ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

প্রথম পাতা

যথাযোগ্য মর্যাদায় সশস্ত্রবাহিনী দিবস পালিত

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা ভাতা পাবেন : প্রধানমন্ত্রী

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

২২ নভেম্বর ২০১৭,বুধবার, ০০:০০ | আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ২২:৪৬


প্রিন্ট
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সশস্ত্রবাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছেন :পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সশস্ত্রবাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছেন :পিআইডি

গতকাল যথাযোগ্য মর্যাদায় সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক এম আবদুল হামিদ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে তারা শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রতি বছর ঐতিহাসিক এই দিন সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালিত হয়।
বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বলেছেন, তার সরকার আগামী জানুয়ারি মাস থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যেককে ভাতা প্রদান করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, আনসার-ভিডিপি এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশর (তৎকালীন ইপিআর) সদস্য যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের ভাতা প্রদান করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সকালে ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০১৭’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা / উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন তারা সে সময় বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন বলে সে সময়ে তাদের ভাতা প্রদান করা হয়নি। তারা সবাই প্রায় এখন অবসরে এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও সমস্যায় রয়েছেন... আমরা তাদের সবাইকে আগামী জানুয়ারি থেকে ভাতা প্রদান করব ইনশাআল্লাহ। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সশস্ত্র বাহিনী দিবসে তিনি এখানে এলেই প্রতি বছর এই দাবি উঠত। কাজেই আমরা এটি (ভাতা) প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো: মাহফুজুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা দেন।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মুহম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে সম্মানী চেক এবং মোবাইল ট্যাবসহ বিভিন্ন উপহার ৭ বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার এবং মুক্তিযুদ্ধে সম্মাননা পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে বিতরণ করেন।
‘শান্তিকালীন’ পদক ২০১৬ বিজয়ী ১২ জন এবং ‘অসামান্য সেবা’ পদক বিজয়ী ১৪ জনসহ সশস্ত্র বাহিনীর ২৬ জন সদস্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পদক বিতরণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যার ফলশ্রুতিতে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
জাতির বীর সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক মর্যাদায় পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং তাদের অবদানের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি দিতে তার সরকার নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতার পরিমাণ ৯০০/- টাকা থেকে পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করে ১০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে এবং ভাতা ভোগীর সংখ্যা এক লাখ থেকে বৃদ্ধি করে দ্বিগুণ অর্থাৎ দুই লাখে উন্নীত করা হয়েছে। তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৬৭৬ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে যথাক্রমে বীরশ্রেষ্ঠদের জন্য ৩০ হাজার টাকা, বীর উত্তমদের জন্য ২৫ হাজার টাকা, বীর বিক্রমদের জন্য ২০ হাজার টাকা এবং বীর প্রতীকদের জন্য ১৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিভিন্ন শ্রেণীর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারবর্গের মাসিক রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা সর্বনি¤œ ২৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাগণকে শিক্ষাভাতা, কন্যাসন্তানের ক্ষেত্রে বিবাহ ভাতা, উৎসবভাতা, দেশে-বিদেশে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রতিটি জেলায় ভবন নির্মাণ করা হবে। যার মধ্যে ৪৯টি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন এবং হস্তান্তর করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৩ থেকে মোট এক হাজার ৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৭০টি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় ইতোমধ্যে ২৫১টি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়েছে।
বক্তৃতার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মহান সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সবাইকে শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সব ধরনের কল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।
বক্তব্যের শেষপর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো তাদের ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে এটাই প্রমাণ হয়েছে যে, ইতিহাসকে কখনো মুছে ফেলা যায় না এবং ইতিহাস তার স্থান এক দিন ঠিকই করে নেবে। এটা এখন প্রমাণিত।
এ দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের দেশবাসীর সঙ্গে একত্রে মিলে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে গড়ে তোলা হবে। জনগণের কল্যাণে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল সশস্ত্রবাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা তাদের কর্মে এবং পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদাকে সমুন্নত করবেন এবং জাতীয় উন্নয়নে তাদের ভূমিকা অব্যাহত রাখবেন।
বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলার জন্য আমাদের সরকার কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকাও দেশে-বিদেশে বহুলপ্রশংসিত হয়েছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী এবং তিনবাহিনী প্রধানরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহাব মিয়া, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা, মন্ত্রী পরিষদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতা, ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা ও তাদের স্ত্রী, কূটনীতিক এবং পদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা সংবর্ধনায় অংশ নেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫