ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

মধ্যপ্রাচ্য

৫০০ বন্দিকে মুক্তি দিচ্ছে সৌদি আরব, দেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৮ নভেম্বর ২০১৭,শনিবার, ১৬:১৯


প্রিন্ট
৫০০ বন্দিকে মুক্তি দিচ্ছে সৌদি আরব, দেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা

৫০০ বন্দিকে মুক্তি দিচ্ছে সৌদি আরব, দেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা

চলতি মাসের শুরুতে সৌদি আরবে দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে রাজপুত্র, ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীসহ আটক করা হয়েছে ৫০০ এর বেশি ব্যক্তিকে। তবে এখন সম্পদের বিনিময়ে সৌদি আরবে আটক ঐ সমস্ত বন্দী রাজপুত্র ও অভিজাতদের মুক্তি দেয়া হচ্ছে।

শীঘ্রই ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করছেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ। দুর্নীতির অভিযোগে এত ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন আটক রাখা হলে আইনি লড়াইয়ের কারণে দেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে। যা ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্থ করতে পারে।

আটক ব্যক্তিদের তালিকায় রাজপরিবারের সদস্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সেরা ধনী আল-ওয়ালিদ বিন তালাল এবং তার কন্যা প্রিন্সেস রিম বিন তালালের নামও রয়েছে। বন্দীদের রাখা হয়েছে রিয়াদের বিলাসবহুল রিটজ কার্লটন হোটেলে। বন্দীদের অনেকের কাছেই অর্থের বিনিময়ে মুক্তির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

সূত্র : সিএনবিসি

পদত্যাগ করছেন সৌদি বাদশাহ!

সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ আগামী সপ্তাহেই পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। ৮১ বছর বয়সী বাদশাহ পদত্যাগের পর ৩২ বছরের ছেলে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের হাতে ক্ষমতা তুলে দেবেন তিনি।

পদত্যাগের পর বাদশাহ সালমানের ভূমিকা হবে অনেকটা ইংল্যান্ডের রাণীর মতো। তিনি শুধুমাত্র ‘পবিত্র স্থানগুলোর তত্ত্বাবধায়ক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। শুধু আলঙ্করিকভাবে রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে থাকবেন তিনি। কিন্তু সরকারি সকল দায়িত্ব ক্রাউন প্রিন্সের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মোহাম্মদ বিন সালমান সাম্প্রতিক সময়ের এক আলোচিত নাম। নভেম্বরের শুরুতে দুর্নীতি দমন অভিযানের নামে তিনি ৪০ জনেরও বেশি প্রিন্স এবং সরকারের মন্ত্রীকে গ্রেফতার করান। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। গত জুনে ক্রাউন প্রিন্স নির্বাচিত হন। ২০৩০ সালকে লক্ষ্য করে তেল নির্ভরতা কাটিয়ে, পদ্ধতিগত দুর্নীতি থেকে মুক্তি এবং ধর্মীয় কট্টরপন্থা থেকে একটি ‘মডারেট’ সমাজে দেশকে উত্তরণের প্রতিজ্ঞা করেন তিনি।

সৌদিতে ধরপাকড়ের পেছনে এই ভয়ঙ্কর লোক!
সাবেক মিসরীয় স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাবিব আল-আদলির পরামর্শেই সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান সম্প্রতি দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় চালাচ্ছেন। এক অনুসন্ধানে এমনটিই জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।

হোসনি মুবারককে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে আল-আদলি নিষ্ঠুরতার এমন কোনো হাতিয়ার নেই যা প্রয়োগ করেননি। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত তিনি মিসরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। আরব বসন্তে মোবারকের পতনের পর আদলতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি সৌদি আরবে পালিয়ে যান বলে জানা যায়।

এ মাসের শুরুতে ১১ জন প্রিন্স, কয়েকজন মন্ত্রী, ব্যবসায়ীসহ কয়েক শ’ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে গ্রেফতার, বরখাস্তসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি আরব। তবে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচকরা বলছেন, ক্ষমতা কুক্ষিগত করতেই তিনি এই ধরপাকড় চালাচ্ছেন।

আর তার উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন আল-আদলি। কয়েক মাস ধরেই গুজব আছে যে, দুর্নীতির দায়ে কারাদণ্ড হওয়ার পর আদলি সৌদি আরবে পালিয়ে গেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক রিপোর্টে গতকাল বলা হয়েছে, আদলির উপদেষ্টা ও সাবেক এক মিসরীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকে পরামর্শ দিচ্ছেন হাবিব আল আদলি।

আদলি এমন একজন ব্যক্তি যিনি হোসনি মোবারকের শাসন টিকিয়ে রাখতে নৃসংসতা, নির্যাতন ও দুর্নীতির কোনো কিছুই বাদ নেই যা করেননি। আদলির পরামর্শে সৌদি আরবে সাম্প্রতিক ঘটনা ঘটেছে এমন খবরে আশ্চর্য হওয়ার কিছু দেখছেন না মিসরীয় নাগরিকেরা, বিশেষ করে যারা তার ক্ষমতার মেয়াদ দেখেছেন।

১৪ বছরের দায়িত্বকালে মানবাধিকার সংস্থাগুলো আদলি ও তার পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতন, গুম, ভিন্নমত দমনসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনেছে। ২০১১ সালে মোবারকবিরোধী আন্দোলন দমনের সময় কয়েক শ’ বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। ২০১২ সালে গণতান্ত্রিক সরকারের সময় হত্যা দুর্নীতি, মানিলন্ডারিংসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

তবে ২০১৪ সালে বর্তমান স্বৈরশাসক সিসি সরকারের একটি আদালত তাকে খালাস দেয়। ২০১৫ সালে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। চলতি বছর আরেকটি দুর্নীতির মামলা তার সাত বছরের জেল হয়, রায়ের সময় তিনি গৃহবন্দী ছিলেন, কিন্তু এরপরই তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫