ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

অর্থনীতি

তৈরি হচ্ছে ব্যাংক একীভূতকরণের গাইডলাইন

সৈয়দ সামসুজ্জামান নীপু

২৩ নভেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৩:৪৩


প্রিন্ট

ব্যাংক একীভূতকরণের একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। এটি তৈরির দায়িত্ব দেয়া হবে বাংলাদেশ ব্যাংককে। আগামী বছরের মধ্যে এই গাইডলাইন চূড়ান্ত করা হবে। এটি চূড়ান্ত হলে আর্থিকভাবে দুর্বল ব্যাংকগুলো এটি অনুকরণ করে অন্য ব্যাংকের সাথে একীভূত বা মার্জার করতে পারবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গতকাল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে আয়োজিত এক সভায় এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমানের সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বলা হয়, বর্তমানে ব্যাংক কোম্পানি আইনে ব্যাংকগুলো কিভাবে অবসায়ন অথবা একীভূত হবে তা নির্দিষ্টভাবে বলা আছে। এর পরও বিষয়টি আরো সহজ ও নমনীয় করার জন্য এই গাইডলাইন প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। গাইডলাইনটি তৈরির দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংককে। তবে এ বিষয়ে যাবতীয় সহযোগিতা করবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আর্থিক বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, দেশে বর্তমানে ব্যাংকের সংখ্যা ৫৭টি। এগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। অদূরভবিষ্যতে এই ব্যাংকগুলোকে টিকে থাকতে হলে মার্জারের প্রয়োজন হবে। তাই আমরা মার্জার বিষয়ে একটি গাইডলাইন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি, যাতে এই কার্যক্রম সহজ হয়।

এর আগে বৈঠকের জন্য তৈরীকৃত কার্যপত্রে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণবিষয়ক সুপারিশে বলা হয়েছে, ঋণ প্রক্রিয়াকরণ ও ঋণ অনুমোদনের বিদ্যমান পলিসি বা পদ্ধতি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে নিয়মিত রিভিউ করতে হবে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বোর্ড কর্তৃক অনুমোদনযোগ্য ঋণের ক্ষেত্রে শাখা থেকে প্রধান কার্যালয় পর্যন্ত স্তরগুলোর দু-একটি ধাপ কমানো যেতে পারে।

জমি বা ভূসম্পত্তিকে জামানত বা সহায়ক জামানত হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য জালিয়াতি প্রতিরোধে জামানত বা সহায়ক জামানতের বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নসহ একটি কেন্দ্রীয় তথ্যকোষ গঠন করা যেতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী ঋণগ্রহীতাকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল নেয়ার জন্য ১৫০ শতাংশ জামানত দিতে হয়। এটি পরিবর্তন বা সংশোধন করার বিষয়টি পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সাথে জামানত হিসেবে জমির মূল্যমান নির্ধারণে অনুসরণীয় নীতিমালা বা গাইডলাইন প্রণয়নের মাধ্যমে ঋণ কেসের জামানত যাচাইপ্রক্রিয়া আরো উন্নততর করতে হবে।

সুপারিশে বলা হয়েছে- ঋণপ্রস্তাব মূল্যমানের ক্ষেত্রে জামানতের পাশাপাশি প্রকল্পের ক্যাশ ফো, ক্রেডিট রিস্ক গ্রেডিং ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক বিষয়টি মনিটর করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

নো ইউর কাস্টমার (কেওয়াইসি) ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য বিবেচনা করা হয়। ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে সিকেওয়াইসি (সেন্ট্রাল কে ওয়াই সি) এবং ই-বিএএম (ইলেকট্রনিক ব্যাংক এ সি ম্যানেজমেন্ট) বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত তালিকভুক্ত সার্ভেয়ার বা কোম্পানির মাধ্যমে ঋণ প্রস্তাবের ফিজিবিলিটি স্টাডি করার প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। ঋণ অনুমোদনের আগে অবশ্যই গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট রেটিং করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

কার্যপত্রে ঋণ আদায় বিষয়ক সুপারিশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর শ্রেণীকৃত ও অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ঋণ বিতরণ ও আদায়ের কাজে সংশ্লিষ্টদের ভালো ঋণ বিতরণ ও মন্দ ঋণ আদায়ের জন্য প্রণোদনা প্রদান এবং মন্দ ঋণ বিতরণ ও ঋণ আদায়ে ব্যর্থতার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে বড় বড় খেলাপির তালিকা পত্রিকায় প্রকাশ করার ব্যবস্থা করতে হবে।

ব্যাংকগুলোর ১০০ কোটি টাকার ওপরে বৃহৎ খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের আলাদা ডেট-মনিটরিংয়ের আওতায় এনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ডেট রিকভারি ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। মামলার সংখ্যা কমানোর জন্য ঋণগ্রহীতা বা তার পক্ষে মামলা করার ক্ষেত্রে ব্যাংকের পাওনা অর্থের ৫০ শতাংশ অর্থ বাধ্যতামূলকভাবে জমা প্রদানের ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫