ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

রংপুর

রসিক নির্বাচন : মেয়র পদে ১৩ জনের মনোনয়নপত্র দাখিল

রংপুর অফিস

২২ নভেম্বর ২০১৭,বুধবার, ১৯:২৩ | আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০১৭,বুধবার, ২০:০৪


প্রিন্ট
রসিক নির্বাচন : মেয়র পদে ১৩ জনের মনোনয়নপত্র দাখিল

রসিক নির্বাচন : মেয়র পদে ১৩ জনের মনোনয়নপত্র দাখিল

আগামী ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য রংপুর সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন মেয়র পদে ১৩, মহিলা কাউন্সিলর পদে ৬৭ এবং কাউন্সিলর পদে ২২৬ জন। মেয়র পদে জাতীয় পার্টিতে এরশাদের ভাতিজা ও বিএনপিতে জেলা যুবদল সভাপতি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও নৌকায় একক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার সহায়ক কর্মকর্তা আবু সাঈম জানান, বুধবার মনোনয়নপত্র গ্রহন ও দাখিলের শেষ দিনে মেয়র পদে জাতীয় পার্টি মনোনিত মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, আওয়ামীলীগ মনোনিত সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনিত কাওছার জামান বাবলা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনিত এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু, বাসদ মনোনিত আব্দুল কুদ্দুস, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একেএম আব্দুর রউফ মানিক, আব্দুল মজিদ বীর প্রতীক, হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ, নাজমুল ইসলাম নাজু, সুইটি আনজুম, শাকিল রায়হান এবং মেহেদী হাসান বনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এছাড়াও রাশেক রহমান ফরম তুললেও তিনি জমা দেন নি। অন্যদিকে ১১টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৬৭ জন মনোনয়ন তুলে জমাও দিয়েছেন ৬৭ জন। এছাড়া ৩৩টি সাধারণ কাউন্সিলর পদের জন্য ২৩১ জন মনোনয়ন ফরম তুললেও জমা দিয়েছেন ২২৬ জন।

ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী মনোয়নপত্র যাছাই বাছাই ২৫ থেকে ২৬ নভেম্বর, মনোয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ২৭ থেকে ২৯ নভেম্বর, আপিল নিষ্পত্তি ৩০ নভেম্বর, প্রার্থীতা প্রত্যাহার ৩রা ডিসেম্বর এবং প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ৪ঠা ডিসেম্বর বলেও জানান ইসির এই কর্মকর্তা।

জাপা বিএনপিতে বিদ্রোহী: আওয়ামী লীগে একক
এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি মনোনিত প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ছাড়াও দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভাতিজা এবং জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সাবেক এমপি হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ এবং বিএনপি মনোনিত প্রার্থী মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি কাওছার জামান বাবলা ছাড়াও রংপুর জেলা যুবদল সভাপতি নাজমুল আলম নাজু মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। নাজু বিএনপি মনোনয়ন পাওয়ার জন্য প্রচার প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি চেষ্টা করেছিলেন। আর এরশাদের ভাতিজা জাতীয় পার্টির পদপদবি ব্যবহার না করেই প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ এএইচএন আশিকুর রহমানের পুত্র এবং আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক রাশেক রহমান মনোনয়ন পত্র তুললেও তিনি জমা না দেয়ায় আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। রাশেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র তুলেছিলেন মোঃ মহিউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। আওয়ামী লীগের জন্য মনোনয়ন চেষ্টার অংশ হিসেবে রাশেক রহমান নগরীতে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন ছাড়াও ব্যপক প্রচারণাপত্র সাঁটিয়েছিলেন। তিনি মনোনয়ন পাওয়া আওয়ামী লীগ প্রার্থী ঝন্টুর বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন ও নির্বাচন অফিস ঘেরাও করে আচরণিবিধি লংঘনেরও অভিযোগ এনেছিলেন।

আগামী ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয়বারের মতো এই সিটির ভোট। মোট ১৯৬টি ভোটকেন্দ্রেে ১ হাজার ১৭৭টি ভোটকক্ষে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। এবার এখানে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪২১ ভোটারের মধ্যে রয়েছেন পুরুষ ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৯ এবং নারী ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৬২ জন। ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো রংপুর সিটি করপোরেশনে ভোট হয়েছিল। এতে হাঁস প্রতীকের নিয়ে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে হারিয়ে মেয়র হয়েছিলেন মোটরসাইকেল প্রতীকের সরফুদ্দীন আাহম্মেদ ঝন্টু। এবারও তারাই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি এই নির্বাচনে। শুধু পরিবর্তন হবে প্রতীকের। এবার মোস্তফা লাঙ্গল এবং ঝন্টু নৌকার প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।

সুজনের সাংবাদিক সম্মেলন
রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সৎ যোগ্য ও জনকল্যাণ নিবেদিত প্রার্থী নির্বাচনের আহবানে সকালে রংপুর চেম্বার ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর জেলা ও মহানগর শাখা।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন, জেলা কমিটির সম্পাদক সাংবাদিক আফতাব হোসেন, মহানগর কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু,সম্পাদক আরিফ হোসেন টিটু, আঞ্চলিক সমম্বয়কারী রাজেশ দে প্রমুখ।

এসময় সুজন নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রার্থীরা যাতে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলেন, সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে কঠোরতা প্রদর্শন করতে হবে। নির্বাচনে কোন দল বা প্রার্থী আচরণবিধি ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইনশৃংখলার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। সর্বোপরি ভোটের ফলাফল ঘোষণার নিয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫