ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

মধ্যপ্রাচ্য

সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকদের পরাজয় অনিবার্য : ইরান

পার্সটুডে

২২ নভেম্বর ২০১৭,বুধবার, ১৮:০৪


প্রিন্ট
সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকদের পরাজয় অনিবার্য : ইরান

সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকদের পরাজয় অনিবার্য : ইরান

ইরাক এবং সিরিয়া থেকে উগ্র তাকফিরি গোষ্ঠী দায়েশ নির্মূলের প্রশংসা করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইরান বলেছে, এ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে, সন্ত্রাসবাদ এবং এর পৃষ্ঠপোষকদের পরাজয় অনিবার্য।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছে, এ অঞ্চলের প্রতিরোধকামী যোদ্ধা এবং জাতিগুলোর সমন্বিত লড়াই ও ত্যাগের ফলে দায়েশের পতন ঘটানো সম্ভব হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আজ কথিত 'ইসলামিক স্ট্যাট অব ইরাক এবং দি লেভান্ত বা আইএসআইএল গঠনের সকল স্বপ্ন ধ্বংস হয়ে গেছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, সন্ত্রাসবাদ এবং এর প্রতি আদর্শিক, আর্থিক, রাজনৈতিক এবং সামরিক সমর্থনকারীরা ব্যর্থ হতে বাধ্য।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক যারা নানা অপরাধ, হত্যাযজ্ঞ, ধ্বংস এবং লাখ লাখ নিরস্ত্র ও অসহায় মানুষের উদবাস্তুতে পরিণত হওয়ার পেছনে দায়ী তাদেরকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

 বিবৃতির অন্য অংশে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিরিয়ায় সন্ত্রাস বিরোধী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য রুশ সরকারের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে যুদ্ধ ও কূটনৈতিক চ্যানেলে যারা ইরাক ও সিরিয়ার পাশে ছিল তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছে ইরান।

সন্ত্রাসীদের চূড়ান্ত পরাজয়ে জেনারেল সোলায়মানির অভিনন্দন

ইরাক ও সিরিয়ায় উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের পতনের পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মেজর জেনারেল কাসেম সোলায়মানি। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র কুদস ব্রিগেডের কমান্ডার জেনারেল সোলায়মানি ইরাক ও সিরিয়ায় দায়েশ-বিরোধী লড়াইয়ে কুদস যোদ্ধাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

এক অভিনন্দন বার্তায় জেনারেল সোলায়মানি দায়েশের বিরুদ্ধে মহান বিজয়ের জন্য সর্বোচ্চ নেতার বিচক্ষণ নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং ধন্যবাদ জানান। এছাড়া, ইরাক ও সিরিয়ায় যেসব প্রতিরোধ যোদ্ধা শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতিও তিনি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীগুলোর অংশগ্রহণ ও ইরানি সামরিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে ইরাক এবং সিরিয়ার সেনারা দু দেশেই দায়েশের সর্বশেষ শক্তঘাঁটির পতন ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সম্প্রতি দু দেশেই উগ্র সন্ত্রাসীদের চূড়ান্ত পরাজয় হয়।

রাওয়া শহর ছিল ইরাকে দায়েশের সর্বশেষ ঘাঁটি। অন্যদিকে দেইর আয-যোর প্রদেশের বুকামাল শহর ছিল সিরিয়ায় তৎপর দায়েশের নিয়ন্ত্রণে থাকা সর্বশেষ শহর। দু’টি শহরই সম্প্রতি মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে দেশ দু’টির সামরিক বাহিনী। এতে ইরান, হিজবুল্লাহ ও রাশিয়া সক্রিয় সামরিক সহায়তা দিয়েছে। জেনারেল সোলায়মানি ছিলেন এ লড়াইয়ে সম্মুখভাগের কমান্ডার।

শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্য থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নিশ্চিহ্ন হবে: ইরান

আমেরিকা, ইহুদিবাদী ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের সুনির্দিষ্ট কিছু দেশ এ অঞ্চলে তৎপর উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান। একইসঙ্গে তেহরান বলেছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে এসব গোষ্ঠী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকরা উৎখাত হওয়ার পথে রয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি শুক্রবার বৈরুতে স্বাগতিক দেশের প্রধানমন্ত্রী সা’দ হারিরির সঙ্গে এক বৈঠকে এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, উগ্র সন্ত্রাসী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকরা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও জনগণের মধ্যে ঐক্য চায় না। মধ্যপ্রাচ্যে তৎপর সব সন্ত্রাসী ও তাকফিরি গোষ্ঠী অচিরেই এ অঞ্চল থেকে নিশ্চিহ্ণ হয়ে যাবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা বলেন, তার দেশ লেবাননে শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা চায়। প্রধানমন্ত্রী হারিরি ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর সঙ্গে জোট সরকার গঠন করবেন বলে গতমাসে যে ঘোষণা দিয়েছেন তাকে স্বাগত জানান বেলায়েতি। তিনি বলেন, একটি ঐক্যমত্যের সরকার গঠন নিঃসন্দেহে লেবাননের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে।

সাক্ষাতে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া উগ্র ও তাকফিরি সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করার জন্য প্রতিরোধ সংগ্রামের বিকল্প নেই।

সূত্র : পার্সটুডে

স্বার্থ বিঘ্নিত হবার আশঙ্কা দেখলেই ওয়াদা ভঙ্গ করে আমেরিকা : ইরান
আমেরিকা হলো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী, বিশ্বাসঘাতক এবং সর্বপ্রকার অপরাধের মূল হোতা। আয়াতুল্লাহ মুহাম্মাদ আলি মোয়াহহেদি কেরমানি আজ তেহরানের জুমার নামাজের খুৎবায় এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন আমেরিকা যখনই দেখবে তাদের স্বার্থ বিঘ্নিত হবার আশংকা রয়েছে তখনই তারা তাদের সকল ওয়াদা পায়ের তলায় পিষে ফেলবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে পরমাণু চুক্তি ভঙ্গ করতে চাচ্ছে কিংবা এই চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করছে, তাকে ‘বোকামিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন জনাব কেরমানি। ইরানসহ ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি'র বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব সম্পর্কে আয়াতুল্লাহ কেরমানি বলেন, ইরানের এই বিশেষ বাহিনী মার্কিন সমর্থিত সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে।

ইরানের অতন্দ্র ও সচেতন দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শত্রুদের মোকাবেলায় কোনোভাবেই অলস কিংবা নিষ্ক্রিয় হওয়া যাবে না। ইরান যুদ্ধকামী নয় কিন্তু শত্রুদের ষড়যন্ত্র সকল শক্তি দিয়ে মোকাবেলা করবে বলেও আয়াতুল্লাহ কেরমানি মন্তব্য করেন।

শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা নিয়ে ইরান-পাকিস্তান বৈঠক
আফগানিস্তানে যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে পাকিস্তান এবং ইরান। তেহরান- ইসলামাবাদের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক পর্যায়ে প্রথম দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উভয় পক্ষ আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার উপায় খুঁজে বের করতে সম্মত হয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় সন্ত্রাসবাদকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রধান হুমকি বলে মন্তব্য করা হয়। আফগানিস্তানে সন্ত্রাস ও সহিংসতা বৃদ্ধি, মাদক উৎপাদন বৃদ্ধি, মাদক চোরাচালানসহ দায়েশের সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধির ঘটনাকে কাবুলের পাশাপাশি প্রতিবেশি দেশগুলোর জন্যও ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করা হয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫