গোমতী ও ডাকাতিয়ায় ড্রেজিং করে নৌ-চলাচলযোগ্য করুন : জাতীয় কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৃহত্তর কুমিল্লাকে সম্ভাব্য পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষায় অবিলম্বে গোমতী ও ডাকাতিয়া নদীকে দূষণ ও দখলমুক্ত করে পুনর্খননের মাধ্যমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে বেসরকারি সংগঠন ‘নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি (এনসিপিএসআরআর)’। সেই সাথে নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নিয়মিত প্রয়োজনীয় ড্রেজিং করে (পলি অপসারণ) এ দুই নদীতে সারা বছর নৌযান চলাচলের উপযোগী নাব্যতা সৃষ্টি এবং ফতুল্লা থেকে মেঘনায় একটি রেলসেতু নির্মাণ করে কুমিল্লার লালমাই পর্যন্ত বিকল্প রেললাইন স্থাপনের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
কুমিল্লা জেলার গোমতী নদীর অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন ও ডাকাতিয়া অববাহিকায় শহরের বর্জ্যদূষণ পরিদর্শন শেষে তারা এ দাবি জানান। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় কমিটির একটি প্রতিনিধিদল গত শুক্রবার দিনভর কুমিল্লার গোমতী ও ডাকাতিয়া নদীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করে। সংগঠনের সভাপতি হাজী মো: শহীদ মিয়ার নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের প্রতিনিধিদলে পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, বিআইডব্লিউটিএর সাবেক পরিচালক এমদাদুল হক বাদশা, কুমিল্লার পরিবেশ আন্দোলনের নেতা ডা: এ বি এম খোরশেদ আলম এবং জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে ছিলেন। পরিদর্শনকালে তারা গোমতী ও ডাকাতিয়া নদী রক্ষায় বৃহত্তর কুমিল্লাবাসীর দাবির সাথে সংহতি প্রকাশ করে টিক্কারচরে গোমতী সেতুর ওপর মানববন্ধন করেন। অন্যান্যের মধ্যে প্রতিনিধিদলে ছিলেন জাতীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সঞ্জীব বিশ্বাস, সহসভাপতি ইফমা হুসেইন, বাংলাদেশ ইনল্যান্ড মাস্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিমা) সভাপতি কাজী আবদুল হক, জসি সিকদার, কাজী হুমায়ুন কবির মিঠু, হীরক পাশা, বাবুল হোসেন, দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার ফটোসাংবাদিক এম ডি নাসিরউদ্দিন ও মো: সুলতান মিয়া।
পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কুমিল্লা শহরের উত্তর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গোমতী নদী থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে এবং এ অবৈধ কাজে একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবাজচক্র জড়িত রয়েছে। জাতীয় কমিটি মেঘনা নদীর বাম তীরে গোমতী সেতুর আশপাশে বালুর স্তূপ দেখতে পায়। এভাবে বালু উত্তোলন উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উজানের পলি ব্যাপক হারে উত্তোলন করে জমি ভরাট কাজে ব্যবহৃত হলে মাটির উপরিভাগের উর্বর অংশ ঢাকা পড়ে যাবে ও উজানের পলি বঙ্গোপসাগরে না যেতে পারলে সাগরে ভূমি পরিবৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যাবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.