ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

আরো খবর

হাজারীবাগে পুলিশের নির্যাতনে ট্যানারি ব্যবসায়ীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ নভেম্বর ২০১৭,বুধবার, ০০:০০ | আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০১৭,বুধবার, ০১:২৭


প্রিন্ট

রাজধানীর হাজারীবাগে পুলিশের নির্যাতনে হাজী মো: শাহ আলম (৬৫) নামে এক ট্যানারি ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বিকেলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাতিজা লিটন জানান, গত ১৯ নভেম্বর রাতে হাজারীবাগ থানা পুলিশ ৮/২ টালী অফিস রোড হাজারীবাগের বাসা থেকে শাহ আলমকে গ্রেফতার করে। এরপর থানায় নিয়ে তাকে অমানবিকভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। পরিবারের সদস্যরা দেখতে গেলেও কাউকে দেখতে দেয়নি পুলিশ। নির্যাতনের একপর্যায়ে থানা হাজতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন শাহ আলম। পরে গতকাল ভোরে হাজারীবাগ থানা পুলিশ শাহ আলমকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে চিকিৎসা দিয়ে তাকে আদালতে হাজির করে। কিন্তু শাহ আলম আদালতে দাঁড়াতে পারেছিলেন না। পরে আদালত তাকে বেঞ্চে বসার অনুমতি দেন। কিন্তু বিকেলের দিকে শাহ আলম আদালতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাজারীবাগ থানার এসআই আব্দুল মোতালেব ও আদালতে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে বিকেল ৪টার দিকে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
লিটন আরো বলেন, শাহ আলমের সাভারে এফএম লেদার কমপ্লেক্স নামের একটি ট্যানারি রয়েছে। সম্প্রতি স্বপন ও আব্দুর রহমান নামে অপর দুই ট্যানারি ব্যবসায়ীর সাথে তার বিরোধ হয়। তিনি অভিযোগ করেন, ওই বিরোধের জেরে পুলিশ স্বপন ও আব্দুর রহমানের পক্ষ নিয়ে শাহ আলমকে গ্রেফতার করে অমানুষিক নির্যাতন করে। এতে তার মৃত্যু হয়।
হাজারীবাগ থানার এসআই মোতালেব জানান, আদালতে হাজির করার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে শাহ আলম অসুস্থ হয়ে পড়লে আদালত তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার নির্দেশ দেন। এরপর কোর্ট পুলিশের সাথে তিনি শাহ আলমকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ফিরোজ আহমেদ জানান, এই মৃত্যু নিয়ে পরিবারের অভিযোগ রয়েছে। তাই লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতের বাবার নাম মরহুম হাজী হেদায়েত উল্লাহ। তার গ্রামের বাড়ি লক্ষèীপুর সদরের পিতারকান্দি।
এ ব্যাপারে ডিসি (রমনা জোন) মারুফ হোসেন সরদার জানান, এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
হাজারীবাগ থানার ওসি মীর আলিমুজ্জামান জানান, একটি গুলির ঘটনার আসামি ছিলেন শাহ আলম। তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালে সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখান থেকে হাসপাতালে নেয়া হলে তার মৃত্যু হয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫