ঢাকা, সোমবার,১১ ডিসেম্বর ২০১৭

ফুটবল

রিয়ালকে অনেক পেছনে ফেলে দিলো বার্সা

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৯ নভেম্বর ২০১৭,রবিবার, ১৪:৫৫ | আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০১৭,রবিবার, ১৫:০১


প্রিন্ট
লিওনেল মেসি ও রোনালদো

লিওনেল মেসি ও রোনালদো

মাদ্রিদ ডার্বিতে রিয়াল ও অ্যাথলেটিকোর মধ্যে কোনো দলই জিততে পারেনি। শনিবার ওয়ান্ডা মেট্রোপোলিটানোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হওয়ায় দুটি দলই টেবিলের শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার থেকে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে গেছে।

এর আগে দিনের শুরুতে লুইস সুয়ারেজের দুই গোলে বার্সেলোনা লেগানেসকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে। পাঁচ ম্যাচের গোলখরা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত উরুগুয়ের তারকা সুয়ারেজ কাল গোলের দেখা পেয়েছেন। ম্যাচের অপর গোলটি করেছেন পলিনহো।

এবারের মৌসুমে দুই মাদ্রিদই গোলের সামনে গিয়ে নিজেদের ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। কালও তার ব্যতিক্রম ছিল না। কাল ম্যাচ শুরুর তিন মিনিটের মধ্যেই অ্যাথলেটিকোকে দারুণ একটি গোলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেন এঞ্জেল কোরেয়া।

ম্যাচ শেষে মাদ্রিদ কোচ জিনেদিন জিদান বলেছেন, ‘আমাদের আজ গোলের অভাব ছিল। কিন্তু তার বাইরে আমি মনে করি খেলোয়াড়রা ভালোই খেলেছে, এর থেকে আরো বেশি তাদের প্রাপ্য ছিল। ১০ পয়েন্ট অনেক বেশি। কিন্তু আমি নিশ্চিত এর পরিবর্তন হবেই। কারণ বার্সাও সবসময়ই জিতবে না। আমরাও ভালোভাবেই সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।’

ঘরের মাঠে অ্যাথলেটিকোর শুরুটা ভালোই হয়েছিল। অন্যদিকে রিয়ালের প্রথম সুযোগটা আসে কাউন্টার এ্যাটাক থেকে। কিন্তু হুয়ানফ্র্যানের পাস থেকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পা ঘুরে আসা বল থেকে লুকা মোদ্রিচ কোন সুখবর দিতে পারেননি।

অ্যাথলেটিকো বস দিয়েগো সিমিয়োনে বলেছেন, প্রথম ২৫ মিনিটে বিশ্বের সেরা দলের বিপক্ষে আমাদের খেলা দেখলেই বোঝা যাবে আজ আমরা কেমন খেলেছি। বার্সেলোনার জয়ের পরে রিয়ালও জয়ের জন্য মরিয়া ছিল। গোল করতে গিয়ে আজ কিছুটা কষ্ট হয়েছে। কোরেয়ার ওই গোলটি হয়ে গেলে ম্যাচের ভাগ্য হয়তবা পরিবর্তিত হতে পারতো।

সফরকারী মাদ্রিদ ধীরে ধীরে বলের পজিশন নিজেদের করে নিয়েছিল। কিন্তু কোনকিছুতেই গোলের দেখা পায়নি। রোনালদোর পাস থেকে টনি ক্রুসের শট অ্যাথলেটিকো গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাক গোলপোস্টের খুব কাছ থেকে আটকে দেন। সার্জিও রামোসের নাকের হাড়ে চিড় ধরায় বিরতির পরে তার পরিবর্তে মাঠে নামে নাচো। এবারের মৌসুমে আক্রমণভাগে রিয়ালের ব্যর্থতার পিছনে রোনালদোকে অনেকাংশেই দায়ী করা যায়। কালকের ম্যাচের প্রথমার্ধে মোদ্রিচের পাস থেকে সবচেয়ে সহজ সুযোগটি নষ্ট করেন এই পর্তুগীজ তারকা। অন্যদিকে আরেকটি ব্যর্থ দিন কাটানো এন্টোনিও গ্রিয়েজমানকেও ম্যাচ শেষে ১৫ মিনিট আগে মাঠ থেকে উঠিয়ে নিতে বাধ্য হন সিমিয়োনে। অনেকটা বিরক্তির সুরেই এই ফ্রেঞ্চম্যান সম্পর্কে ম্যাচ শেষে সিমিয়োনে বলেছেন, ‘কেউ যদি আমার পরিবারে থাকে তবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি তার সাথে থাকবো।’

গ্রিয়েজমানের পরিবর্তে মাঠে নামা কেভিন গামেরিওর লব শট লাইনের উপর থেকে রাফায়েল ভারানে ক্লিয়ার না করলে ঐ সময়ই হয়ত গোল পেয়ে যেতো স্বাগতিকরা।

দিনের শুরুতে বার্সেলোনার জয়ের থেকেও সুয়ারেজের গোলে ফেরাটাই যেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। ম্যাচ শেষে অবশ্য সুয়ারেজ বলেছেন, ‘দল জিতেছে এটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ম্যাচে সবসময়ই আমরা আমাদের সেরাটা দেবার চেষ্টা করি। কিন্তু মাঝে মাঝে সেটা সম্ভব হয় না।’

ম্যাচের প্রথমদিকে লেগানেস নিজেদের মাটিতে বার্সেলোনাকে বেশ ভালোভাবেই আটকে দিয়েছিল। তবে ২৮ মিনিটে পাকো আলকাসারের ক্রস থেকে সুয়ারেজ দলকে এগিয়ে দিলে স্বাগতিক দর্শকরা হতাশা ব্যক্ত করে। এই গোলে অবশ্য গোলরক্ষক ইভান কুয়েলারের ভুলকেই দায়ী করা যায়। প্রায় একমাস পরে বার্সেলোনার জার্সি গায়ে গোলের দেখা পেলেন সুয়ারেজ।

পরের মিনিটেই অবশ্য বার্সেলোনার জন্য দুঃসংবাদ বয়ে নিয়ে আসে জেরার্ড পিকের হলুদ কার্ড। নোরডিন আমব্রাবাতকে ট্যাকেল করার অপরালে প্রাপ্ত এই কার্ডের কারণে পরপর দুই ম্যাচে সতর্ক হওয়া পিকে আগামী সপ্তাহে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে পারবেন না। পুরো ম্যাচে দারুন ব্যস্ত আমব্রাবাত বিরতির আগে লেগানেসের হয়ে সবচেয়ে সহজ সুযোগটি সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু আলেক্সান্দার সিমানোভস্কির ওই প্রচেষ্টা দারুণ দক্ষতায় আটকে দেন ইন-ফর্ম মার্ক আন্দ্রে টার-স্টেগান। ৬০ মিনিটে লিওনেল মেসি ও আলকাসারের সহায়তায় ব্যবধান দ্বিগুন করেন সুয়ারেজ। স্টপেজ টাইমে পলিনহো তৃতীয় গোল করলে ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫