ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

অর্থনীতি

উপ-আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়নে এডিবির ৩০ কোটি ডলার ঋণ

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

২২ নভেম্বর ২০১৭,বুধবার, ১৮:৫১


প্রিন্ট

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশকে ৩০ কোটি ডলার বা দুই হাজার চারশ’ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক) জোটের আওতায় এলেঙ্গা থেকে হাটিকুমরুল হয়ে রংপুর পর্যন্ত ১৯০ দশমিক ৪০ কিলোমিটার মহাসড়ক চারলেনে উন্নয়নে এই অর্থ সহায়তা এডিবি। পাঁচ বছর গ্রেসপিরিয়ডসহ মোট ২৫ বছরে এই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হবে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জানিয়েছে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ইআরডি সম্মলেন কক্ষে আজ বুধবার এডিবি ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে দুটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সরকারের পক্ষ ঋণচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আযম এবং এডিবির পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ।

ইআরডির তথ্যানুযায়ী, দেশের উত্তরাঞ্চলে সহজে যানবাহন চলাচল ও সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করতে যাচ্ছে। এর ফলে দেশের ১০টি জেলার সাথে যানবাহন চলাচলে সুবিধা হবে। পাশাপাশি এ মহাসড়ক ব্যবহার করে পরবর্তীতে বাংলাবান্ধা দিয়ে ভারত, নেপাল এবং বুড়িমারি দিয়ে ভারত ও ভুটানের সাথে উপ আঞ্চলিক সড়ক সংযোগ সহজতর করা হবে। এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক পর্যন্ত ১৯৪ দশমিক ৪০ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেন করা হবে। গত ২০১৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এই প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়।

ইআরডি জানায়, দুটি ঋণ চুক্তির মধ্যে ২৫ কোটি ডলার হবে অর্ডিনারি ক্যাপিটাল রিসোর্সেস (ওসিআর) এবং পাঁচ কোটি ডলার হবে সহজ শর্তে কনসেশনাল ওসিআর। এটি এডিবির অর্থায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী ১২০ কোটি ডলার বা নয় হাজার ছয়শ’ কোটি টাকার একটি কিস্তি। চার কিস্তিতে এই টাক ছাড় করা হবে। প্রকল্পটির অর্থায়নে এশিয়ান হাইওয়ে, বিমসটেক ও সাসেক রোড করিডোরের আওতাভুক্ত হওয়ায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এক্ষেত্রে সহায়তা দিচ্ছে। সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণ ও ধীরগতিসম্পন্ন গাড়ির লেনসহ নতুন পেভমেন্ট নির্মাণ, এক হাজার ৯২২ মিটারের ৩২টি ব্রিজ, দু’হাজার ৬৩৫ মিটার বিশিষ্ট তিনটি ফ্লাইওভার, ৪১১ মিটার বিশিষ্ট একটি রেলওয়ে ওভারপাস এবং এক হাজার পাঁচশ’ মিটারের একটি ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৮৮১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে এডিবি ঋণ দেবে নয় হাজার ৩৩৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা। বাকী দুই হাজার ৫৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে যোগান দিতে হবে। প্রকল্পটি ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের আগস্ট মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আযম বলেন, বিদেশী অর্থায়নকৃত প্রকল্পের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। সেখানে বিদেশীদের সুপারভিশন থাকে। আর জিওবির অর্থায়ন করা প্রকল্পে মানের সমস্যা থাকতে পারে।

তিনি বলেন, মধ্যআয়ের দেশে যেতে হলে আমাদের বিদেশী ঋণ বাড়াতে হবে। বর্তমানে পাইপ লাইনে ৩৬ বিলিয়ন ডলার আছে। আইডা-১৮ তে আমাদের পাওনা পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলার। আমরা এবছর সেখান থেকে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার নিয়ে নেব।

সচিব জানান, বর্তমানে সরকারি ঋণের ৬০ শতাংশ হলো অভ্যন্তরীণ এবং ৪০ শতাংশ হলো বিদেশী ঋণ। আর এই বিদেশী ঋণ হলো জিডিপির ১২ শতাংশ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫