ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

তুরস্ক

সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলেন এরদোগান

পার্সটুডে

১৮ নভেম্বর ২০১৭,শনিবার, ১৬:৫৫


প্রিন্ট
সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলেন এরদোগান

সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলেন এরদোগান

মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সামরিক জোটের মহড়া থেকে নিজ দেশের সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরাদোগান। তুরস্কের নেতাদেরকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করার প্রতিবাদে নরওয়েতে চলমান এ সামরিক মহড়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন তিনি।

শুক্রবার তুরস্কের টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে এরদোগান বলেন, ন্যাটোর মহড়ায় তার নিজের ও আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের নাম শত্রু তালিকায় রাখার কারণে তিনি মহড়া থেকে ৪০ জন তুর্কি সেনাকে দেশে ফেরত আনার নির্দেশ দিয়েছেন।

এরদোগান বলেন, বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটেছে এবং এটা দেশের জন্য অপমানজনক। ফলে তিনি সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। এ ঘটনার পর ন্যাটোর মহাসচিব জেন্স স্টোলটেনবার্গ তুরস্কের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘নরওয়ের সামরিক মহড়াস্থল স্ট্যাভেনগার কেন্দ্রে এ ঘটনার কথা আমি জেনেছি এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইছি।’ তিনি দাবি করেন, এ ঘটনা কেউ ব্যক্তিগভাবে ঘটিয়েছে এবং তা ন্যাটোর নীতির প্রতিফলন নয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও স্টোলটেনবার্গ জানান।

পাশ্চাত্যকে অনুসরণ করে কেউ লাভবান হতে পারেনি: এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান মঙ্গলবার সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেওয়ার জন্য ইউরোপ ও আমেরিকাকে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, পিকেকে ও ওয়াইপিজি'র মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি আমেরিকা ও ইউরোপের পক্ষ থেকে সমর্থন দেওয়া হচ্ছে। তারা এই সত্যকে আর ঢেকে রাখতে পারবে না।

এরদোগান বলেন, আমেরিকা সাড়ে তিন হাজার ট্রাক অস্ত্র সিরিয়ায় তৎপর কুর্দিদের হাতে তুলে দিয়েছে। এছাড়া জার্মানি ও ফ্রান্স সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি মিছিল-সমাবেশের মতো ঘটনায় ইন্ধন দিচ্ছে।

এরদোগান আরো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে এমন কাউকে পাওয়া যাবে না যিনি পাশ্চাত্যকে অনুসরণের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নি। এ কারণে ভবিষ্যতে যখন মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের অবসান ঘটবে তখন এই এলাকার মানুষেরাই পরস্পরের পাশে দাঁড়াবে।

সূত্র : পার্সটুডে

ইসলামে উদারপন্থী বা অনুদারপন্থী বলে কিছু নেই, ইসলাম একটাই: এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান পরোক্ষভাবে সৌদি আরবের যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘সৌদি আরবের এ কর্মকর্তা ইসলামি চেতনাকে ধারণ করেন না।’ শুক্রবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরো বলেছেন, 'উদারপন্থি' ইসলাম আর 'অনুদারপন্থি' ইসলাম মূল ইসলামকে দুর্বল করার জন্য পশ্চিমাদের সৃষ্টি করা একটি ধারণা।

গত ২৪ অক্টোবর সৌদি রাজধানী রিয়াদে এক বিনিয়োগ সম্মেলনে যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন, সৌদি আরবকে তিনি 'উদারপন্থি ইসলামে' ফিরিয়ে আনবেন।"
এ প্রসঙ্গে এরদোগান বলেন, ‘উদারপন্থি ইসলামের ধারণা পশ্চিমা দেশগুলো থেকে তৈরি হয়েছে। কিন্তু ইসলামে কোনো উদারপন্থি বা অনুদারপন্থি বলে কিছু নেই; ইসলাম একটাই। এ ধরনের পরিভাষা ইসলামকে দুর্বল করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এখন এই ধারণা যে ব্যক্তি উচ্চারণ করছেন মনে করছি তিনি নিজেই এই ধারণা বিশ্বাস করেন। কিন্তু আপনাকে জানতে হবে এটা আপনার বিষয় নয়।’ এরদোগান এসব কথা বলেছেন তবে যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানের নাম উল্লেখ করেন নি।

সৌদি আরবে ইসলাম যদিও সরকারিভাবে অনুসৃত আদর্শ তবে দেশটির সরকার ওয়াহাবি মতবাদ নামে একটি আদর্শ প্রচারের জন্য আলেমদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকে। এই একই আদর্শ চর্চা করে তাকফিরি সন্ত্রাসীরা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় বর্বরতা চালাচ্ছে।

ইরাক ও সিরিয়ার সব সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংস করা হবে : এরদোগান

ইরাক ও সিরিয়ার প্রতিটি সন্ত্রাসী ক্যাম্প তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনী ধ্বংস করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এরদোগান। শুক্রবার তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলীয় মানিসা প্রদেশে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন।

এরদোগান বলেন, তুরস্ক তার সীমান্ত এলাকা থেকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। উত্তর সিরিয়ায় তুরস্কের সহায়তায় ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মির’ আইএসবিরোধী অভিযান ‘অপারেশন ইউফ্রেটিস শিল্ড’ এর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এরদোগান বলেন, ‘ইরাক ও সিরিয়ায় আমরা যেসব সন্ত্রাসী ক্যাম্প শনাক্ত করেছি তার প্রতিটি ক্যাম্প আমরা ধ্বংস করব।’

চলতি বছর ‘অপারেশন ইউফ্রেটিস শিল্ড’ অভিযানের মুখে টিকতে না পেরে সিরিয়ার জুরাবুলাস ও আল-বাব ত্যাগ করে আইএস। এ ছাড়াও সিরিয়ার শহর ইদলিবেও তুর্কি সেনারা তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশ ও জাতিকে বাঁচিয়ে রাখার চেয়ে আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নয়।’ তিনি বলেন, ইরাক ও সিরিয়ার অনেক স্থানকে সন্ত্রাসীদের গুহা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তুরস্ক অবশ্যই এসব সন্ত্রাসী গুহা ধ্বংস করবে।

তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসীরা যেখানেই থাকুক না কেন তাদের ধ্বংস করা আমাদের মৌলিক অধিকার। এ জন্য কারো কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে না। এরদোগান আরো বলেন, এই অঞ্চলের পরিবর্তনের জন্য সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন ও লিবিয়ার লাখ লাখ মানুষকে মূল্য দিতে হয়েছে।
সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে জার্মানি-তুরস্ক বৈঠক

সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে গতকাল শনিবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন জার্মানি ও তুরস্কের শীর্ষ পর্যায়ের কূটনীতিকেরা। তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় আনাতোলিয়া শহরে অনুষ্ঠিত বৈঠক সম্পর্কে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি সংবাদমাধ্যমে।

বৈঠকে নিজ নিজ দেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মওলুদ কাভুসওগলু ও জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল। বৈঠকের পর টুইটারে বিষয়টি জানিয়েছেন তারা। গত বছর তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পরই দেশ দু’টির মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। অভ্যুত্থান চেষ্টার নিন্দা না করার জার্মানির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তুরস্ক। আর এরদোগান সরকারের জারিকৃত জরুরি অবস্থার সমালোচনা করে জার্মানি মারকেল সরকার। পরবর্তীতে আরো কিছু বিষয় নিয়ে দেশ দু’টির বৈরিতা বেড়েছে।

বৈঠকের পর তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক টুইটার পোস্টে লিখেছেন, ‘অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে সিগমা গ্যাব্রিয়েলের সাথে বিতর্কিত ইস্যু ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করলাম’। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই ধরনের একটি বিবৃতিতে বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। বৈঠকের পর দুই নেতার প্রকাশিত কিছু ছবিতেও দেখা গেছে অনানুষ্ঠানিক সাক্ষাতের ছাপ।

সাইপ্রাস জয়ে পশ্চিমাদের এক বাহু বিচ্ছিন্ন করেছি : এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, সাইপ্রাস জয়ের মাধ্যমে আমরা পশ্চিমাদের এক বাহু বিচ্ছিন্ন করে তাদের প্রতারণার জবাব দিয়েছিলাম। বুধবার তুর্কি পার্লামেন্টে দেয়া ভাষণে এরদোগান এ কথা বলেন।

পশ্চিমা শক্তিকে প্রতারণাপূর্ণ ও কপটাচারী বলে মন্তব্য করেন এরদোগান। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমা শক্তি প্রতারণায় পরিপূর্ণ এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে তারা ক্রমাগত তুরস্কের ওপর নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এবং তুরস্কের বিরুদ্ধে বারবার তারা ভুল পদপে নিচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘তবে এই সমস্যাগুলো তুরস্ক অবশ্যই কাটিয়ে উঠতে সম হবে।’

লিপানতো বা নফপাকটাস যুদ্ধের দুই বছর পরে ১৫৭৩ সালে ভেনিসের রাষ্ট্রদূতের কাছে লেখা সুকুলো মোহম্মদ পাশার চিঠির এক বাণী উদ্ধৃতি করে এরদোগান বলেন, ‘লিপানতোকে পরাজিত করার মাধ্যমে আমাদের নৌবাহিনী সাইপ্রাস জয় করেছিল। সাইপ্রাস জয়ের মাধ্যমে আমরা পশ্চিমাদের এক বাহু বিচ্ছিন্ন করেছিলাম। পান্তরে তারা কেবল আমাদের একটি লোম কাটতে পেরেছিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘যাই হোক, পশ্চিমারা জানে যে, একটি বাহু একবার কাটা হলে তা আর প্রতিস্থাপন করা যাবে না; কিন্তু লোম যত বেশি কাটা হবে তা তত বেশি ঘন হবে।’

নফপাকটাস বা লিপানতোর যুদ্ধ পশ্চিম গ্রিস শহরের ভেনিসীয় নাম ছিল। ১৫৭১ সালের ৭ অক্টোবর এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ভেনিস সাম্রাজ্য ও স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের নৌবহর ওসমানি সালতানাতের নৌবহরের কাছে শোচনীয় পরাজয় বরণ করে। পার্লামেন্টে দেয়া ভাষণে এরদোগান তুরস্কের সব রাজ্য থেকে সন্ত্রাসবাদী ফতহুল্লাহ সংগঠনের (ফেটো) সদস্যদের যাবতীয় প্রতিষ্ঠান নিমূলের অঙ্গীকার করেন।

তিনি বলেন, ‘আইনের সীমার মধ্য থেকে মতাসীন একে পার্টি প্রয়োজনীয় সব কিছুই করবে। এতে আমরা পিছ পা হবো না।’ এরদোগান বলেন, ‘আমরা তাদের রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের প্রক্রিয়া মুছে ফেলব, আমরা এটি পুরোপুরি নির্মূল করব। তাদেরকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়া ছাড়া আমাদের রাষ্ট্র ভালোভাবে কাজ করবে না।’

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫