ঢাকা, শনিবার,১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

সিলেবাস

২০১৭ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি : পর্বসংখ্যা-১৯১

ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা পঞ্চম অধ্যায় : মহানবী সা:-এর জীবনাদর্শ ও অন্যান্য নবীর পরিচয়

মো: মাছুদুল আমীন শাহীন অধ্যক্ষ, শাহীন ক্যাডেট স্কুল, টাঙ্গাইল

২২ নভেম্বর ২০১৭,বুধবার, ০০:০০


প্রিন্ট

প্রিয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিয়ো। আজ তোমাদের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের ‘পঞ্চম অধ্যায় : মহানবী সা:-এর জীবনাদর্শ ও অন্যান্য নবীর পরিচয়’ থেকে আরো ৯টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন : হজরত ঈসা আ:-এর মুজিযা উল্লেখ করো।
উত্তর : ‘মুজিযা’ অর্থ অলৌকিক ক্ষমতা। হজরত ঈসা আ: ছিলেন আল্লাহর একজন নবী ও রাসূল। আল্লাহ তায়ালা তাকে কিছু মুজিযা বা অলৌকিক ক্ষমতা দান করেছিলেন। তার মুজিযাগুলো হলোÑ ১. তিনি আল্লাহর হুকুমে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করতেন, ২. জন্মান্ধকে চোখের দৃষ্টিশক্তি দান করতেন, ৩. ধবল, শ্বেত ও কুষ্ঠ রোগীদের তিনি আল্লাহর রহমতে রোগ মুক্ত করে দিতেন।
প্রশ্ন : হজরত মুহাম্মদ সা:-এর জন্মপরিচয় দাও।
উত্তর : ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে ১২ই রবিউল আউয়াল আলোর দিশারি মুক্তির মহা ত্রাণকর্তা হিসেবে জন্ম নিলেন আমাদের প্রাণপ্রিয় নবী, সকল নবীর সেরা নবী, সকল মানুষের সেরা মানুষ হজরত মুহাম্মদ সা:। আরবের সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আবদুল্লাহ। তাঁর জন্মের আগেই পিতা মারা যান। মায়ের নাম আমিনা।
প্রশ্ন : হজরত দাউদ আ:-এর কিতাব পাঠ সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর : আল্লাহ পাক দাউদ আ:-কে সুমধুর কণ্ঠস্বর দান করেছিলেন। মধুর কণ্ঠে তিনি যাবুর কিতাব তেলাওয়াত করতেন। তাঁর তেলাওয়াত শুনে বনের পক্ষিকূল মাটিতে নেমে আসত এবং মনোযোগসহকারে তা শুনত। এমনকি সমুদ্রের মৎস্যকুলও তাঁর তেলাওয়াত শোনার জন্য তীরে এসে কান পেতে থাকত। হজরত দাউদ আ:-এর সুললিত মধুর কণ্ঠের যাবুর কিতাব তেলাওয়াতে মানুষ, পশুপাখি, মাছ সকলেই মুগ্ধ হতো। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে অনেক মুজিযা বা অলৌকিক ক্ষমতা দান করেছিলেন।
প্রশ্ন : হজরত ঈসা আ: বর্তমানে কোথায় জীবিত আছেন?
উত্তর : হজরত ঈসা আ: ছিলেন আসমানি কিতাবপ্রাপ্ত আল্লাহর একজন নবী ও রাসূল। তিনি ফিলিস্তিনের বায়তুল লাহাম নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর সময়ে সেখানকার লোকেরা আল্লাহকে ভুলে গিয়ে দেবদেবীর পূজা করত। তিনি মানুষকে আল্লাহর ইবাদতের প্রতি আহ্বান জানালেন। সকল দুর্নীতি ও খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকতে বললেন। কিন্তু লোকজন হজরত ঈসা আ:-এর কথা মানল না এবং তাঁকে হত্যা করার ষড়ষন্ত্র করল। কাফিররা একদিন তাঁকে হত্যা করার জন্য এক লোককে তাঁর ঘরে পাঠাল। তখন দয়াময় আল্লাহ তাঁর অসীম কুদরতে তাঁকে জীবিত অবস্থায় আসমানে তুলে নিলেন। আর ঘরের মধ্যে যে লোক তাঁকে হত্যা করার জন্য এসেছিল আল্লাহ তার চেহারা ঈসা আ:-এর মতো করে দিলেন। লোকটি ঘর থেকে বের হলে তার সাথীরা তাকে ঈসা আ: ভেবে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করল। এভাবে আল্লাহর রহমতে হজরত ঈসা আ: মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়ে আজও চতুর্থ আসমানে জীবিত অবস্থায় নিরাপদে আছেন।
প্রশ্ন : হজরত আদম আ: তাঁর সন্তানকে কী শিক্ষা দিয়েছিলেন?
উত্তর : হজরত আদম আ: তাঁর
সন্তানসন্ততিকে ইসলাম শিক্ষার দাওয়াত দেন। তিনি তাদেরকে বলেন, তোমাদের ও সারা দুনিয়ার স্রষ্টা আল্লাহ এক। তাঁর কোনো শরিক নেই। তোমরা তাঁরই ইবাদত করবে, তাঁরই কাছে মাথা নত করবে এবং তাঁরই কাছে সাহায্য ভিক্ষা করবে। এমনিভাবে জীবন যাপন করলে ইহকালে শান্তি ও পরকালে পুরস্কার পাবে। আর আল্লাহর কথা না মানলে তোমরা দুঃখ পাবে এবং পরকালে তোমাদের কঠিনতম শাস্তি হবে।
প্রশ্ন : আল্লাহ তায়ালা হজরত আদম আ:-এর জন্য জান্নাতে কী কী ব্যবস্থা করলেন?
উত্তর : আল্লাহ তায়ালা হজরত আদম আ:-কে জান্নাতে থাকতে দিলেন। সেখানে তাঁর জন্য নানারকম পানাহার, ফল-ফলাদি ও আরাম-আয়েশের ব্যবস্থা করলেন। কিন্তু জান্নাতে আদম আ: ছিলেন একা। তাঁর একাকী জীবন ভালো লাগল না। আল্লাহ তায়ালা তাঁর একাকিত্ব দূর করার জন্য সঙ্গী হিসেবে হজরত হাওয়া আ:-কে সৃষ্টি করলেন। এরপর আল্লাহ তায়ালা বললেন, ‘তোমরা জান্নাতে থাকো। যা খুশি পাহানার করো। কিন্তু সাবধান! এ গাছটির নিকটেও যেও না। তাহলে তোমাদের ভীষণ ক্ষতি হবে।’
প্রশ্ন : আল্লাহর হুকুমে হজরত সুলায়মান আ:-এর অধীনে কী কী ছিল?
উত্তর : হজরত সুলায়মান আ: ছিলেন আল্লাহর একজন নবী। আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর অনেক কিছু তাঁর অধীন করে দিয়েছিলেন। আল্লাহর হুকুমে জিন, পরী, পশুপাখি, গাছপালা এবং বাতাস তাঁর অধীন ছিল। আল্লাহর রহমতে এ সবকিছু তাঁর নির্দেশ মেনে চলত। তিনি যাকে যে নির্দেশ দিতেন সে তা পালন করত। তিনি জিন, পরী, পশুপাখি ও গাছপালার ভাষাও বুঝতে পারতেন এবং তাদের সাথে কথা বলতে পারতেন।
প্রশ্ন : হজরত নূহ আ:-এর সময়ের মানুষেরা কী কী অন্যায় করেছিল তার একটি তালিকা তৈরি করো।
উত্তর : হজরত নূহ আ:-এর সময় মানুষেরা যে যে অন্যায় কাজ করেছিল, তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেয়া হলোÑ
১. তারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিল।
২. তারা নানা প্রকার মূর্তিপূজা শুরু করেছিল।
৩. তারা চন্দ্র, সূর্য, তারকা ইত্যাদির পূজা করত। ৪. তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার নিজের প্রবৃত্তির উপাসনা করত।
৫. তারা জীবজন্তু, নদীনালা, গাছপালার পূজা করত।
প্রশ্ন : হজরত ইবরাহিম আ: সত্যের ঘোষণা দেয়ার পর তাঁর ওপর কী বিপদ ও শাস্তি এসেছিল?
উত্তর : সত্যের ঘোষণা দেয়ার পর হজরত ইবরাহিম আ:-এর ওপর বিপদের পাহাড় ভেঙে পড়ল। তাঁর পিতা তাঁকে পরিত্যাগ করার ও বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দিলেন। গোটা জাতি তাঁকে আশ্রয় দিতে অস্বীকৃতি জানাল। দেশের সরকারও তাঁর বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগে গেল। তাঁর জন্য গুরুতর শাস্তির ব্যবস্থা করা হলো। বিরাট অগ্নিকুণ্ড জ্বালিয়ে তাঁকে সে জ্বলন্ত আগুনে ফেলে দেয়া হলো। কিন্তু আল্লাহর হুকুমে আগুন ঠাণ্ডা হয়ে যায়। ইবরাহিম আ: বেঁচে যান।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫