ঢাকা, সোমবার,১১ ডিসেম্বর ২০১৭

ফুটবল

রোনালদো একঘরে! ঘোঁট পাকাচ্ছেন একঝাঁক রিয়াল তারকা

নয়া দিগন্ত অনলাইন

২২ নভেম্বর ২০১৭,বুধবার, ০৬:৩১


প্রিন্ট
রোনালদো একঘরে! ঘোঁট পাকাচ্ছেন একঝাঁক রিয়াল তারকা

রোনালদো একঘরে! ঘোঁট পাকাচ্ছেন একঝাঁক রিয়াল তারকা

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কী রিয়াল মাদ্রিদে ক্রমশই একঘরে হয়ে পড়ছেন? প্রথমে ক্যাপ্টেন সের্গিও র‌্যামোসের সঙ্গে তার বাকযুদ্ধ মিডিয়ায় ফলাও করে ছাপা হয়েছিল।

মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অ্যাপয়েল নিকোসিয়ার বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে রোনালদো সম্পর্কে মুখ খুললেন ফরাসি স্ট্রাইকার করিম বেনজেমাও। তিনি বলেছেন, ‘আমি গোল পাচ্ছি না বলে সকলে আমাকে দুষছে। কিন্তু রোনালদো আমাকে কটা বল দিচ্ছে? বরং ও আমার স্ট্রাইকিং পজিশনে চলে এসে আমার খেলাটা তালগোল পাকিয়ে দিচ্ছে। আমি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ১৮২টা গোল করেছি ২০০৯ সাল থেকে। এই মরশুমে আমার খারাপ সময় যাচ্ছে। রোনালদো নিজেও লা লিগায় গোল পাচ্ছে না। কিন্তু ও হল সুপার স্টার। তাই সকলে আমাকেই টার্গেট করেছে। আমি রিয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে এই ব্যাপারে কথা বলতে চাই।’

এদিকে, রোনালদোর বিরুদ্ধে ড্রেসিং-রুমেই ঘোঁট পাকাতে শুরু করেছেন একাধিক সিনিয়র ফুটবলার। এদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন র‌্যামোস। তবে এখন তিনি নাক ভেঙে আপাতত মাঠের বাইরে চলে গিয়েছেন। গ্যারেথ বেলও এখনো চোট সারিয়ে প্রথম একাদশে ফিরতে পারেননি।

এদিকে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার তুলনায় স্প্যানিশ লা লিগায় ১০ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। গতবারের চ্যাম্পিয়নদের এবার লা লিগায় খেতাব জয়ের আশা কার্যত শেষ বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে কোচ জিদান এখন তাকিয়ে রয়েছেন দুটি এল ক্লাসিকোর দিকে।

উল্লেখ্য, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪০৮টি ম্যাচে ৪১৪টি গোল করেছেন রোনাল্ডো। এমন ট্র্যাক রেকর্ড বিশ্বের আর কোনও ফুটবলারের নেই।


রোনালদো-বেনজেমার জোড়া গোলে রিয়ালের বিশাল জয়

সমালোচকদের জবাব দিতে সেরা অস্ত্রটাই বেছে নিলেন রোনালদো ও করিম বেনজেমা। দুবার করে বল জালে পাঠালেন, সঙ্গে সতীর্থের গোলেও রাখলেন অবদান। আক্রমণভাগের এমন ছন্দে রিয়াল মাদ্রিদও পেল বিশাল জয়।

মঙ্গলবার রাতে আপোয়েল নিকোশিয়াকে তাদেরই মাঠে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে উঠে গেছে জিনেদিন জিদানের দল। তাদের অন্য দুটি গোল লুকা মদ্রিচ ও নাচো ফের্নান্দেসের।

প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে সাইপ্রাসের দলটিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল রিয়াল।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এর আগের চার ম্যাচের মাত্র একটিতে জেতা রিয়ালকে আপোয়েলের বিপক্ষেও শুরুতে ঠিক ছন্দে দেখা যায়নি। বারবার আক্রমণে উঠলেও তার অধিকাংশই ছিল এলোমেলো। কিন্তু প্রতিপক্ষের দুর্বল রক্ষণের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিরতির আগেই জয়-পরাজয়ের হিসেবটা চুকিয়ে ফেলে তারা।

গোলবন্যার শুরুটা হতে পারতো তৃতীয় মিনিটেই; কিন্তু বেনজেমার ক্রস বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষক বরাবর শট মেরে বসেন রোনালদো।

প্রথম গোলের দেখা মেলে ২৩তম মিনিটে। আপোয়েলের এক ডিফেন্ডারের বাজে রক্ষণের পর ফাঁকায় বল পেয়ে জোরালো ভলিতে জালে পাঠান ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ।

কিছুটা সময় কাটার পর দুই মিনিটের ব্যবধানে আরও দুটি গোল করে রিয়াল। টনি ক্রুসের লম্বা পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন বেনজেমা। আর কর্নার থেকে উড়ে আসা বল রাফায়েল ভারানের হেডের পর গোলমুখ থেকে টোকায় দলের তৃতীয় গোলটি করেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার নাচো।

বিরতির ঠিক আগে যোগ করা সময়ে রোনালদোর নি:স্বার্থ পাস পেয়ে স্বাগতিকদের ম্যাচে ফেরার আশা শেষ করে দেন বেনজেমা। একজনকে কাটিয়ে শট নেওয়ার ঠিক আগুমহূর্তে ডানে ছোট পাস দেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড, অনায়াসে আসরে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ফরাসি স্ট্রাইকার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটা তার ৫৩তম গোল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করেন রোনালদো।

৪৯তম মিনিটে মার্সেলোর ক্রসে হেডে করেন প্রথমটি। আর দ্বিতীয়টি আসে প্রতিপক্ষের ভুলে। এক ডিফেন্ডার বল হারানোর পর ছুটে এসে শট নেন গোলরক্ষক, বল বেনজেমার পায়ে লেগে চলে যায় বাঁয়ে। ওখান থেকে দারুণ কোনাকুনি শটে আসরে নিজের অষ্টম গোলটি করেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার।

ইউরোপ সেরার মঞ্চে এই নিয়ে রোনালদোর গোল হলো ১১৩টি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫