ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ , কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)

ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে লাগানো গাছ কেটে তা বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সড়কের কুলিয়ারচর উপজেলাস্থ দাড়িয়াকান্দি বাস্ট্যান্ড থেকে আগরপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে গাছগুলো লাগানো ছিল। সামাজিক বনায়নের আওতায় লাগানো মেয়াদ উত্তীর্ণ মরা গাছ উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে স্থানীয় একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধ ভাবে কেটে তা বিক্রির মাধ্যমে লুটপাট করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৪ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত ভৈরব - কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের কুলিয়ারচর পৌরসভাস্থ আলীআকবরী নামক স্থানে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়,স্থানীয় প্রভাবশালী অহিদ মিয়ার (৫৫) নেতৃত্বে শামীম, ইসরাইল, শাহাবুদ্দীন ভূইয়া,নজরুল ও আসাদ মিয়ার সহযোগীতায় রাস্তার পাশের প্রায় অর্ধশত গাছ কাটা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান,তারা দীর্ঘদিন যাবত এ রাস্তা থেকে মরা গাছ অবৈধ ভাবে কেটে নিয়ে পাশের দাড়িয়াকান্দি ও বাজরা তারাকান্দি বাস্স্ট্যান্ডের বিভিন্ন সো’মিলে নিয়ে বিক্রি করছে।
সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা করে টেন্ডার ছাড়া অবৈধ ভাবে সরকারি গাছ কেটে লুটপাট করার বিষয়ে জানতে চাইলে অহিদ মিয়া বলেন, তারা উপকারভোগী হিসেবে কুলিয়ারচর উপজেলা বন বিভাগের মালি মুছা মিয়ার নির্দেশে সরকারী গাছ কেটে বিক্রয় করছেন। গাছ কাটার নির্দেশ দেয়ার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা বন বিভাগের মালি মুছা মিয়া বলেন, গত ৬ নভেম্বর উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ড. উর্মী বিনতে সালাম ঝড়ে পরা মরা গাছ কাটার নির্দেশ দেন। উক্ত নির্দেশের ভিত্তিতে অহিদ মিয়া গংদের গাছ কাটার নির্দেশ দিয়েছি।
মুছা মিয়াকে গাছ কাটার নির্দেশ দেয়ার সত্যতা স্বীকার করে কুলিয়ারচর উপজেলা বন বিভাগ কর্মকর্তা ( অতিরিক্ত দায়িত্বে ) মোঃ বজলুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত আলাপ করা হবে।
সড়ক উপ-বিভাগ, ভৈরব-১ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও ) মোঃ রুহুল আমীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত ৬ নভেম্বর উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভায় বলেছিলাম জনস্বার্থে টেন্ডারের মাধ্যমে মরা গাছ কাটা হলে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কোন আপোত্তি নেই। তিনি বলেন সরকারী নিয়ম অমান্য করে কেউ যদি রাস্তার সরকারী গাছ কেটে লুটপাট করে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ড. উর্মি বিনতে সালামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি গাছ কাটার নির্দেশ দেয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বন বিভাগ ও সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে মিটিং করে সিদ্ধান্ত হয়েছে রোড সম্প্রসারণ করার জন্য গাছ কাটা হবে। তবে গাছ কেটে বিক্রয় করার কথা নয়। এ বিষয়ে আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.