ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

অপরাধ

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় জীবন দিতে হলো জিদানকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ নভেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৫:১০


প্রিন্ট
খুন

খুন

বিভিন্ন সময় জিদানকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল হাফেজ আবু বকর। কিন্তু জিদান এতে রাজি হচ্ছিল না। তা ছাড়া আবু বকর মাদরাসায় সিনিয়র ছাত্র হওয়ায় জিদানকে প্রায়ই ব্যক্তিগত কাজ করার আদেশ দিত। জিদান তাও শুনত না। একপর্যায়ে তাদের এই মনোমালিন্য মাদরাসার হুজুর পর্যন্ত গড়ালে হুজুর আবু বকরকে সতর্ক করে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জিদানকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় আবু বক্কর। গতকাল সকালে সদরঘাট থেকে গ্রেফতার হওয়া আবু বকর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে এসব জানিয়েছে। বুধবার বিকেলে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান এসব কথা বলেন।

এর আগে সোমবার সকালে গুলিস্তান মাদিনাতুল উলুম মাদরাসার ভেতর থেকে হেফজ বিভাগের ছাত্র জিদানের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই পলাতক থাকে ওই মাদরাসারই ছাত্র আবু বক্কর। এ কারণে হত্যাকাণ্ডের জন্য সবাই তাকে সন্দেহ করে আসছিল।

এমরানুল হাসান বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসছিল জিদান ও আব বকরের দ্বন্দ্ব। এর মধ্যে এক দিন কথা না শোনায় জিদানকে চড়-থাপ্পড় মারে আবু বকর। ওই ঘটনায় শিক্ষকদের কাছে বিচার দেয় জিদান। পরে মাদরাসার শিক্ষক ইয়াছিন বিষয়টির মীমাংসা করে দেন। কিন্তু তাদের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠেনি। উল্টো জিদানের ঘনিষ্ঠতা ও চলাফেরা বাড়ে মাদরাসার হেফজ বিভাগের অন্য শিক্ষার্থী আবদুর রহমানের সাথে। এতে আবু বকরের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তার সন্দেহ ছিল, জিদানের সাথে আবদুর রহমানের ‘অনৈতিক’ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে।

তিনি জানান, গত ১৬ নভেম্বর আবারো জিদান হুজুরের কাছে আবু বকরের বিরুদ্ধে নালিশ দেয়। এর পর থেকে আবু বকর জিদানকে হত্যার চক্রান্ত করতে থাকে। এমনকি সে তার ফল কাটা ছুরিতে শান দিয়ে রাখে। ওই রাতে সবাই খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে সুযোগের সন্ধানে বিছানায় অপেক্ষা করতে থাকে। রাত দেড়টায় আবু বকর তার ট্রাংক থেকে ফল কাটার ছুরিটি বের করে জিদানের মুখ চেপে ধরে গলায় একাধিক আঘাত করে। এ সময় জিদান গোংগানীর শব্দ করলে আবু বকর জোরে তার মুখ চেপে ধরে পুনরায় আঘাত করে। জিদানের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সে কোলে করে জিদানের লাশ সেপটিক ট্যাংকের কাছে নিয়ে যায় এবং ভেতরে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।

র‌্যাব জানায়, জিদান হত্যার পর পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও ছায়া তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে আবু বকরের আত্মীয়স্বজনদের মোবাইল ফোন ট্রাক করতে থাকে র‌্যাব। তাতে নিশ্চিত হওয়া যায় আবু বকরের অবস্থান। অবশেষে গতকাল সদরঘাট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বালিয়াকান্দিতে ৩ ছাত্রকে পেটানোয় শিক্ষক বরখাস্ত

বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের জামসাপুর হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার তিন ছাত্রকে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করায় শিক্ষক জালাল উদ্দিনকে বরখাস্ত ও চার হাজার টাকা জরিমানা করেছে কর্তৃপক্ষ। আহত তিন ছাত্রকে মঙ্গলবার রাত ৮টায় বালিয়াকান্দি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই শিক্ষককে গতকাল সকালে ম্যানেজিং কমিটি চাকরিচ্যুত করাসহ তিন ছাত্রের চিকিৎসা খরচ বাবদ চার হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বালিয়াকান্দি ইউনিয়নের পাইককান্দি গ্রামের মরহুম শহীদ শেখের ছেলে রাহুল শেখ (১২), নারুয়া ইউনিয়নের জামসাপুর গ্রামের ফরিদ কাজীর ছেলে আব্দুল্লাহ কাজী (১২), চরঘিকমলা গ্রামের আলেক মণ্ডলের ছেলে তাজমুল মণ্ডল (১২)।


হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্ররা জানায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মাদরাসায় দেরিতে যাওয়ায় তাদেরকে মাদরাসার হুজুর জালাল উদ্দিন বাঁশের কঞ্চি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন। স্থানীয় লোকজন চিৎকার শুনে মারাত্মক আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে ভর্তি করে তাদের।
এ ব্যাপারে ওই শিক্ষকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫