ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

ক্রিকেট

গেইল যুগের সমাপ্তি, মাঠ দাপাচ্ছে মেহেদী-রশিদরা

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৯ নভেম্বর ২০১৭,রবিবার, ১১:৫৪ | আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০১৭,রবিবার, ১২:১২


প্রিন্ট
মেহেদী হাসান

মেহেদী হাসান

টি-২০ ক্রিকেট মানেই চার-ছক্কার ধুম। চোখের নিমিষে শেষ হবে ইনিংস। গ্যালারিতে উল্লাসে ফেটে পড়বে দর্শকরা। এই ফর্মেট দাপিয়ে বেড়ানো দুই তারকা গেইল আর ম্যাককালামের কাছে এমনটাই আশা করেছিল ভক্তরা। কিন্তু তার ছিটেফোটাও দেখতে পেলো না বিপিএলের দর্শকরা। উল্টো মাঠ দাপিয়ে বেড়ালেন দুই তরুণ মেহেদী হাসান ও রশিদ খান।

শনিবার সন্ধ্যায় টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন মাশরাফি মতুর্জা। ব্যাট করতে নেমে কুমিল্লা ৬ উইকেটে সংগ্রহ করে ১৫৩ রান।

রংপুর ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই খেই হারিয়ে ফেলে। গেইল-ম্যাককালামদের মতো তারাকারা মাঠে নেমে টি-২০'র স্বাদ দেয়ার আগেই মাঠ ছাড়েন। মেহেদী আর রশিদের ঘূর্ণিতে পড়ে যান তারা।

পাকিস্তানি পেসার হাসান আলির বলে পুল করতে গিয়ে আকাশে তুলেও কিপার লিটন দাসের অমার্জনীয় ব্যর্থতায় শূন্য রানে জীবন পাওয়া গেইল ওই ওভারে তিন বাউন্ডারি হাঁকিয়েও বেশি দুর যেতে পারেননি। রশিদ খানের লেগস্পিনে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়েন গেইল। ১৩ বলে তিন বাউন্ডারিতে ১৭ রানে মাঠ ছাড়েন তিনি।

এক ওভার পরেই নিচু ডেলিভারিতে অস্বস্তিতে ভোগা ম্যাককালাম স্ট্যাম্পড হন অফ স্পিনার মেহেদীর বলে। ১৪ বলে ১৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান গেইল-ম্যাককালাম আউট হওয়ার পরই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে মাশরাফির রংপুর। এরপর লেগস্পিনার রশিদের বলে সুইপ করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন লঙ্কান টপ অর্ডার কুশল পেরেরা। কোনো রান না করেই ফিরেন সাজঘরে।

একই অবস্থা হয় বাঁহাতি শাহরিয়ার নাফীসের। শূন্য রানে মেহেদীর বলে বোল্ড হন।

বিনা উইকেটে ৩১ রান থেকে ৩২ রানে রংপুর হারায় ৪ উইকেট। এরপর রবি বোপারা (৪৮) আর মোহাম্মদ মিথুন (৩১) দলকে বেশি দুর এগিয়ে নিতে পারেননি। ১৩৯ রানে শেষ হয় তাদের ইনিংস। ১৪ রানে জয় পায় কুমিল্লা।

গেইলের পর পোলার্ড

ক্যারিবিয়ন কাইরন পোলার্ড। পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও দুর্বার। বিশেষ করে টি-২০ ক্রিকেটে চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছোটাতে বেশ পটু। ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে ব্যাট হাতে প্রমাণ দিলেন আরো একবার। রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে করলেন ২৫ বলে ৫২ রান। অপরাজিত থাকা পোলার্ড হাঁকিয়েছেন পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কা। এই তিন ছক্কার সুবাদে যেকোনো পর্যায়ের টি-২০ ক্যারিয়ারে ক্রিস গেইলের পর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে পোলার্ড গড়েছেন ৫০০ ছক্কার কীর্তি।

রাজশাহীর বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে পোলার্ডের ছক্কার সংখা ছিল ৪৯৭টি। ৫০০তম ছক্কাটি হাঁকান হাসান আলীর বলে। ১৯.২ ওভারে ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে সীমানার বাইরে বল পাঠান পোলার্ড। এই মাইলফলক ছুঁতে পোলার্ডকে খেলতে হয়েছে ৩৯২টি ম্যাচ। ছক্কার পাশাপাশি চার হাঁকাতেও পটু পোলার্ড। ক্যারিয়ারে মোট চারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯৪। আর ছয়টি চার হলে ৫০০ বাউন্ডারির কীর্তিও হবে তার।

পোলার্ড ৫০০ ছুঁলেও তার চেয়ে বেশ এগিয়ে প্রথম স্থান দখল করে আছেন আরেক ক্যারিবীয় ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল। যেকোনো পর্যায়ের টি-২০ ক্রিকেটে গেইলের ছক্কা ৭৭২টি। সেখানে তার চারের সংখ্যাও ঈর্ষনীয়, ৮০৪টি। পোলার্ডের চেয়েও অনেক কম ম্যাচ খেলে গেইল গড়েন এমন কীর্তি। পোলার্ডের চেয়ে ৮৩ ম্যাচ কম খেলেছেন গেইল। অর্থাৎ ৩০৯টি।

চার-ছক্কার এই তালিকায় গেইল ও পোলার্ডের পর রয়েছেন আরেক মারদাঙ্গা ব্যাটসম্যান নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম। তৃতীয় স্থানে থাকা ম্যাককুলামের ছক্কার সংখা ৩৯৯। আর একটি ছক্কা হলে তিনি স্পর্শ করবেন ৪০০ ছক্কার মাইলফলক। ছক্কা অনেক কম হলেও চারের দিক থেকে ম্যাককুলাম রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। তার চারের সংখ্যা ৭৮৪টি, প্রায় গেইলের কাছাকাছি।

টি-২০ ক্যারিয়ারে গেইল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন ১৮টি, হাফ সেঞ্চুরি ৬৫টি। ম্যাককুলামের সেঞ্চুরি ৭টি, হাফ সেঞ্চুরি ৪৩টি; কিন্তু পোলার্ড একটি জায়গায় শুধু হতাশা ছড়িয়েছেন। কারণ টি-২০ ক্যারিয়ারে পোলার্ডের কোনো সেঞ্চুরি নেই। সর্বোচ্চ রান অপরাজিত ৮৯। তবে ৩৮টি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫