সফল কোচ সফল রেফারি

রফিকুল হায়দার ফরহাদ

আন্তর্জাতিক ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ। এমন মহা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাঁশি বাজানোর সুযোগটা যোগ্যতার সাথে ভাগ্যেরও ব্যাপার। এমন সুযোগ কমই পেয়েছেন বাংলাদেশের রেফারিরা। ২০১৩ সালে সাফের ফাইনালে এই দায়িত্ব বর্তায় তৈয়ব হাসানের ওপর। এ বছর নেপালে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলের ফাইনালেও ছিলেন বাংলাদেশের রেফারি। নাম জি এম চৌধুরী নয়ন। দুই পুরুষ বাংলাদেশী রেফারির সাথে আরেক বাংলাদেশী মহিলাও এই কৃতিত্বের মালিক। তিনি জয়া চাকমা। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ মহিলা রিজিওনাল ফুটবলে ফাইনালে ইরান ও ভারতের খেলায় মূল রেফারি ছিলেন তিনি। এই টুর্নামেন্টে গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। যেহেতু লাল-সবুজদের উপস্থিতি ছিল ফাইনালে তাই শিরোপার নির্ধারণী ম্যাচে আর বাঁশি বাজানোর সুযোগ দেয়া হয়নি জয়া চাকমাকে। ‘তবে সেমিফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বাঁশি বাজিয়েছি’। জানান জয়া। তার এখনকার পরিচয় শুধু রেফারি হিসেবেই নয়। পাশাপাশি ফুটবল কোচও। তাও আবার সফল মহিলা কোচ। তার কোচিংয়েই এবার সেপ্টেম্বরে ভারতের সুব্রত কাপ ফুটবলে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বিকেএসপি অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা দল। বাংলাদেশের কোনো মহিলা কোচের অধীনে কোনো দলের আন্তর্জাতিক আসরে শিরোপা জয়ের ঘটনা এই প্রথম। এএফসির ‘সি’ লাইসেন্সধারী কোচ তিনি।
ফুটবলে বাংলাদেশ পুরুষ দল এশিয়া দাবড়িয়ে বেড়াতে না পারলেও রেফারিরা এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বকাপ পর্যন্ত গিয়েছেন। সহকারী রেফারি মাহাবুবুর রহমান ২০০৩ সালে ফিনল্যান্ডে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে খেলা চালিয়েছিলেন। তৈয়ব হাসান তো এএফসির এলিট প্যানেলে ছিলেন লম্বা সময়। তবে বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দলের সাফল্যের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে মহিলা রেফারিও। জয়া চাকমাই এর প্রমাণ। তার সাথে শ্রীলঙ্কা ও নেপালে সহকারী রেফারি হিসেবে খেলা চালান সালমা আক্তার। জয়া এখন ন্যাশনাল রেফারি। আগামী বছর ফিফা রেফারি হওয়ার জন্য পরীক্ষা দেবেন। পাস করলে জয়াই হবেন দেশের প্রথম মহিলা ফিফা রেফারি। একই সাথে এবার অংশ নিয়েছেন এএফসি ‘বি’ লাইসেন্স কোচিং কোর্সের প্রথম পর্বে। আগামী বছর এর দ্বিতীয় পর্বও।
২০১১ সালে রেফারিংয়ে আসেন জয়া। কোচিংয়ে যাত্রা শুরু ২০১৩-তে। সে বছরই পান ‘সি’ লাইসেন্স। গত বছর বিকেএসপিতে চাকরি নেন মহিলা ফুটবল কোচ হিসেবে। দায়িত্ব নিয়েই প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে সাফল্য। পাঁচ ম্যাচের সবগুলোতে অপরাজিত থেকে শিরোপা নিয়ে ভারত থেকে দেশে ফেরা তার দলের।
জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে মাস্টার্স করা রাঙ্গামাটির মেয়ে জয়া চাকমার আসল পরিচয় তিনি একজন ফুটবলার। জয়ার দেয়া তথ্য, ‘২০০৫ সালে ফুটবলে এসে জাতীয় দলে ডাক পাই ২০০৭ এ। মিডফিল্ড পজিশনে লাল-সবুজ জার্সি গায়ে দিয়েছি ২০১২ সাল পর্যন্ত। সব সময়ই খেলার সুযোগ হয়েছে বদলি হিসেবে।’ ২০১২ তে সাফ দলে জায়গা হয়নি তার। এরপর থেকেই জাতীয় দলের বাইরে। ততদিনে রেফারিং শুরু করে দেন। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কা, ২০১৫ তে নেপাল ও জার্মানি এবং ২০১৬ তে তাজিকিস্তান সফর করেন রেফারিং করতে। জার্মানির ফুটবল ফেস্টিভালে তিন বিদেশী রেফারির একজন ছিলেন জয়া। অন্য দু’জন এসেছিলেন জর্জিয়া ও আফ্রিকার দেশ বেনিন থেকে। ডিসেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা ফুটবলেও রেফারিং করবেন তিনি। সেপ্টেম্বরে ভারতের সুব্রত কাপেও সেরা কোচের পুরস্কার দখল করে পকেটে তোলেন ৪০ হাজার রুপি অর্থ পুরস্কার। ২০১৩-তেই গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃবিভাগ ফুটবলে কোচ ছিলেন সব দলের। কোচ হিসেবে অভিষেক তখনই। এখন কি হিসেবে পরিচয় দেবেন জয়া, রেফারি নাকি কোচ? জয়ার উত্তর, এটা বলা কঠিন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.