ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

আফ্রিকা

বউয়ের কারণে এমন পরিণতি!

এএফপি

১৯ নভেম্বর ২০১৭,রবিবার, ০৫:৫৮


প্রিন্ট
বউয়ের কারণে এমন পরিণতি!

বউয়ের কারণে এমন পরিণতি!

ফার্স্ট লেডি গ্রেস মুগাবের উচ্চাভিলাষি ও আগ্রাসী স্বভাবের কারণেই জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের পতন হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। গত বুধবার দেশটির ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী। শপিংয়ে প্রচুর অর্থ খরচ করার বদনাম রয়েছে গ্রেস মুগাবের। ভ্রমণসহ সব কিছুতেই বিলাসী জীবন। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল পোশাক, প্রসাধনী, বিলাসবহুল হোটেল ও বিমান ছাড়া চলতো না তার। যার সব কিছ্ইু মেটানো হতো রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কাজে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ নেয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।


তবে মুগাবের চেয়ে বয়সে ৪১ বছরের ছোট গ্রেসের সম্প্রতি নজর পড়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট পদের দিকে। স্বামী মুগাবের ওপর তার প্রভাব ছিল প্রচুর। এমনকি মুগাবেকে সরিয়েই তিনি এই পদে আসতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। আর এটিই জিম্বাবুয়ের সর্বশেষ সঙ্কটের কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।


গত সপ্তাহে ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়াকে বরখাস্ত করে গ্রেসের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ সুগম করেন রবার্ট মুগাবে। তবে তাকে ঠেকাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিল সেনাবাহিনী। এ বিষয়ে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আফ্রিকার বিশ্লেষক শাদরাক গুট্টো বলেন, ‘গ্রেসের কারণেই এই সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে, কারণ তিনি ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিলেন। নিজেকে আরো উপরে নিয়ে যাওয়ার উচ্চাভিলাষ ছিল তার। স্বামীকে ক্ষমতা থেকে সরাতেও পরিকল্পনা করেছিলেন গ্রেস। কিন্তু সেনাবাহিনী ভেবেছে এটি আর চলতে দেয়া যায় না’।


গ্রেসের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের সমর্থক ছিল তথাকথিত জি-৪০ নামে যুবকদের একটি গ্রুপ, যারা বরাবরই আগ্রাসী হিসেবে পরিচিত। এই দ্বন্দ্বে জড়িত ছিল জিম্বাবুয়ের কিছু মন্ত্রীও। থিঙ্কট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান চাথাম হাউজের বিশ্লেষক নক্স চিত্তিয়ো বলেন, ‘সেনাবাহিনী বুঝতে পেরেছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাদের হস্তক্ষেপ করার অধিকার আছে। আগামী মাসে জানু-পিএফ পার্টির কংগ্রেসে গ্রেসকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার আগেই তারা হস্তক্ষেপ করে’। 

মুগাবের পদত্যাগ দাবিতে হারারের সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ

বিবিসি

প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল শনিবার জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারেতে সমবেত হয় হাজার হাজার মানুষ। তাদের এ সমাবেশ উৎসবে রূপ নেয়। তারা মুগাবের শাসন অবসানে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে। সমাবেশ যোগদানকারী জনতাকে সেনাদের জড়িয়ে ধরতেও দেখা যায়। সেনাবাহিনী ও ক্ষমতাসীন দল জানু পিএফ পার্টি এ সমাবেশের আয়োজন করে।

একজন বিবিসি প্রতিনিধিকে বলেন, ‘নতুন দিনের সূচনা হচ্ছে।’ এই বিক্ষোভে জিম্বাবুয়ের ক্ষমতাসীন দল জানু পিএফ পার্টির সমর্থন রয়েছে। গত বছরও যেসব প্রবীণ স্বাধীনতা যোদ্ধা মুগাবেরর অনুগত ছিলেন, তারাও এখন বলছেন, মুগাবের ক্ষমতা ছেড়ে যাওয়া উচিত। হারারে থেকে বিবিসি প্রতিনিধি আরো বলেছেন, এটি পানিসিঞ্চনের সময় এবং মুগাবের আর ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা নেই। সমাবেশে অংশ নেয়া একজন বলেছেন, ‘শান্তিপূর্ণ হস্তক্ষেপের জন্য আমরা আমাদের সেনাবাহিনীর কাছে কৃতজ্ঞ।’ তিনি বলেন, ‘এখন মুগাবের জন্য জিম্বাবুয়ের জনগণের বার্তা হচ্ছে, গতকালের মতো আপনাকে অবশ্যই বিদায় নিতে হবে। আমরা আর তার ফিরে আসা দেখতে চাই না। আমাদের জন্য এটি নতুন যাত্রা। আমরা স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের অবসান চাই এবং জিম্বাবুয়েকে আর পেছনের দিকে ঠেলে দিতে চাই না।’

এর আগে দেশটির ক্ষমতাসীন দল জানু পিএফ পার্টির আঞ্চলিক শাখাগুলো প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবেকে পদ ছেড়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। জানু পিএফ পার্টির উত্তরাধিকার নিয়ে শুরু হওয়া দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনার সূত্র ধরে বুধবার সেনাবাহিনী দেশটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এরপরই ৩৭ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা মুগাবের ‘গৃহবন্দী’ হওয়ার খবর আসে।

দক্ষিণ আফ্রিকার মন্ত্রীদের মধ্যস্থতায় শুক্রবার সকালে গৃহবন্দী দশা থেকে বের হয়ে সাবেক গেরিলা নেতা মুগাবে জিম্বাবুয়ের ওপেন ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে উপস্থিত হন। বিকেলে জিম্বাবুয়ে ডিফেন্স ফোর্সের (জেডডিএফ) পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে শনিবার (গতকাল) হারারেতে মুগাবেবিরোধী ‘সংহতি বিক্ষোভে’ অংশ নিতে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত পরিকল্পিত এই বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল থাকবে, সহিংসতার সৃষ্টি হয় এমন ঘৃণা বা উসকানি থাকবে না ততক্ষণ পর্যন্ত জেডডিএফ এতে সমর্থন দেবে।’

এরপরই জানু পিএফের আঞ্চলিক শাখাগুলো ৯৩ বছর বয়সী মুগাবেকে পদত্যাগের আহ্বান জানায়। তারা দল থেকে তার স্ত্রী গ্রেস মুগাবের পদত্যাগ এবং কেন্দ্রীয় কমিটিতে নানগাওয়াকে পুনর্বহালেরও দাবি জানায়। সপ্তাহ দুয়েক আগে মুগাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট নানগাওয়াকে সরকার ও দল থেকে বহিষ্কারের পরই জিম্বাবুয়েতে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। নানগাওয়াকে একসময় মুগাবের উত্তরসূরি বিবেচনা করা হতো, তাকে বহিষ্কারের পর সে জায়গায় মুগাবের স্ত্রী গ্রেসের নাম চলে আসে, দলের যুব শাখায় যিনি বেশ জনপ্রিয়। গ্রেস-নানগাওয়া দ্বন্দ্বে জানু পিএফ পার্টিও দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে।

এরপরই জিম্বাবুয়ের নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী যারা মুগাবের জায়গায় নানগাওয়াকেই প্রেসিডেন্ট পদে দেখতে চায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। জানু পিএফ পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশও যে এটিই চায় শুক্রবার তাও স্পষ্ট হয়। এদিন আঞ্চলিক শাখাগুলোর বেশ কয়েকজন নেতা টেলিভিশনে মুগাবের পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করে। গতকাল বিক্ষোভে সমর্থন ও অংশ নিতে দলের কর্মীরা একমত বলেও জানিয়েছিল তারা। এ বিষয়ে জানু পিএফ পার্টি এই সপ্তাহের শেষ দিকে কেন্দ্রীয় কমিটির বিশেষ সভা ডাকার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। মুগাবের দীর্ঘ দিনের সমর্থক গোষ্ঠী প্রবীণ গেরিলাদের সংগঠনও তাকে পদ ছেড়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫