ঢাকা, সোমবার,১১ ডিসেম্বর ২০১৭

প্রথম পাতা

মুগাবের পদত্যাগ জিম্বাবুয়েতে উল্লাস

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

২২ নভেম্বর ২০১৭,বুধবার, ০০:২৮


প্রিন্ট

অবশেষে পদত্যাগ করলেন প্রেসিডেন্ট মুগাবে। অভিশংসন প্রক্রিয়ার মধ্যে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের পদত্যাগের খবর দিয়েছেন দেশটির স্পিকার।
জ্যাকব মুন্ডেডাকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে মতা হস্তান্তরে স্বেচ্ছায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মুগাবে চিঠিতে লিখেছেন।
১৯৮০ সালে জিম্বাবুয়ে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর ৩৭ বছর ধরে দেশটির প্রেসিডেন্ট পদে মুগাবে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুগাবের পদত্যাগের খবরে পার্লামেন্টে অভিশংসন প্রক্রিয়া স্থগিত হয়, উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন পার্লামেন্ট সদস্যরা। উচ্ছ্বসিত জনতা নেমেছেন রাস্তায় রাস্তায়।
দলের উত্তরসূরী নিয়ে দ্বন্দ্বের মধ্যে গত সপ্তাহে সেনাবাহিনী জিম্বাবুয়ের নিয়ন্ত্রণ নেয়, মুগাবেকে করে গৃহবন্দী। এরপর তার পদত্যাগ দাবিতে ব্যাপক বিােভ হলেও মতা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান ৯৩ বছর বয়সী মুগাবে।
সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাওয়াকে তার উত্তরসূরী বিবেচনা করা হলেও গত মাসে হঠাৎ করে সরকার ও দলীয় পদ থেকে তাকে বরখাস্ত করেন মুগাবে। স্ত্রী গ্রেস মুগাবেকে মতার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে নানগাওয়াকের মতো অভিজ্ঞ নেতাকে সরিয়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এ নিয়ে দলীয় কোন্দলের মধ্যে গত বুধবার সেনাবাহিনী জিম্বাবুয়ের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার কথা জানায়। তার দুই দিনের মাথায় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি মুগাবের দল জিম্বাবুয়ের মতাসীন জানু-পিএফ পার্টির প থেকেও জনপ্রিয়তা হারানো এই নেতাকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়। সেই আহ্বানে সাড়া না দেয়ায় রোববার জানু-পিএফ পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি মুগাবেকে দলীয় প্রধানের পদ থেকে বহিষ্কার করে, নানগাওয়াকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
ওই বৈঠক থেকেই প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে যাওয়ার জন্য মুগাবেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়। এরপরেও রবার্ট মুগাবে পদত্যাগ না করায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে তাকে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয়। পার্লামেন্ট সে বিষয়ে আলোচনার মধ্যেই প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের খবর জানান স্পিকার।
ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে দেশকে স্বাধীন করে এক সময় পুরো মহাদেশে উপনিবেশবিরোধী মুক্তির নায়কে পরিণত হয়েছিলেন ‘গ্র্যান্ড ওল্ড ম্যান’ মুগাবে।
প্রতিবেশী দণি আফ্রিকায় ১৯৯৪ সালে জাতিগত বিদ্বেষের অবসানের পে দৃঢ়অবস্থান জানানো নেতাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।
কালোদের নেতা মুগাবে পাশ্চিমা দেশগুলোতেও ‘থিংকিং ম্যানস গেরিলা’ নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন। তবে ১৯৯০ সালের পর জিম্বাবুয়ের অর্থনীতি খারাপ হতে থাকলে দেশে তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়তে থাকে।
সে সময় মুগাবে সমালোচকদের থামাতে দমন-পীড়নের আশ্রয় নেন, যাতে নায়ক মুগাবে দিন দিন জনগণের চোখে ‘খলনায়কে’ পরিণত হতে থাকেন বলে পশ্চিমা গণমাধ্যমের ভাষ্য।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫