গয়ালে চমক এরশাদের
গয়ালে চমক এরশাদের

গয়ালে চমক এরশাদ মাহমুদের

বাসস

কঠোর পরিশ্রম ও ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে একটি ভিন্নধর্মী প্রাণী গয়ালের খামার গড়ে তুলে সফল হয়েছেন চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শিক্ষিত যুবক এরশাদ মাহমুদ। গতানুগতিকতাকে ডিঙিয়ে অনেকটা বিলুপ্ত প্রজাতির এই প্রাণীটির খামার গড়ে তুলে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

রাঙ্গামাটির গহীন বনের এক উপজাতীয় পরিবার থেকে ২০০৮ সালে মাত্র ৩টি গয়াল কিনে রাঙ্গুনিয়ার সুখবিলাস পাহাড়ি এলাকায় খামার শুরু করেন এরশাদ। বর্তমানে তার খামারে গয়ালের সংখ্যা ৪৯টি। কয়েক বছরে ৪০টি বিক্রিও করেছেন।
গয়ালের ওজন বেশি, তাই মাংসও পাওয়া যায় ভালো। দেশীয় গরুর ওজন ২ শ' থেকে ৪ শ' কেজি হয়। কিন্তু প্রতিটি গয়ালের গড় ওজন ৬-৭ শ' কেজি পর্যন্ত। ১০-১১ মাস গর্ভধারণের পর মাদি গয়াল একটি বাচ্চার জন্ম দেয়। তবে গাভীর মতো এদের ওলান নেই। স্তনবৃন্ত ছোট হওয়ায় এদের থেকে কখনো দুধ দোহানো যায় না। একটি সুস্থ সবল গয়াল ১৫-১৬ বছর বাঁচে। কম চর্বিযুক্ত গোশতের কারণে প্রতিটি গয়াল দেড়-দুই লাখ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হয়। গরু-মহিষের চেয়ে বেশি গোশত হওয়ায় গয়ালের চাহিদা বাড়ছে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, ‘গয়াল দেশের একটি অমূল্য সম্পদ। পার্বত্যাঞ্চলের গভীর অরণ্যে গরুর বিশেষ এই প্রজাতিটি রয়েছে। রাঙ্গুনিয়ার সুখবিলাসে প্রায় বিলুপ্ত প্রাণী গয়ালের খামার গড়ে তোলা আমাদের জন্য দারুণ একটি সুখবর। এরশাদ মাহমুদের খামার দেখাদেখি এলাকার অনেক যুবক উদ্বুদ্ধ হয়েছে গয়াল পালনে।

সুখবিলাস শাকিলা পাহাড় এলাকায় গড়ে তোলা গয়ালের খামারের পাশে গোবর থেকে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট তৈরি করা হয়েছে। বায়োগ্যাসের উচ্ছিষ্ট গোবর মাছের খাবার হিসেবে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মৎস্য প্রজেক্টে দেয়া হচ্ছে। গয়াল ও বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের জন্য এরশাদের খামারে রয়েছেন ৬ জন কর্মচারী। তিনি নিজেও খামারে এসে গয়ালের পরিচর্যা করেন। এ বছর তিনি তিনটি মাঝারি গয়াল বিক্রি করেছেন ৪ লাখ ৩২ হাজার টাকায়।

সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি’র ছোট ভাই স্নাতক পাশ খামারী এরশাদ মাহমুদ এখন চট্টগ্রামের যুব সমাজের অনুকরণীয় ব্যক্তি- যুব সমাজের আইডল। তিনি ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মৎস্য খামারির পুরস্কার গ্রহণ করেন।

খামারী এরশাদ মাহমুদ জানান, ‘একসময় গয়াল বন্যপ্রাণী হিসেবে বিবেচিত হতো। পরে বনবিভাগ গয়ালের ওপর থেকে বন্য প্রাণীর পরিচিতি তুলে নিয়ে এটিকে গৃহপালিত গবাদিপশু হিসেবে ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে পশুটির বাণিজ্যিক পালন শুরু হয়। বাণিজ্যিক উৎপাদনের পর থেকে ধীরে ধীরে গয়ালের চাহিদাও বেড়ে চলে। জেয়াফত, মেজবানি, ওরসসহ সামাজিক অনুষ্ঠানে গয়ালের চাহিদা বেড়েছে। সম্প্রতি ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ হওয়ায় গয়ালের প্রতি ঝোঁক বেড়েছে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে।’

চট্টগ্রাম জেলার সাবেক প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুল হাই জানান, ‘গয়াল আসলে পুরোপুরি বনগরু নয়। যেহেতু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এরা পাহাড়িদের পোষা গাভীর গর্ভজাত, তাই চেহারা অনেকটা গাইরের মতো হলেও স্বভাবে বেশ শান্ত। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে গয়াল প্রজনন খামার ও গবেষণা কেন্দ্রে এদের রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণা করছেন। রাঙ্গুনিয়ায় ব্যক্তি পর্যায়ে প্রায় বিলুপ্ত প্রাণী গয়ালের খামার গড়ে তোলার খবর অবশ্যই আমাদেরকে উৎসাহিত করে।’

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘দেশে এখন গরু-মহিষের দাম বেড়ে গেছে, দেশীয় উৎপাদনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এই সময়ে মাংসের চাহিদা পূরণে গয়ালের খামার গড়ে তোলা একটি ভালো পন্থা। গয়ালের গোশত কোলেস্টেরল কম হওয়ায় এটি মানবদেহের জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ।’

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.