেয়। নির্মম ও ভয়ঙ্কর সব প্রতিশোধ। মহাকালের সাক্ষী গোপাল হয়ে থাকা ইতিহাসের একটি নির্মম প্রতিশোধের কাহিনী নিয়েই আজকের নিবন্ধটি রচিত হয়েছে।

আলোচ্য কাহিনীটি প্রাচীন দুনিয়ার প্রভাবশালী এক রাজার। মহামতি হিরোডোটাস তার বইয়ে এই রাজার নাম অস্তাইজেস বলে উল্লেখ করেছেন। তার রাজ্যের নাম ছিল মিডিয়া, যা কি না রীতিমতো বিরাটাকায় এক সামাজ্য ছিল। বর্তমান উত্তর-পশ্চিম ইরান, ইরাকের মেসোপটেমিয়া অঞ্চল, হামাদান-কারমানশাহ (ইকবাতানা) প্রভৃতি অঞ্চল নিয়ে প্রাচীন দুনিয়ায় মিডিয়া সাম্রাজ্য নানা কারণে বেশ প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিল। রাজা অস্তাইজেসের বাবার নাম সিয়াক্সারেস, যাকে ইতিহাসে মহান রাজা বা গ্রেট কিং উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। দুনিয়ার প্রচলিত অদ্ভুত এক প্রাকৃতিক কালা-কানুন হলো- বড় বড় মানুষের ঘরে প্রায়ই বজ্জাত এবং কুল্লাঙ্গার প্রকৃতির সন্তান জন্ম নেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ভালো মানুষের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও অস্তাইজেসের মন্দ কর্মের সীমা-পরিসীমা ছিল না। বাবার রেখে যাওয়া বিশাল সাম্রাজ্য, অফুরন্ত রাজকোষ, শক্তিশালী সেনাবাহিনী এবং অনুগত রাজকর্মচারীর ওপর কর্তৃত্ব লাভ করার পর অস্তাইজেস তাই শুরু করলেন, যা সাধারণত কুলাঙ্গার রাজকুমারেরা করে থাকেন। মানব চরিত্রের বিশ্রী ও মন্দসব অভ্যাস, আচার-আচরণ ও কর্থাবার্তা দ্বারা তিনি দেশবাসীকে অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশাময় এক রাজনৈতিক জীবন উপহার দিলেন। তার অত্যাচার, জুলুম, ভোগ-বিলাস, লোভ-লালসা ইত্যাদির বিরুদ্ধে মুখ খোলার মতো একজনও সাহসী মানুষ রাজ্যে ছিল না। নির্যাতিত মজলুমের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারেন এমন কোনো সেনাপতি বা রাজন্য মিডিয়া সাম্রাজ্যের আশপাশে ছিল না। এ অবস্থায় মজলুমেরা তাদের ফরিয়াদ আসমানের মালিকের কাছে জানাতে থাকেন।

ইতিহাসের একটি প্রধানতম সূত্র হলো- জমিনে যদি ন্যায়বিচার ও সুশাসনের পথ রুদ্ধ করে দেয়া হয় তবে প্রকৃতির পক্ষ থেকে অলৌকিকভাবে সেই পথ খুলে দেয়া হয় এবং জুলুমবাজের পতন ঘটানো হয়। এ ক্ষেত্রে ইতিহাসের আরেকটি সূত্র হলো- জালিম যত পরাক্রান্ত হয় তার পতনও হয় ততো অভিনবভাবে, যা মানুষের মন মস্তিষ্ক কল্পনাও করতে পারে না। ক্ষুদ্র জিনিস দিয়ে বা একান্ত আপনজনদের দ্বারা অথবা নিজের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য ছায়াসঙ্গী দ্বারা পৃথিবীর বহু অপ্রতিরোধ্য নির্মম ও নিষ্ঠুর রাজা-বাদশাহ, জাহেল-জালেম, ডাকু-বদমাস ও নাফরমান পাপীকে ধ্বংস করা হয়েছে। হিন্দু পৌরাণিক বাহিনীর কংশবধ এবং দেবতা কৃষ্ণের উত্থানসংক্রান্ত উপকথাÑ তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে অথবা ইতিহাসের অত্যাচারী বাদশাহ নমরুদের একটি মশার আক্রমণে মারা যাওয়ার কাহিনী যেমন যুগ যুগান্তরে মানুষের মুখে মুখে ফিরছে, তেমনি ফেরাউন, কারুন, হামান, জালুত প্রমুখের কাহিনীও ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।

ইতিহাসে যেসব রাজনৈতিক বিপর্যয় প্রাকৃতিক কারণে হয় সেখানে বলতে গেলে বারংবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। যেমন- রাজা বা শাসক আল্লাহ-খোদা-ভগবান-কিংবা শ্রষ্টা যে নামেই ডাকিনা কেন সেই নিরাকার মালিকের অবাধ্য হয়ে পড়েন। তারা কেউ কেউ নিজেকে আল্লাহর দাবি করে বসেন- কেউ বা আল্লাহর অবতার, নবী বা রাসূলও দাবি করেন। অনেকে আল্লাহকে অস্বীকার করার পাশাপাশি জমিন থেকে আল্লাহর আইন উঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালান। তারা জুলুম-অত্যাচার, জেনা-ব্যাভিচার ইত্যাদি অপকর্মের সাথে দম্ভ, অহঙ্কার, মিথ্যাচারের সম্মিলন ঘটিয়ে জমিনে হাহাকারের অগ্নিঝড় প্রবাহিত করে দেন। মানুষের আহাজারি তখন তাদের কাছে সঙ্গীতের মতো ছন্দময় সুরের ঝঙ্কার বলে মনে হয়। মানুষের মৃত্যু ঘটানোকে তারা সফলতার চাবিকাঠি এবং মনুষ্য রক্তকে উৎসবের উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করতে আরম্ভ করেন।

পরিস্থিতি যখন দুনিয়ার মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, ঠিক তখনই ইতিহাসকে সাক্ষী রেখে প্রকৃতি এগিয়ে আসে আপন মহিমায় প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য যাকে আমরা বলি ইতিহাসের ক্ষমা না করা বা ইতিহাসের প্রতিশোধ। কোনো জালেম যখন ইতিহাসের প্রতিশোধের আওতায় চলে আসেন তখন তার মধ্যে প্রচণ্ড সন্দেহবাতিক আরম্ভ হয়ে যায়। সে সবাইকে সন্দেহ করতে আরম্ভ করে। যেখানে সন্দেহের কোনো কারণ নেই সেখানেও সে সন্দেহের উপকরণ খুঁজে বের করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করে। সে কাউকে বিশ্বাস করে না এবং সবাইকে শত্রু বানিয়ে তারপর সেই শত্রুদের কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অদ্ভুত সব নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অস্থিরতা, দাঙ্গা-ফ্যাসাদ, কটুবাক্য প্রয়োগ এবং গোপন ও প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা না করলে তার ঘুম হারাম হয়ে যায় এবং পেটের ভাত হজম হয় না।

আমাদের আজকের কাহিনীর নায়ক রাজা অস্তাইজেসের অবস্থাও তেমনটি হয়ে গিয়েছিল। যেমনটি ততক্ষণ বর্ণনা করলাম। তার ছিল অনিন্দ সুন্দরী এক রাজকুমারী। নাম মেনদানি যার উপাধি ছিল প্রিন্সেস অব মিডিয়া এবং প্রথম ক্যামবিসের মহারানী। তবে তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিচয় হলো পৃথিবীর সর্বকালের অন্যতম সেরা সম্রাট এবং দুনিয়ার সর্বকালের সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্যের অধিপতি সাইরাস দ্য গ্রেটের রতœগর্ভা মা হিসেবে। মেনদানির কাহিনীটির সাথে প্রায় হুবহু মিল রয়েছে দেবতা কৃষ্ণের মা বলে খ্যাত দেবকী এবং পিতা বাসুদেবের কাহিনীর সাথে। একটি ঘটেছিল আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে- আমাদের ভারতবর্ষে। আর অন্যটি ঘটেছিল মিডিয়া বলে খ্যাত ইরানের উত্তর-পশ্চিমাংশের ভূখণ্ডে- প্রথম ঘটনার চব্বিশ শ’ বছর পর অর্থাৎ আজ থেকে ছাব্বিশ শ’ বছর আগে।

রাজকুমারী মেনদানি যখন বিবাহ উপযুক্তা হলেন তখন অস্তাইজেস মারাত্মক আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়লেন। একমাত্র মেয়ের হবু জামাই নিশ্চিতভাবে সিংহাসনের অধিকারী হবেন; কিন্তু তার মৃত্যুর আগে যদি জামাই বিদ্রোহ করে বসে তবে কী হবে এমন চিন্তা করে অস্তাইজেসের অস্থিরতা বেড়ে গেল। বহু চিন্তা করে এবং রাজ জ্যোতিষীর পরামর্শে তিনি অবশেষে মেয়ের বিয়ে দিলেন প্রথম ক্যামবিসেস নামের একজন সাদাসিদা-গোবেচারা এবং নিতান্ত ভালো মানুষ বলে সর্বমহলে পরিচিত এক রাজকুমারের সাথে। জামাই তার পূর্বপরিচিত ছিল কারণ তারই অধীন একটি সামন্ত রাজ্যের অধিপতি ছিলেন জামাইয়ের বাবা প্রথম সাইরাস (সাইরাস দ্য গ্রেটের দাদা) যিনি একই সাথে অস্তাইজেসের বন্ধুও ছিলেন বটে।

মহা জাঁকজমকের সাথে রাজকুমারী মেনদানির বিয়ে সম্পন্ন হলো এবং নববধূকে নিয়ে রাজকুমার ক্যামবিসেস নিজ রাজ্যে ফিরে এলেন। ওই দিকে শ্বশুর অস্তাইজেস খাওয়া-দাওয়া হারাম করে দিনরাত শুধু আশঙ্কা করতে লাগলেন কখন তার মেয়ের জামাই তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসেন। এরই মধ্যে কোনো এক রাতে অস্তাইজেস অদ্ভুত রকমের ভয়ঙ্কর এবং ইঙ্গিতবহ একটি স্বপ্ন দেখতে পেলেন। রাজ জ্যোতিষীরা জানালেন যে, রাজকুমারী মেনদানির গর্ভজাত সন্তান কর্তৃক অস্তাইজেস সিংহাসনচ্যুত হবেন এবং হত্যাকাণ্ডের শিকার হবেন। জ্যোতিষীদের ভবিষ্যৎবাণী শোনামাত্র অস্তাইজেস জামাই-মেয়েকে নিজের রাজপ্রাসাদে নিয়ে এলেন এবং উভয়ের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ করে দিলেন। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞার আগেই রাজকুমারী সন্তান সম্ভবা হয়ে পড়েছিলেন। নির্ধারিত দিনে রাজকুমারী সন্তান প্রসব করলে রাজা অস্তাইজেস প্রসূতি মেয়ের কোল থেকে নবজাতককে ছিনিয়ে নেন এবং সেনাপতি হারপাগাসের হাতে শিশুটিকে তুলে দিয়ে নির্দেশ জারি করেন দূরে কোথাও নিয়ে জীবন্ত কবর রচনা করে ভবিষ্যৎ হন্তাকে শেষ করে দেয়ার জন্য।

সেনাপতি হারপাগাস শিশুটিকে হত্যা করে রাজরক্তে- আপন হাত রঞ্জিত করতে চাইলেন না। তিনি একজন তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করে শিশুটিকে গোপনে লালন-পালনের সিদ্ধান্ত নিলেন এবং শিশু হত্যার একটি কাহিনী রচনা করে রাজা অস্তাইজেসকে খুশি করার চেষ্টা করলেন। এভাবে প্রায় বছর দশেক পার হয়ে গেল। একদিন সেনাপতি হারপাগাস রাজকুমারী মেনদানি ও রাজা ক্যামবিমেসের প্রাসাদে বেড়াতে গেলেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পেলেন যে, রাজদম্পতির অন্য কোনো সন্তান ভাগ্য হয়নি। তারা এখনো তাদের প্রথম সন্তানের জন্য হররোজ অনবরত কান্নাকাটি করেন। এই অমানবিক দৃশ্য দেখার পর হারপাগাসের মন গলে গেল। তিনি রাজকুমারী মেনদানির কাছে আসল ঘটনা খুলে বলেন এবং বিষয়টি গোপন রাখার শর্তে তার সন্তানকে ফেরত দিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে গোয়েন্দাদের মাধ্যমে অস্তাইজেস এই ঘটনা জেনে যান। সেনাপতি হারপাগাস আপন রাজ্যে ফিরে এলে রাজা তার সাথে খুব স্বাভাবিক আচরণ করেন এবং নিজের ক্ষোভ সম্পূর্ণ গোপন রেখে হার পাগাসের সাথে আরো নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেন।

একদিন কোনো একটি বিশেষ উপলক্ষে অস্তাইজেস সেনাপতি হারপাগাসকে নৈশভোজের জন্য নিজের শাহী প্রাসাদে নিমন্ত্রণ জানান। রাজা স্বয়ং খাবার টেবিলে বসে নিজ হাতে হারপাগাসকে আপ্যায়ন করতে থাকেন। একটি বিশেষ ধরনের মাংস বিশেষ উপায়ে রান্না করে সেনাপতিকে পরিবেশন করা হয়। তারপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় কেমন লাগল! হারপাগাস উত্তরে জানালেন চমৎকার। অভূতপূর্ব! রাজা বললেন, জানতে চাও কিসের মাংস! হারপাগাস কৃতজ্ঞ দৃষ্টি মেলে রাজার পানে চেয়ে বললেন, আপনার যদি দয়া হয়! রাজা হাতে তালি বাজালেন। দু’জন প্রহরী একটি স্বর্ণনির্মিত পাত্রে কিছু একটা এনে হারপাগাসের সামনে রাখল। ঢাকনা উল্টানোর পর দেখা গেল হারপাগাসের একমাত্র কিশোর পুত্রের মস্তক সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় রয়েছে। রাজা অস্তাইজেস মুচকি হেসে বললেন, এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছ কার মাংস এবং কিসের মাংস। মাথা নিচু করে অশ্রুসজল নয়নে হারপাগাস বললেন, জ্বি আমার প্রভু! আমি বিলক্ষণ বুঝতে পেরেছি। রাজা আবার বললেন, এবার বলো মাংস খেতে কেমন লাগল! উত্তরে হারপাগাস বললেন, অদ্ভুত রকমের সুন্দর। রাজা বলে উঠলেন- তাহলে বাকিটা শেষ করো।

রাজপ্রাসাদ থেকে বের হয়ে হারপাগাস পালিয়ে রাজকুমারী মেনদানি এবং ক্যামবিসেসের রাজ্যে চলে গেলেন। তাদেরকে সব ঘটনা খুলে বলে এই নির্মম ঘটনার প্রতিশোধ নিতে চাইলেন। তারা হারপাগাসকে দায়িত্ব দিলেন তাদের রাজপুত্র সাইরাসের সামরিক শিক্ষক হিসেবে। এর পরের ঘটনা বিশ্ববাসী খুব ভালো করেই জানেন। ক্যামবিসেসের মৃত্যুর পর সাইরাস সিংহাসনে বসেন ৫৫৯ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে। এরপর ৫৫৩ খ্রিষ্টাব্দের আগে তিনি হারপাগাসের পরামর্শে অস্তাইজেসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসেন। এক নাগারে তিনটি বছর বিভিন্ন যুদ্ধ ক্ষেত্রে একের পর এক জয় লাভের পর পাসারগাদাই যুদ্ধ ক্ষেত্রে চূড়ান্তভাবে অস্তাইজেসকে পরাজিত এবং বন্দী করতে সমর্থ হন এবং ইতিহাসের বুকে অনন্য এক প্রতিশোধের উপাখ্যান খুদিত করে রেখে যান বিশ্ববাসীর শিক্ষার জন্য।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫