বনানী হত্যাকাণ্ড

চার দিনেও রহস্য উদঘাটন হয়নি, ধরা পড়েনি খুনিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বনানীতে রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক সিদ্দিক হোসেন মুন্সি হত্যাকাণ্ডের চার দিনেও ঘটনার রহস্য মেলেনি। পুলিশ বলছে, খুনিদের গ্রেফতারে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যেকোনো সময় জড়িতরা গ্রেফতার হতে পারে। ঘটনাস্থলের কাছে কোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ দেখে খুনিদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতারে রাজধানীবাসীর সহায়তা চেয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানা পুলিশের পাশাপাশি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর) ও র‌্যাব ছায়া তদন্ত করছে।
গত ১৪ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বনানীর বি-ব্লকের ৪ নম্বর সড়কের ১১৩ নম্বর বাড়ির নিচতলায় এস মুন্সি ওভারসিজ নামে একটি রিক্রুটিং এজেন্সির অফিসে দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে হত্যা করে প্রতিষ্ঠানটির মালিক সিদ্দিক হোসেন মুন্সিকে (৫৫)। গুলিতে প্রতিষ্ঠানটির তিন কর্মচারী আহত হন।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তসংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, তদন্ত করতে গিয়ে ঘটনার নেপথ্যে তারা চাঁদাবাজির কোনো প্রমাণ পাননি। তবে সিদ্দিকের সাথে কারো পারিবারিক বা ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ছিল। নিহতের স্ত্রী জোসনা বেগমের দেয়া তথ্যে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানতে পেরেছেন, টাঙ্গাইলের আব্দুস সালাম নামে এক ব্যক্তির সাথে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ছিল সিদ্দিক হোসেনের। তার কাছে সালাম ২০ লাখ টাকাও দাবি করেছিলেন। ওই ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মতিন বলেন, খুনিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে ঘটনার সময় বাইরে আরো কয়েকজন ছিল। তাদেরও শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহজাহান সাজু জানান, নিহতের পরিবারের সদস্য, নিকটাত্মীয়, ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, সিসিটিভির ফুটেজে যাদের দেখা গেছে, তাদের প্রাথমিকভাবে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। খুনের ধরন দেখে মনে হয়েছে পরিকল্পিতভাবেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে এবং খুনিরা পেশাদার।
গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, আহতদের কাছ থেকে জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়েছে। নিহত ব্যবসায়ীর পরিবারের সাথেও যোগাযোগ রাখছেন তদন্তকারীরা। এ ঘটনায় ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী বায়েজিদ বাজি ও অফিস স্টাফ আলী হোসেনকে বনানী থানা হেফাজতে রেখে পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলম জানান, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি চারজনের অংশ নেয়ার বিষয়টি সিসিক্যামেরা ছাড়াও অন্যান্য মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ছাড়া হত্যাকারীদের কে কিভাবে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে সহায়তা করেছে তা জানার চেষ্টা চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সিসিক্যামেরার ফুটেজে হত্যার পর তাদের অবলীলায় হেঁটে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে। হত্যাকারীরা যে পেশাদার, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.