ইসলামপুরে এক ব্রিজ ভেঙ্গে দশ গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

খাদেমুল হক বাবুল, ইসলামপুর (জামালপুর)

জামালপুরের ইসলামপুর সদর ইউনিয়নের কাটাখালী খালের ওপর একটি ব্রিজ ভেঙ্গে যাওয়ায় ইউনিয়নটির সড়ক নেটওর্য়াক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গত বন্যায় ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়লেও প্রায় তিন মাসেও বিকল্প কোন ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। ফলে দশ গ্রামের স্কুল-কলেজ পড়–য়া ছাত্রছাত্রীসহ প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ চরম দূর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। মসজিদের মুসুল্লিসহ এলাকাবাসীকে প্রতিদিন খেয়া নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে।
জানা যায়, ইসলামপুর সদর ইউনিয়নের পচাবহলা, পাচবাড়িয়া,ধর্মকুড়া, আলাই পাড়া, ফকিরপাড়া, শংকরপুর, গঙ্গাপাড়া ,নাওভাঙ্গ, আলাই পুর্বপাড়া, পচাবহলা পুর্বপাড়া, উলিয়া, রামভদ্রা ও মেলান্দহের মাহমুদ ইউনিয়নের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ নেটওর্য়াক সৃষ্টি করাসহ উপজেলা সদরের সাথে সড়ক যোগযোগ স্থাপনের লক্ষে ২০০১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পচাবহলা-কাচিহারা সড়কের কাটাখালী খালের ওপর ৭০ মিটার দৈর্ঘ্য একটি ব্রিজ নির্মাণ করে ছিলো। এ বছর বন্যায় ব্রিজটি ভেঙ্গে লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ায এ অঞ্চলের মানুষদের দূর্ভোগ চরমে উঠেছে।
বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রিজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় স্কুল-কলেজ পড়–য়া ছাত্রছাত্রীসহ এলাকার মানুষ প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। ব্রিজটি ভাঙ্গা কারণে কাচিহারা গ্রামের মসজিদটি ওই পাড়ে পড়ায় মসজিদের মুসুল্লিরাও চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। তাদের দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে খেয়া পার হতে হয়।
কাচিহারা গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা জাসদ (ইনু) সভাপতি লুৎফর রহমান জানান- ব্রিজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় সদর ইউনিয়নের সড়ক নেটওর্য়াকই ভেঙ্গে পড়েছে। পচাবহলা জামেদালী দাখিল মাদরাসার শিক্ষক শেখ মমতাজ আলী জানান- ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ায় দীর্ঘ প্রায় তিন মাস ধরে আমাদের ছাত্রছাত্রীদের প্রতিষ্ঠানে আসতে সমস্যা হচ্ছে। ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল অবেদীন বলেন- দীর্ঘ সময়েও বিকল্প কোন ব্যবস্থা না হওয়ায় শিক্ষার্থীরাসহ এলাকার হাজার হাজার মানুষ চরম দূর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ- নিম্নমানের কাজের কারণে সামান্য ¯ মাত্র ১৭ বছর সময়ে ব্রিজটি ভেঙ্গে তছনছ হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আহসান আলী বলেন- এ বছর ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। বন্যার পানির প্রবল স্রেতে ব্রিজটি ধসে পড়েছে। ওই স্থানে আরো একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য উপরি মহলে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.