ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

আইন ও বিচার

র‌্যাবের কাছে স্বীকারোক্তি

অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় খুন করা হয় জিদানকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ নভেম্বর ২০১৭,বুধবার, ১৯:৪১


প্রিন্ট

বিভিন্ন সময় জিদানকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল হাফেজ আবু বকর। কিন্তু জিদান এতে রাজি হচ্ছিল না। তা ছাড়া, আবু বকর মাদরাসায় সিনিয়র ছাত্র হওয়ায় জিদানকে প্রায়ই ব্যক্তিগত কাজ করার আদেশ দিতো। জিদান তাও শুনতো না। একপর্যায়ে তাদের এই মনোমালিন্য মাদরাসার হুজুর পর্যন্ত গড়ালে হুজুর আবু বকরকে সর্তক করে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সে। এক পর্যায়ে জিদানকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় আবু বকর।

আজ বুধবার সকালে সদরঘাট থেকে গ্রেফতার হওয়া আবু বকর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে এসব জানিয়েছে।
আজ বিকেলে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান একথা বলেন।

এর আগে গত সোমবার সকালে গুলিস্তান মাদিনাতুল উলূম মাদরাসার ভেতর থেকে হেফজ বিভাগের ছাত্র জিদানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই পালাতক থাকে ওই মাদরাসারই ছাত্র আবু বকর। তাই হত্যার পেছনে সবাই তাকে সন্দেহ করে আসছিলো।

এমরানুল হাসান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিলো জিদান ও আব বকরের দ্বন্দ্ব। এর মধ্যে একদিন কথা না শোনায় জিদানকে চড় থাপ্পর মারে আবু বকর। ওই ঘটনায় শিক্ষকদের কাছে বিচার দেয় জিদান। পরে মাদরাসার শিক্ষক ইয়াছিন বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। কিন্তু তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠেনি। উল্টো জিদানের ঘনিষ্ঠতা ও চলাফেরা বাড়ে মাদরাসার হেফজ বিভাগের অপর শিক্ষার্থী আব্দুর রহমানের সাথে। এতে আবু বকরের মনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তার সন্দেহ ছিল, জিদানের সাথে আব্দুর রহমানের ‘অনৈতিক’ সর্ম্পক স্থাপিত হয়েছে।

তিনি জানান, গত ১৬ তারিখে আবারো জিদান হুজুরের কাছে আবু বকরের বিরুদ্ধে নালিশ দেয়। এর পর থেকে আবু বকর জিদানকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে। এজন্য আবু বকর তার ফলকাটা ছুরিতে শান দিয়ে রাখে। ওই রাতে সবাই খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে সে সুযোগের সন্ধানে বিছানায় অপেক্ষা করতে থাকে। রাত দেড়টায় আবু বকর তার ট্রাংক থেকে ফল কাটার ছুরিটি বের করে জিদানের মুখ চেপে ধরে গলায় একাধিক আঘাত করে। এ সময় জিদান গোংগানীর শব্দ করলে আবু বকর জোরে তার মুখ চেপে ধরে পুনরায় আঘাত করে। জিদানের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সে কোলে করে জিদানের লাশ সেপটিক ট্যাংকের কাছে নিয়ে যায় এবং ভিতরে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।

র‌্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের পাশাপাশিও র‌্যাবও ছায়া তদন্ত শুরু করে। এক পর্যায়ে আবু বকরের আত্মীয়-স্বজনদের মোবাইল ফোন ট্রাক করতে থাকে র‌্যাব। তাতে নিশ্চিত হওয়া যায় আবু বকরের অবস্থান। অবশেষে আজ সদরঘাট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫