ঢাকা, সোমবার,১১ ডিসেম্বর ২০১৭

মধ্যপ্রাচ্য

‘ইরানকে রুখতে’ সৌদি-ইসরাইল গোয়েন্দা সহযোগিতা!

আলজাজিরা

১৮ নভেম্বর ২০১৭,শনিবার, ০৬:০২


প্রিন্ট
‘ইরানকে রুখতে’ সৌদি-ইসরাইল গোয়েন্দা সহযোগিতা!

‘ইরানকে রুখতে’ সৌদি-ইসরাইল গোয়েন্দা সহযোগিতা!

ইরানকে মোকাবেলা করতে সৌদি আরবের সাথে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন ইসরাইলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গাদি এইসেনকট। সৌদি সংবাদমাধ্যম এলাফকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন তিনি। প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে আলজাজিরা বলেছে, দুই দেশের আঞ্চলিক বৈরিতায় সৌদিকে খুব কাছ থেকে সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ইসরাইলি সেনাপ্রধান।

সাক্ষাৎকারে এইসেনকট ইরানের বিরুদ্ধে এই অঞ্চলে জঙ্গিগোষ্ঠীকে সমর্থন দেয়ার অভিযোগ এনে। মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার রোধে এখনই ইরানকে থামাতে হবে মত দিয়েছেন। সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক কোনো সম্পর্ক না থাকায় এই সাক্ষাৎকারটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। তবে ইসরাইলের সেনাসূত্র সাক্ষাৎকারটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। আলজাজিরাকে সাক্ষাৎকারটির ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন জেরুসালেম পোস্টের সামরিক প্রতিনিধি। আন্না আহরোনহেইম নামের ওই প্রতিনিধি জানান, তেল আবিবে এক ইসরায়েলি দ্রুজ সাংবাদিক সাক্ষাৎকারটি নেন। এইসেনকট কোনো ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমকেও সাক্ষাৎকার দেন না উল্লেখ করে আহরোনহেইম বলেছেন, ‘নিশ্চয় এইসেনকটের জন্য বিরাট পদক্ষেপ।’

আহরোনহেইম বলেছেন, বিষয়টি অদ্ভুত হলেও দু’টি দেশ ইরানের ব্যাপারে একে অপরকে সহযোগিতা করবে। ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার আভাস দিলেও এখনই ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লেবাননে হামলা চালাবেন না সাক্ষাৎকারে জানান ইসরাইলি সেনাপ্রধান।

এ বছরের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ইসরাইল বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সৌদি আরবকে। গত জুনে ইসরাইলের ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশন মন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ বলেন, পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়তে রিয়াদে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আমন্ত্রণ জানান সৌদি বাদশাহ সালমান। কাৎজ আরো বলেন, বাদশাহ সালমানেরও উচিত তার ছেলে মোহাম্মেদ বিন সালমানকে তেল আবিবে পাঠানো।

সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলা তদন্তে মস্কোর ভেটো

বিবিসি

সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলা নিয়ে জাতিসঙ্ঘের করা একটি তদন্তের সময় এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া প্রস্তাবে মস্কো ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে। সিরিয়ায় সংঘর্ষ শুরুর পর নিরাপত্তা পরিষদে দেশটির বিভিন্ন বিষয়ে আসা প্রস্তাবগুলোতে এটি রাশিয়ার দশম ভেটো।

রাশিয়ার এ অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছে ওয়াশিংটন। জাতিসঙ্ঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেছেন, সিরিয়ায় পরবর্তী রাসায়নিক হামলা ঠেকাতে জাতিসঙ্ঘের পদক্ষেপ বাধাগ্রস্ত করল রাশিয়ার এ ভেটো। ‘কাউন্সিলের সংখ্যাগরিষ্ঠের সম্মতি থাকলেও রাশিয়া এ তদন্তপ্রক্রিয়াকে হত্যা করল,’ বলেন তিনি। রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

তদন্তের সময় বৃদ্ধি করতে এর আগে রাশিয়াই একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছিল, ওই প্রস্তাবে খান শাইখুনে রাসায়নিক হামলা বিষয়ে বাশার সরকারের বাহিনীর সম্পৃক্ততা নিয়ে তথ্য নতুন করে খতিয়ে দেখার প্রস্তাব এবং তদন্তদলের সদস্য পরিবর্তনের কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির মুখে মস্কোর প্রস্তাব গৃহীত হয়নি।

সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলায় কারা জড়িত তা খুঁজে দেখতে ২০১৫ সাল থেকে জাতিসঙ্ঘের বিভিন্ন সংস্থা ও রাসায়নিক অস্ত্রবিরোধী বিভিন্ন সংস্থা মিলে এ তদন্ত করছে। গত বছর যৌথ এ তদন্তপ্রক্রিয়ার মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধির প্রস্তাবেও সম্মতি জানিয়েছিল রাশিয়া। এপ্রিলে খান শাইখুনে রাসায়নিক গ্যাস হামলার জন্য তদন্তদল বাশারকে দায়ী করার পর থেকে মস্কো এই তদন্তের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ জানিয়ে আসছে।

ওই হামলায় অন্তত ৮০ জন নিহত হয়। হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে হামলাও চালায়।

আসাদ রাসায়নিক হামলার অভিযোগকে পশ্চিমাদের ‘বানানো ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন। শাইখুনে হামলা ছাড়াও সিরীয় বাহিনী ২০১৪ সাল থেকে ২০১৫ পর্যন্ত বিরোধীদের ওপর তিনবার ক্লোরিন হামলা চালিয়েছিল বলেও অভিযোগ তদন্তদলের।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫