ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

ঢাকা

আলুতে ১০ হাজার ২শ কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা

চান্দিনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

২০ নভেম্বর ২০১৭,সোমবার, ১৩:৪৭


প্রিন্ট

কৃষকদের কাছ থেকে আলু কিনে মৌসুমের শুরু থেকেই বেশ বেকায়দায় পড়েছেন সংরক্ষণকারীরা। গত ১৮ ও ১৯ নভেম্বর কুমিল্লার বিভিন্ন কোন্ড স্টোরেজ ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমান মৌসুমে যে পরিমান আলু কোল্ড স্টোর থেকে বিক্রি হবার কথা তা অত্যন্ত হতাশাজনক। এ নিয়ে ১০ হাজার ২শ কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
কুমিল্লার চান্দিনা ফার্মল্যান্ডে গিয়ে দেখা যায় কোল্ড স্টোর থেকে ১৪০ বস্তা আলু বারান্দায় ফেলে রেখে সেগুলো বাছাই চলছে।
ফার্মল্যান্ডের ম্যানেজার বাবুল আক্তার জানান, অন্যান্য বছর নভেম্বর মাসে কোল্ড স্টোর প্রায় খালি হয়ে যায়। কিন্তু এ বছর ৮৪ হাজার ব্যাগ আলুর মধ্যে বের হয়েছে মাত্র ৪৭ হাজার ব্যাগ। দিন যতই গড়াবে আলুর মানও কমতে থাকবে।
আলু সংরক্ষণ মৌসুমের শুরু থেকে সারা দেশের ৪১৬টি কোল্ড স্টোরেজে ৫৩ লাখ মে.টন আলু সংরক্ষণ করা হয়। সংরক্ষণের শেষ মুহুর্তে (চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত) সারা দেশের কোল্ড স্টোরেজ গুলো থেকে আলু বাহির করা হয়েছে মাত্র ৩০ লাখ মে.টন। যা মূল সংরক্ষণের ৫৫%। এখনও কোল্ড স্টোরেজ গুলোতে সংরক্ষণ রয়েছে প্রায় ২৩ লাখ মেট্রিকটন। আগামী এক মাসের মধ্যে ৪৫% আলু কোল্ড স্টোরেজ থেকে বাহির হবে কি-না? তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন স্টোরেজ মালিকপক্ষ।
সোমবার বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশন লি. মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, গত মৌসুমে সারা দেশে এক কোটি মে.টন আলু উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছে ৫৩ লাখ মে.টন। উত্তরবঙ্গ সহ সারা দেশে আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় এবং বিদেশে রপ্তানী কারকরা পর্যাপ্ত পরিমান আলু রপ্তানী না করায় সংরক্ষণ মৌসুমের শুরু থেকে আলুর দর পতন ঘটে চলছে।
আমাদের হিসাব মতে আগামী এক মাসে আরও ৮-১০ লাখ মে.টন আলু কোল্ড স্টোরেজ থেকে বের হবে। সেই হিসেবে এবার সংরক্ষণকৃত প্রায় ১৫ লাখ মে.টন আলু অবিক্রিত থাকবে। যার ফলে সংরক্ষণকারী-আড়ৎদার-স্টোরেজ মালিক পক্ষ ও কৃষক পর্যায়ে প্রায় ১০ হাজার ২শ কোটি টাকা লোকসান হবে।
তিনি আরো জানান, পরপর কয়েকটি বছর আলু সংরক্ষণ ও কৃষকরা লোকসান গুনে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকরা আলু চাষে মুখ ঘুরিয়ে নিবে এবং কোল্ড স্টোরেজগুলোও সংরক্ষণের জন্য আলু পাবে না। এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সরকারি ত্রাণে চাল-গমের পাশাপাশি আলু অর্ন্তভূক্ত করতে হবে এবং বিদেশে রপ্তানী করার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে।
বর্তমানে কৃষক, সংরক্ষণকারী ও কোল্ড স্টোরেজ মালিক পক্ষদের প্রায় ১০ হাজার ২শ কোটি টাকার লোকসান সামাল দিতে আমরা বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি।
এদিকে, কোল্ড স্টোরেজ কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আলু মৌসুমের শুরু থেকে সংরক্ষণকারীরা কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মে.টন আলু কিনেছিলেন ১৩হাজার টাকা দরে। আর কোল্ড স্টোরেজে এক হাজার মে.টন আলু সংরক্ষণ ব্যয় প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা। সেই হিসেবে প্রতি মে.টন আলুর মূল্য দাঁড়ায় সাড়ে ১৬ হাজার থেকে ১৭ হাজার টাকা।
সংরক্ষণ করার পর থেকেই আলু দরপতন শুরু হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে সংরক্ষণকারীদের। বর্তমানে প্রতি মে.টন আলু বিক্রি হচ্ছে ৬-৭ হাজার টাকায়। আর প্রতি মে.টন আলুতে সংরক্ষণকারীদের লোকসান হচ্ছে প্রায় ৯-১০ হাজার টাকা। যার ফলে সংরক্ষণকারীরা এখন কোল্ড স্টোরেজেই আসেন না।
গত মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় এবং কোল্ড স্টোরেজ গুলোতে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি সংরক্ষণ করায় বছর জুড়ে দেশে আলুর চাহিদা মিটিয়ে এখনও এক তৃতীয়াংশ অতিরিক্ত আলু কোল্ড স্টোরে রয়েছে। এমনকি যারা কোল্ড স্টোরেজ থেকে লোন নিয়ে আলু সংরক্ষণ করেছেন তারা তো স্টোরেজের ভাড়ার টাকা পরিশোধ করার ভয়েও আলুর খোঁজ নিচ্ছেন না। তার কারণেও স্টোরেজ মালিক পক্ষ লোকসানের মুখে পড়েছে।
এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশন এর পরিচালক মুনতাকিম আশরাফ টিটু আলু শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে এ বছর কৃষক ও সংরক্ষণকারী এবং স্টোরেজ মালিকদের পাশে দাড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫