সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ছে না

সংসদ প্রতিবেদক

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে ৩৫ করার দাবি আবারো নাকোচ করে দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সংসদকে জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার কোনো পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই।

আজ সোমবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে একাধিক সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান। মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে প্রশ্নের উত্তর দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার জাসদ একাংশের কার্যকরী সভাপতি মঈনুদ্দিন খান বাদল সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার দাবি জানিয়েছিলেন। চাকরিপ্রার্থীরাও এ নিয়ে বিভিন্ন সময় আন্দোলন করে আসছিলেন।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেন, পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বড় ধরণের সেশনজট থাকলেও বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সেশনজট নেই বললেই চলে। ফলে শিক্ষার্থীরা সাধারণত ১৬ বছরে এসএসসি, ১৮ বছরে এইচএসসি এবং ২৩/২৪ বছরে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে থাকে।

তিনি জানান, সাধারণ প্রার্থীদের জন্য চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর বিধায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করার পরও তারা চাকরিতে আবেদনের জন্য কমপক্ষে ৬/৭ বছর সময় পেয়ে থাকে। এছাড়া ৩০ বছর বয়সসীমার মধ্যে একজন প্রার্থী চাকরির জন্য আবেদন করলে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ২/১ বছর লাগলেও তা গণনা করা হয় না।

মন্ত্রী জানান, সম্প্রতি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৫৭ বছর হতে ৫৯ বছরে উন্নীত হওয়ায় বর্তমানে শূণ্য পদের সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি করা হলে বিভিন্ন পদের বিপরীতে চাকরি প্রার্থীদের সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে, ফলে নিয়োগের ক্ষেত্রে অধিকতর প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হতে পারে। এতে করে যাদের বয়স বর্তমানে ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে তারা চাকরিতে আবেদন করার সুযোগ পেলেও অনুর্ধ্ব ৩০ বছরের প্রার্থীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হতে পারে। তাই বয়স বাড়ানোর কোন পরিকল্পনা সরকারের আপাতত নেই।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.