ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

শিক্ষা

বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং নিয়ে প্রশ্ন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ নভেম্বর ২০১৭,রবিবার, ২১:২১


প্রিন্ট

সম্প্রতি প্রকাশিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। তারা এর গবেষণা পদ্ধতি, র‌্যাংকিংয়ের মানদণ্ড বা বিবেচ্য বিষয় ও তথ্য-উপাত্তকে সঠিক ও তথ্য নির্ভর বলে আখ্যায়িত করেছে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, অনেক পুরানো ও ব্যাকডেটেড তথ্যের ভিত্তিতে করা র‌্যাংকিংকে এক ধরনের উপহাস বলে অভিহিত করেছে। তবে, প্রথমবারের মত হলেও এ ধরনের র‌্যাংকিং’র উদ্যোগকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সলর অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এ র‌্যাংকিং প্রত্যাখানের কিছু নেই। র‌্যাংকিং’র পদ্ধতি ও গবেষনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত তথ্যগুলো ব্যাকডেটেডে। এখানেই আমাদের প্রতিবাদ।

আজ দুপুরে বারিধারাস্থ বিশ্ববিদ্যালয়টির সিন্ডিকেট হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি প্রকাশিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং’র নানা দিক নিয়ে কথা বলেন ভাইস চ্যান্সলর অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম ও বিভিন্ন ফ্যাকাল্টির ডীনগণ।

গত ১০ নভেম্বর দু’টি অন-লাইন পত্রিকার উদ্যোগে ওআরজি কোয়েস্ট রিসার্চ লিমিটেড নামের একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান দেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে প্রথমবারের মত র‌্যাংকিং তালিকা প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করে। গবেষণায় বিবেচ্য সবধরনের সূচক পূরণ করে এমন ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে র‌্যাংকিংটি করা হয়। সে অনুযায়ী র‌্যাংকিংয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। দ্বিতীয় স্থানে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ও তৃতীয় স্থানে ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে যথাক্রমে আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।

ওআরজি কোয়েস্ট’র গবেষণায় ধারণা সূচক এবং বাস্তব তথ্য নামে প্রধান দু’টি সূচক ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে ধারণা সূচক স্কোরে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সবার শীর্ষে অবস্থান করছে। আর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এবং তৃতীয় স্থানে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি। অপরদিকে বাস্তব তথ্য ভিত্তিক স্কোরে শীর্ষে আছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, তৃতীয় স্থানে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট স্টাডিজ বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক শরীফ নুরুল আহকাম প্রকাশিত র‌্যাংকিং-এ বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরে নিজস্ব বা নর্থ সাউথের মতামত উপস্থাপন করে বলেন, র‌্যাংকিং-এ প্রথম হিসেবে চিহ্নিত ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে নর্থ সাউথের যে সব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা পক্ষপাত দুষ্ট। নর্থ সাউথকে নেতিবাচক নাম্বার দেয়া হয়েছে। র‌্যাংকিং করার ক্ষেত্রে নানা অসামঞ্জস্য ও ত্রুটি রয়েছে।

তিনি বলেন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণকালীন সব স্তরের শিক্ষক বেশি নর্থ সাউথে বেশি। শিক্ষক ছাত্রের অনুপাতও বেশি। পূর্ণাঙ্গ ও বিশাল লাইব্রেরি রয়েছে নর্থ সাউথের। যে লাইব্রেরিটি অন-লাইন করা। ফলে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই সেখানে প্রবেশ করতে পারে। যা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েরই নেই। এসব ক্ষেত্রে নর্থ সাউথকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে নাম্বারিং’র ক্ষেত্রে।

তিনি অভিযোগ করেন, নর্থ সাউথকে অনেক ক্ষেত্রেই নেতিবাচক স্কোরিং করা হয়েছে। র‌্যাংকিং-এ ব্যবহৃত গবেষণায় পদ্ধতিগত ভুল ছিল। গবেষণাকর্মে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিসংখ্যানবিদ ছিলেন না। যে কারণে গাণিতিক বিশ্লেষণে ভুল হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম বলেন, র‌্যাংকিং’র প্রতিবেদন প্রত্যাখান করছি না। এ ব্যাপারে কোনো আইনী পদক্ষেপ নেয়া বা এ কাজে গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তার জন্য কাউকে অভিযুক্ত করছি না। তবে, এ ধরনের প্রচেষ্টা বা উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং’র জন্য আরো ভালো র‌্যাংকিং প্রতিষ্ঠান থাকা প্রয়োজন। এর ফলে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটি ইতিবাচক প্রতিযোগিতার পথ সুগম হবে। প্রকাশিত র‌্যাংকিং’র ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে তা অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ। বিভিন্ন সূচকে যে নম্বর প্রদান করা হয়েছে তা সঠিক হয়নি।

ভিসি অধ্যাপক আতিকুল বলেন, কারো পা কেটে আমরা লম্বা হতে চাই না। আমাদের কোন ত্রুটি থাকলে তা দূর করেই আমরা বড় হতে চাই।

তিনি বলেন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমাদের সুসম্পর্ক আছে। তারা ভালো করলে আমরা তাদের সবার আগে অভিনন্দন জানাব।

সংবাদ সম্মেলনে একাধিক বক্তা ব্র্যাকের গবেষণায় অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ ব্যাপারে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বছরে ৪০ কোটি টাকা এখাতে ব্যয় করতে হলে প্রত্যেক শিক্ষকের সাড়ে ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ করতে হয়। কিন্তু সেটা বাস্তবে করা হয়েছে কি না প্রশ্ন সাপেক্ষ। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এবছরও এখাতে এক কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রেখেছে। এছাড়া দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠান নর্থ সাউথ’র সাথে যৌথ গবেষণা কর্মে অংশ নিয়ে থাকে। তাদের মাধ্যমেও প্রাপ্ত তহবিল গবেষণায় ব্যবহার করা হয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫