‘রোহিঙ্গারা মানবপাচারের শিকার হতে পারে’

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

রাখাইন সঙ্কটের কারণে রোহিঙ্গারা মানবপাচারের শিকার হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেন, এ সঙ্কটের স্থায়ী সমাধানই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানব পাচারের সম্ভাব্য শিকার হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।
জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে গত বুধবার ‘সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতিতে মানব পাচার’ বিষয়ক এক উন্মুক্ত মিনিস্টিরিয়াল বিতর্কে তিনি এ কথা বলেন।
রোহিঙ্গাদের হত্যা, নির্যাতন ও শোষনের মর্মস্পর্শী কাহিনী, নৌকায় ভেসে সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে শত শত রোহিঙ্গার প্রাণহানির ঘটনাসহ ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন, এ সব ঘটনা মানবপাচারকারী ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলোর অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রকে অবারিত করেছে। রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা বিপুল সংখ্যক নারী ও শিশুর মধ্যে অনেকেই চোরাকারবারী ও মানবপাচারকারীদের সম্ভাব্য শিকারে পরিণত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, মানবপাচারকারী ও সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলোর প্রতি তীক্ষ্ম নজরদারী বজায় রাখতে বাংলাদেশের সীমান্ত ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ, ইউএন অফিস অন ড্রাগস এন্ড ক্রাইমের নির্বাহী পরিচালক ইউরি ফেডোটভ, মানব পাচার বিষয়ক জাতিসঙ্ঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার মিস মারিয়া গ্রাজিয়া জিয়ামমারিনারো এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক কমিশনার ইসমাইল চেরগুই এ সভায় বক্তৃতা করেন। তারা সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতিতে মানব পাচার বিষয়টিকে এ সময়ের সবচেয়ে বড় মানবাধিকার সমস্যা হিসাবে আখ্যায়িত করেন।
রাষ্ট্রদূত মাসুদ সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতিতে মানব পাচারের বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘের সমন্বিত উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে সহযোগী সব সদস্য রাষ্ট্রের সাথে একসাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পূনর্ব্যক্ত করেন।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.