মালয়েশিয়ার ২৬ ডিটেনশন ক্যাম্পে ৮ শতাধিক বাংলাদেশী

‘প্রতি ফ্লাইটেই এক থেকে দেড় শ’ লোক আসছে’
মনির হোসেন

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরসহ দেশটির ২৬টি ‘ডিটেনশন ক্যাম্পে’ ৮ শতাধিক বাংলাদেশী বন্দী রয়েছেন। এরমধ্যে মহিলা বন্দীও রয়েছেন।
এ দিকে প্রতিদিন মালয়েশিয়ার বিভিন্ন স্টেটে চলছে ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান। পুলিশ, ইমিগ্রেশন, রেলাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে শত শত অবৈধ শ্রমিক ধরা পড়ছেন। এরপরও দুই দেশের ইমিগ্রেশনের কিছু কর্মকর্তার সাথে অলিখিত চুক্তি করে ট্যুরিস্ট ও ভিজিট ভিসার নামে বাংলাদেশ থেকে নামধারী শ্রমিক পাঠানো কোনোভাবেই থামছে না। আর প্রতিটি ফ্লাইটে নামধারী ট্যুরিস্ট যাওয়া অব্যাহত থাকায় মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনও উদ্বিগ্ন।
১৩ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) স্বাক্ষরিত দেশটির ডিটেনশন ক্যাম্পগুলোয় কী পরিমাণ বাংলাদেশী আটক আছেনÑ এমন তথ্য জানতে চেয়ে মিনিস্ট্রি অব হোম অ্যাফেয়ার্সে (সেক্রেটারি ফর প্রিজন অ্যাফেয়ার্স, এন্ট্রি ড্রাগস অ্যান্ড রেলা) এ আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রিজন হেডকোয়ার্টার থেকে হাইকমিশনকে জানানো হয়, সাত সেপ্টেম্বর-২০১৭ পর্যন্ত দেশটির ২৬ সেন্টারে ৮০৬ জন বাংলাদেশী বন্দী রয়েছেন। এরমধ্যে পুরুষ ৭৭৮ জন আর মহিলা ২৮ জন।
আটক বাংলাদেশীর মধ্যে পারলিস কারেকশনাল ক্যাম্পে তিনজন, এলোর সিটারে ১০, পোকক সিনায় ৩৩, সুংগাই পিটানি ৮, পুলাউ পিনাং ১৬, সেবেরাং পিরাই ৪৮, তাইপিং এ ৯, কেমতায় ৪, তাপাহ ২১, সুংগাই বুলুতে ১৩৯ জন, কাজাং (পুরুষ) ২০৯ ও কাজাং মহিলা ডিটেনশন ক্যাম্প এ ২৪ জন, সিরামবান এ ১৮ জন, জেলেবু তে ১৩ জন, সুংগাই উডাং এ ১২ জন, সিমপাং রেনগাম ১৪, জহুরবারুর ২৮ জন, কুয়াং ক্যাম্পে ৭০ জন, পেং কালান চিপায় ৬ জন, মাচাং ১৪ জন, মারাং ৮ জন, ডুনগুন, পিনোর ১ জন, বেনতং ৭৭ জন, সিবু ১ জন ও মিরি ক্যাম্পে ৫ জন বাংলাদেশী বন্দী আছেন বলে এক পত্রের মাধ্যমে জানানো হয়। এসব বন্দী ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক থাকার পরও গত অক্টোবর ও চলতি নভেম্বর মাসে আরো কয়েক শ’ বাংলাদেশীসহ বিদেশী অবৈধ শ্রমিক পুলিশি অভিযানে ধরা পড়ে। ওই হিসাবে দেশটির কারাগারে বর্তমানে সহস্রাধিক বাংলাদেশী আটক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছে।
মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর (শ্রম) সায়েদুল ইসলাম মুকুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, মূলত যারা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে দেশটির বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছেন তাদের বেশির ভাগ হয় পাসপোর্ট রিনিউর সমস্যা, নতুবা ট্যুরিস্ট অথবা ভিজিট ভিসায় মালয়েশিয়ায় এসে মেয়াদ শেষে অবৈধ হওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাইকমিশন থেকে কারাগারে আটকদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তাদের নামে ট্রাভেল পাস ইস্যু করে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। এর আগে আমরা প্রতি সপ্তাহে ডিটেনশন ক্যাম্প ভিজিট করে বাংলাদেশীদের খোঁজখবর নিচ্ছি। তিনি আরো বলেন, কারাগার ভিজিট করার সময় কারাগারে আটক ব্যক্তির স্বজন না পাওয়া না গেলে সেই ক্ষেত্রে হাইকমিশনের ওয়েলফেয়ার ফান্ড থেকে টিকিটের টাকা দিয়ে দেশে ফেরত পাঠাচ্ছি। এরপরও পরিতাপের বিষয়Ñ বাংলাদেশ থেকে কোনোভাবেই ট্যুরিস্ট ও ভিজিট ভিসায় অবৈধ লোক আসা বন্ধ হচ্ছে না। আমাদের জানা মতে, বাংলাদেশ থেকে যতগুলো ফ্লাইট আসছে, সেসব ফ্লাইটে কম করে হলেও এক থেকে দেড় শ’ লোক আসছেন। এটা বন্ধ হওয়া উচিত। আমরা কারাগার ভিজিট করতে গিয়ে যত লোকের ধরা পড়ার সমস্যা নিয়ে কথা বলেছি, তার মধ্যে ট্যুরিস্ট ভিসায় আসা লোকই বেশি।
এর আগে মালয়েশিয়ার শিপাং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অদূরে একটি রেস্টুরেন্টের ব্যবসায়ী মনির হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, কয়েক দিন আগে আমার দু’জন লোক এসেছে ইমিগ্রেশন কন্ট্রাক্টে। ওই শ্রমিক আসতে বিমানবন্দরে সমস্যা হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই এয়ারপোর্টেই তাদের ব্যাপারে ইনফরমেশন দেয়া থাকে। তাই সমস্যা হয় না।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.