ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

বিবিধ

বছরে ৫০ হাজার মানুষ কিডনি জটিলতায় মারা যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ নভেম্বর ২০১৭,রবিবার, ২০:৫৩


প্রিন্ট

বাংলাদেশে এক কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে বছরে ৩৫-৪০ হাজার মানুষ কিডনি বিকল হয়ে মারা যাচ্ছে। ডায়াবেটিসের কারণে ৪০ শতাংশ ও উচ্চ রক্তচাপের কারণে ২০ শতাংশ ক্রনিক নেফ্রাইটিসের কারণে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ রোগী কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া একিউট কিডনি ইনজুরিতে (একেআই) আক্রান্ত হচ্ছে বছরে এক কোটি ৩৩ লাখ। উন্নয়নশীল দেশে এর পরিমাণ এক কোটি ১৩ লাখ। যেখান থেকে বছরে মারা যায় ১৭ লাখ।

দেশে ৮০ লাখ লোক ডায়াবেটিসে এবং দুই কোটি লোক উচ্চরক্তচাপে ভুগছে। কিডনি রোগের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো- প্রথম দিকে এর কোনো উপসর্গ থাকে না। কিন্তু যখন উপসর্গ ধরা পড়ে ততক্ষণে কিডনির প্রায় ৭৫ ভাগই বিকল হয়ে পড়ে। জনসাধারণকে সচেতন করা গেলে এবং শুরুতে শনাক্ত করা সম্ভব হলে এ রোগ প্রতিরোধ অনেকাংশেই সম্ভব।
কিডনি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ১৩ম জাতীয় সম্মেলন ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারে আজ রোববার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা এসব তথ্য দেন। সম্মেলনটি শুরু হয় গত শনিবার এবং আগামীকাল সোমবার তা শেষ হবে।

কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক হারুন আর রশিদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব) এম এ আব্দুল মালিক।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক একে আজাদ খান ও যুক্তরাজ্যের রয়াল লন্ডন হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. স্ট্যানলি ফ্যান।

বক্তব্য রাখেন, কিডনি ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি মেজর জেনারেল (অব) অধ্যাপক জিয়াউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক এম এ ওয়াহাব, মহাসচিব অধ্যাপক মুহিবুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক টাইনি ফেরদৌস রশিদ প্রমুখ।

জাতীয় অধ্যাপক এম এ মালিক বলেন, ‘কিডনি রোগের সাথে ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপের সম্পর্ক রয়েছে। যারা কিডনি রোগে ভুগছেন তাদের হার্টের জটিলতা রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখা উচিৎ।’

অধ্যাপক হারুন আর রশিদ বলেন, ক্রনিক কিডনি রোগের প্রধান কারণ ডায়াবেটিস। এজন্য যথাযথ চিকিৎসা ও
সচেতনতা জরুরি। কিডনি রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত করলে ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। এ রোগ প্রতিরোধে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাটা, অতিরিক্ত লবণ পরিত্যাগ, হরহামেশা ব্যথানাশক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন, ফাস্টফুড, চর্বি জাতীয় ও ভেজাল খাবারসহ ধুমপান বর্জন করতে হবে। এছাড়া বছরে অন্তত: একবার কিডনি ফাংশন পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন তিনি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫