ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

নারী

শাপলা-শালুকেই তাদের জীবিকা

আব্দুর রাজ্জাক

২০ নভেম্বর ২০১৭,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট

ওরা শালুক কুড়ানির দল। এই শালুকই তাদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন দীর্ঘ করে তুলেছে। শালুক কুড়িয়ে অভাব লাঘবের চেষ্টা করছেন মানিকগঞ্জের প্রায় তিন শতাধিক দরিদ্র ও ক্ষুদ্র আদিবাসী পরিবারের সদস্য।
বর্তমানে শালু কুড়ানোকে অনেকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। খাল-ক্ষেত-বিলে শালুক কুড়োনোর দৃশ্যপটে দেখা মেলে ছুটে চলা কিশোরীর দল। ওরা শালুক কুড়িয়ে কেজি দরে বিক্রি করে। প্রতি কেজি শালুক বিক্রি হয় ৪০ থেকে ৮০ টাকা দরে।
এক চক পাড়ি দিয়ে ঘিওর-দৌলতপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের নিচু জমির কোমর জলে শালুক তুলতে আসছেন বৈলট গ্রামের জড়িনা বেগম (৬০)। সাথে প্রতিবেশী দুইজন ও তার তিন ভাতিজি, যেন শালুক তোলার উৎসবে মেতেছে তারা। দল বেঁধে শালুক তোলা যেন রূপসী বাংলার আরেক অপরূপ দৃশ্য।
বিভিন্ন মাঠে পানিতে ডুবে থাকা শাপলা ফুলের শালুক তুলে তা বাজারে বিক্রি প্রতিদিন ১০০-৩০০ টাকা তাদের পরিবারের জন্য আয় করছে তারা, যা অভাবের সময় তাদের কাছে অনেক।
ভিন্ন স্বাদের মজাদার খাবারের আরেক নাম শালুক। তাই গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে আজো রয়েছে শালুকের অনেক কদর। বর্ষা থেকে হেমন্তের শেষ পর্যন্ত নদী-নালা, খাল-বিল, জলাশয়ের নিচু জমিতে জন্মায় শাপলা। শাপলা গাছের গোড়া থেকে সংগ্রহ করা হয় শালুক। শালুক শাপলা গাছের গোড়ায় জন্মানো এক ধরনের সবজিজাতীয় খাদ্য। শাপলা গাছের গোড়ায় একাধিক গুটির জন্ম হয়, যা ধীরে ধীরে বড় হয়ে শালুকে পরিণত হয়। প্রকৃতপক্ষে, শাপলা গাছের পাতা এবং শালুক গাছের পাতার আকৃতিতে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। শালুক গাছের পাতার আকৃতি কিছুটা লম্বাটে হয়ে থাকে। জাতের ভিন্নতা ও স্বাদে এটাই প্রকৃত শালুক। তবে শাপলা গাছের গোরায় অসংখ্য শিকড় ছড়ানো বড় গুটি শালুক হিসেবে সমাদৃত সবার কাছে। শাপলা সাধারণত লাল ও সাদা রঙের হয়। একেকটি শালুকের ওজন সাধারণত ৪০ থেকে ৭০ গ্রাম হয়ে থাকে। এটি সেদ্ধ করে বা আগুনে পুড়িয়ে খাওয়া যায়। শালুক হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। দ্রুত ক্ষুধা নিবারণ করে এবং শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি জোগায়। সবজি হিসেবে সমাদৃত হওয়ার পাশাপাশি চুলকানি ও রক্ত আমাশয় নিরাময়ের জন্য ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। শালুককে গ্রাম্য ভাষায় বলা হয় ‘শালু’। শালুক কুড়ানো এ দেশে যুগযুগান্তরের ঐতিহ্যগাঁথা। তাই গ্রামবাংলার ঐতিহ্যে শালুক কুড়ানো একটা উৎসবের মতো। সাধারণত শরৎ ও হেমন্ত ঋতুতে শালুক তোলার উপযুক্ত সময়। তবে অনেক নিচু জমির জলে বছরের প্রায় সময়ই শালুক দেখা যায়। তবে শালুক কুড়ানোর দৃশ্য বর্তমানে কিছুটা বিরল চিত্র।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫